Blog Post

স্কুল গ্রন্থাগারিকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা

আবিদ হাসান

বাংলাদেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই একটি গ্রন্থাগার আছে, হোক সেটা বড় কিংবা ছোট। গ্রন্থাগারের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই একজন সহকারি গ্রন্থাগারিক পদটি স্টাফভূক্ত করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সাল থেকেই এই পদটি মাধ্যমিকে সৃষ্টি করলেও মাদ্রাসা ও কলেজে তা পূর্ব থেকেই ছিল।স্কুল গ্রন্থাগারিকদের সমস্যা ও সম্ভাবনা

মাধ্যমিক লেভেলে একটি ইংরেজি প্যারাগ্রাফ আমরা সবাই পড়েছি সেটি হলো Our School Library বা আমাদের বিদ্যালয় গ্রন্থাগার,এটি পড়তে গিয়ে আমরা সবাই পড়েছি একজন গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য, স্কুল গ্রন্থাগারিক জ্ঞান বিতরণ করেন, জ্ঞান বিতরণে সহায়তা করেন, নতুন নতুন বই পড়তে অনুপ্রেরণা দেন ইত্যাদি। একটি বিদ্যালয়ের স্টাফ হয় দুই ধরনের একটি হলো টিচিং স্টাফ অন্যটি হলো নন টিচিং স্টাফ। নন টিচিং স্টাফের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “নন টিচিং স্টাফ বলতে বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে বুঝায়” । পক্ষান্তরে, টিচিং স্টাফ বলতে যারা শিক্ষক, যারা সরাসরি শিক্ষাদানে জড়িত তাদের বুঝায়। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে ২০১৩ সালের ৫ মে বলা হয়েছে সহকারি গ্রন্থাগারিকদের নন টিচিং স্টাফ থেকে বাদ দেওয়া হলো। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য সেখানে এটিও বলা হয়নি যে সহকারী গ্রন্থাগারিকদের টিচিং স্টাফে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। সাধারণত নন টিচিং স্টাফ থেকে বাদ দিলে টিচিং স্টাফেই পড়ে সহকারী গ্রন্থাগারিকগণ। ২০১৩ সাল থেকে টিচিং স্টাফ বিবেচনা করে সহকারি গ্রন্থাগারিকগণ শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের ভোটও দিয়ে আসছেন, আবার অনকেই বা টিচার্স রিপ্রেজেনটেটিভ (টি আর) হয়েছেন, আমি নিজেও আমার স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি বা টি আর ছিলাম। মূলত ০১/০১/২০১৭ সালে অপ্রত্যাশিত একটি কালো আইন জারী হয় সহকারি  গ্রন্থাগারিকদের উপর, যেটাকে অনেকেই বলে থাকেন মরার উপর খরার ঘাঁ। ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান হাইকোর্টে রীট করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক কেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য বা (টি আর) হতে পারবেন না? হাইকোর্ট মাহবুবুর রহমানের রুলের জবাব দিতে গিয়ে বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, সহকারি গ্রন্থাগারিক, অফিস সহকারি বা খন্ডকালীন শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য হতে পারবেন না। তারপর থেকেই সহকারি গ্রন্থাগারিকদের পরিচালনা পরিষদের ভোটার করা হয়না, কোনো কোনো স্কুলে সহকারি গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষক হাজিরা খাতায় হাজিরা দিতে দেয়না প্রতিষ্ঠান প্রধান, আবার অনেক স্কুলে শিক্ষক হাজিরা খাতায় নাম নেয় প্রতিষ্ঠান প্রধান। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেলিড জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে,বাংলাদেশ বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ সম্মিলিত গ্রন্থাগার পেশাজীবী জোট ও বেলিডের আয়োজনে জাতীয় শহীদ মিনারের সামনে প্রতীকী অনশন পালন করা হয় এবং দাবী তোলা হয় সহকারি গ্রন্থাগারিকদের সহকারি শিক্ষক সম পদমর্যাদা দেওয়ার জন্য,এই নিউজ জাতীয় পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আসে।


শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে ২০১৩ সালের ৫ মে বলা হয়েছে সহকারি গ্রন্থাগারিকদের নন টিচিং স্টাফ থেকে বাদ দেওয়া হলো। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য সেখানে এটিও বলা হয়নি যে সহকারী গ্রন্থাগারিকদের টিচিং স্টাফে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। সাধারণত নন টিচিং স্টাফ থেকে বাদ দিলে টিচিং স্টাফেই পড়ে সহকারী গ্রন্থাগারিকগণ।


তারপর, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান যিনি প্রজ্ঞাপন জারী করেছিলেন তার সাথে যোগাযোগ করা হয়, তৎকালীন ডিজি মহোদয় ও সাবেক শিক্ষা সচিব মহোদয়ের সাথে ও যোগাযোগ করা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সমিতি ও ল্যাবের মাধ্যমে, এমনকি সাবেক সাংসদ গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের একমাত্র এমপি আক্তার জাহান মহান সংসদেও এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন,সর্বশেষ বেলিডের এক আবেদনে স্কুল- কলেজের সহকারি গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষক মান বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি মিটিং এ আলোচনার জন্য এজেন্ডাভূক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক নেতাদের বিরোধীতায় এটি আর আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ কোনো উপায় না পেয়ে বাংলাদেশ বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সমিতি কেন্দ্রীয় মিটিং করে সিদ্বান্ত নেওয়া হয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল সহকারি গ্রন্থাগারিক মিলে একটি রীট করা হবে, এই রীটে সবার সার্বিক সহযোগীয় পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ বিদ্যালয় গ্রন্হাগার সমিতির সভাপতি এ এফ এম কামরুল হাসানের নেতৃত্বে ১৮ জন বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রীট করা হয়। এই রীটের প্রাথমিক শুনানির পর রুল জারি করে জবাব চাওয়া হয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাউশি ডিজি ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিবকে কেন সহকারি গ্রন্থাগারিকেরা শিক্ষক সমমর্যাদা পাবেনা। এ বিষয়ে জবাব দিতে চার সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়। চার সপ্তাহ সময়ের ভিতরে কোনো জবাব না দেওয়ায় রীটকারীগণ চূড়ান্ত শুনানির জন্য তালিকা ভূক্ত করেন, কিন্তু কোভিড ১৯ এর কারণে কোর্ট বন্ধ হওয়ায় মামলা স্থবির ছিল। আর এক মাসের ভিতরেই চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রীটে আমরা ডকুমেন্টস হিসেবে দেশি এবং বিদেশি অসংখ্য তথ্যদিয়ে সাজিয়েছি, আশাকরি রীটকারিদের পক্ষেই রায় হবে।


  • লেখকঃ আবিদ হাসান
  • যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সমিতি সিলেট বিভাগীয় করেসপন্ডেন্ট, লাইব্রেরিয়ান ভয়েস।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close