শিক্ষাব্যবস্থা একটি জাতির আশা-আকাঙ্খা রুপায়ণ ও ভবিষ্যৎ সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেরও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ উচ্চশিক্ষার পাদপীঠ হিসেবে পরিগণিত। আমাদের জাতীয় জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার স্থান ও গুরুত্ব অপরিসীম। উচ্চশিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নকল্পে ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট এর মাধ্যমে ঐ বছরে বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দ্বার উন্মেচনে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মাইল ফলক।

আজকের এ আধুনিক যুগে গ্রন্থাগার সার্ভিসকে অত্যাবশ্যকীয় বলে ধরা হয়। উন্নত ও মান সম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গ্রন্থাগারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তবে বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠানও বটে।‘গ্রন্থাগার’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। তবে জ্ঞান ও তথ্য সম্পদ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের জন্যই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা শিক্ষার মৌল উদ্দেশ্যের সঙ্গে অভিন্নভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রত্যেক দেশেই স্কুল ও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গ্রন্থাগার স্থাপনের বিষয়টিও অত্যাবশক হিসেবে বিবেচিত। কারণ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলেই সঙ্গে ‘গ্রন্থাগার’ স্থাপন করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর উচ্চশিক্ষা পর্যায় বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়। উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন লক্ষা ও উদ্দেশ্যের মধ্যে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টরের জন্য বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টিই প্রধানতম। উচ্চশিক্ষার এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও তথ্যসেবার মাধ্যমে গ্রন্থাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিক ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ছাড়া উচ্চশিক্ষার গুণগতমান অর্জন করা কোনো দিন সম্ভব নয়। যদি সত্যিকার অর্থে আধুনিক গ্রন্থাগারসেবা সুনিশ্চিত করা না যায়, তাহলে নতুন কোন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন নয়, একটি নতুন বিভাগ স্থাপন করলে শিক্ষা কার্যক্রমের কোনোই ক্ষতি হবে না, কিন্তু ক্ষতি হবে যদি গ্রন্থাগার সার্ভিসকে বা গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনাতে অবহেলা করা বা কম গুরুত্ব দেয়া হয়। তদুপরি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ গ্রন্থাগার সার্ভিসকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত বলে দেশের শিক্ষিত ও সুশীল সমাজ মনে করেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিকথা:

উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনেক দেশে বহু আগেই বিকাশ লাভ করলেও বাংলাদেশে এর প্রচলন একটি সাম্প্রতিক ঘটনা। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা দানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের একতরফা ভূমিকা ছিল। ১৯৯৩ সালে অবধি বেসরকারি খাতে যে ভালো মানের উচ্চশিক্ষা প্রদান করা সম্ভব তা হাতে গোনা মাত্র অল্প কিছু সংখ্যক লোক বিশ্বাস করতেন। সেই নিরিক্ষে ১৯৯৬ সালে সরকার অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটরা পাস করার পর পরই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বেতনে চাকরি পায়। যে সব কারণে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ ঘটেছিল, সেগুলির মধ্যে দু’টি কারণ প্রণিধানযোগ্য – (ক) উচ্চশিক্ষার বর্ধিত চাহিদা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পক্ষে মেটানো সম্ভব নয় এবং (খ) সরকারি তহবিলের অভাব অর্থাৎ দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদা পূরণে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, সরকারের পক্ষে বাজেটে তা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হওয়া, এসব কারণ বিবেচনায় উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূবণে সরকারের প্রচেষ্টার পরিপূরক ভূমিকা পালন করতে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ আইনগত উস্মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ (১৯৯৮-এ সংশোধিত) পাস করে। এই আওতায় যে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এবং ট্রাস্ট বা ফাউন্ডশনের মতো জনহিতৈষী সংগঠন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন উল্লেখিত শর্ত পূবণ সাপেক্ষে নিজস্ব অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ পাবে। এ আইন পাস হওয়ার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে বেসরকারি খাতে বেশ কটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।


যে সব কারণে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ ঘটেছিল, সেগুলির মধ্যে দু’টি কারণ প্রণিধানযোগ্য –

(ক) উচ্চশিক্ষার বর্ধিত চাহিদা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পক্ষে মেটানো সম্ভব নয় এবং

(খ) সরকারি তহবিলের অভাব অর্থাৎ দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদা পূরণে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, সরকারের পক্ষে বাজেটে তা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হওয়া, এসব কারণ বিবেচনায় উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূবণে সরকারের প্রচেষ্টার পরিপূরক ভূমিকা পালন করতে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ আইনগত উস্মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ (১৯৯৮-এ সংশোধিত) পাস করে।

ধারণা করা হয়েছিল যে,১৯৯২ ও ১৯৯৮-এর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন মানের নিশ্চয়তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন,সমাজসেবা ও সুশাসন এর মতো বিষয়গুলির সাথে সঙ্গতি ছিল না। ফলশ্রুতিতে জাতীয় সংসদ ১৯৯২ সালের আইনটি বাতিল করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ পাস করে। সুশাসন ও উন্নততর ব্যবস্থাপনায় নিশ্চিত করার জন্য নতুন আইনে ট্রাস্টি বোর্ড, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কমিটি, কারিকুলাম কমিটি, অর্থ কমিটি, শিক্ষক নিয়োগ কমিটি ও সুশৃঙ্খল কমিটির মতো কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ কমিটি গঠনের ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শাস্তির বিধান সংযোজন করা হয়েছে।


সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় উৎসাহিত হয়েছিল।যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত সংখ্যা ও ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধির মুখে প্রতিষ্ঠাতাদের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় অব-কাঠামোগত ও আর্থিক সম্পদ যথাসময়ে যোগান দিতে হিমসিম খেতে হয়েছিল। ফলে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনপযুক্ত পরিবেশে ভাড়া বাড়িতে ক্লাস চালাতে হয়েছিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এ বেঁধে দেওয়া পাঁচ বছর সময়সীমার মধ্যে কেউই নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে পারেনি। এ ছাড়া শিক্ষক,সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব, গ্রন্থাগার এবং শিক্ষা সহায়ক উপকরণসহ অন্যান্য সম্পদের অভাব ছিল। নিম্নমানের ও শিক্ষা কার্যক্রম বিবর্জিত নামসর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পরিচালনা বন্ধ করে একটি উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সরকার ঘুরে দাঁড়াবার সিন্ধান্ত গ্রহণ করে। ধারণা করা হয়েছিল যে,১৯৯২ ও ১৯৯৮-এর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন মানের নিশ্চয়তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন,সমাজসেবা ও সুশাসন এর মতো বিষয়গুলির সাথে সঙ্গতি ছিল না। ফলশ্রুতিতে জাতীয় সংসদ ১৯৯২ সালের আইনটি বাতিল করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ পাস করে। সুশাসন ও উন্নততর ব্যবস্থাপনায় নিশ্চিত করার জন্য নতুন আইনে ট্রাস্টি বোর্ড, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কমিটি, কারিকুলাম কমিটি, অর্থ কমিটি, শিক্ষক নিয়োগ কমিটি ও সুশৃঙ্খল কমিটির মতো কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ কমিটি গঠনের ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শাস্তির বিধান সংযোজন করা হয়েছে। এই সংবিধিবদ্ধ কমিটিগুলির গঠন, কার্যাবলি ও ক্ষমতা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহের বিবরণ ২০১০ সালের আইনে বর্ণিত রয়েছে। এ সকল কমিটিতে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এই নতুন আইনে ভাইস-চ্যান্সেলরকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী এবং একাডেমিক অফিসার করা হয়েছে।এই আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং তিনিই বোর্ড অব ট্রাস্টির সুপারিশক্রমে ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারারকে নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ার রাখে।

সরকারের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও মনিটর করে থাকে। ইউজিসির সুপারিশক্রমেই সরকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দান করে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইউজিসি অনুমোদিত নিজস্ব কোনো কারিকুলামসহ সকল একাডেমিক ও ডিগ্রি প্রোগ্রাম অবশ্যই থাকতে হবে। ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিকট থেকে যে সকল তথ্য প্রয়োজনবোধ করেন তা শর্ত অনুযায়ী প্রদান করতে বাধ্য। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিকাশের সূত্র ধরে উচ্চ শিক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবনতার হার কমে আসছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা এভাবে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। ভাবিষ্যত দেশে বিশ্বমানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার প্রসার ঘটবে। তাই উচ্চশিক্ষার ক্রমবর্ধমান জাতীয় চাহিদা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বাদ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার:

বিশ্ববিদ্যালয় হলো আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় কেবলমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গবেষণা প্রতিষ্ঠানও বটে। শিক্ষা ও গবেষণা কর্মকে সহায়তা করা ও জাতীয় শিক্ষার মানোন্নয়ন করে ক্রমাস্বয়ে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়াই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উদ্দেশ্য। জ্ঞানর্চ্চাকে নব নব আবিস্কারের মাধ্যমে মানব কল্যাণে নিয়োজিত করা বিশ্ববিদ্যালের প্রধান কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে সফল করা।এরই নিমিত্তে ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকদের সর্বোচ্চ তথ্য সেবা দেওয়ার জন্য সদা নিয়োজিত।

অলস্কারিকভাবে গ্রন্থাগারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদপিন্ড বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিকগণ প্রতিষ্ঠানের পলিসি কাউন্সিল থেকে দূরে অবস্থান করেন। গ্রন্থাগারটির অব-কাঠামোগত ও ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতীকীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রে অবস্থান করলেও বাস্তবতায় গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিকগণ সম্বন্ধে ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন।সন্দেহাতীতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার শিক্ষা জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তদুপরি, বিদ্যমান কিছু কারণে এর গুরুত্ব লঘুতর হচ্ছে। অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানগণ। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা-ব্যক্তিগণ গ্রন্থাগারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে একটি সহজ, নামমাত্র ও গুরুত্বহীন উপবিভাগ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। এ প্রসঙ্গে উন্নত জীবন গ্রন্থের লেখক লৎফুর রহমান বলেছেন,“সব সময় উন্নত চিন্তা করুণ ও তরল চিন্তা থেকে বিরত থাকুন এবং গ্রন্থাগার মুখী হউক। আমরা জানি যে জাতি যত বেশি উন্নত সে জাতির গ্রন্থাগারগুলো তত বেশি উন্নত। আমরা অন্যভাবে বলতে পারি যে দেশের গ্রন্থাগার যত বেশি উন্নত সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ততই বেশি উন্নত।

আধুনিক বিশ্ব সৃষ্টির শুরু থেকেই জ্ঞান অর্জনের জন্য গ্রন্থাগারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ডঃ কুদরত-এ-খুদা প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারকে হৃদপিন্ডের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার অবস্থা আশাব্যঞ্জন নয়। তাই দেশের সুশীল সমাজ মনে করে যে, সমাজের বিত্তমান ব্যক্তিদের চিন্তা-ভাবনা উন্নত হতে হবে। গ্রন্থাগার সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা থাকতে হবে। আসলে গ্রন্থাগার কী? এবং কী কারণে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয় ইত্যাদি।এখানে কিছু কথা না বললেই নয়, যে দেশে গ্রন্থাগারের মূল্য নেই, সে দেশে গ্রন্থাগারিকের মূল্য কীভাবে আশা করা যায়।আমাদের পুরোন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।

লিনচ এর ব্যাখ্যায় গ্রন্থাগার সম্পর্কে বলেছেন যে, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানগণ গ্রন্থাগারের জন্য স্বল্প বাজেট বরাদ্দে ভালভাবেই প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাঠামোগত বিবেচনায় গ্রন্থাগারকে বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই ছোট স্থান দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারকে অবশ্যই পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও বাজেট দেয়া উচিত যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়। বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারটি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রে অবস্থিত হতে হবে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সমগ্র ব্যবস্থাপনার আনাগোনা থাকবে এবং একে অপরের সান্নিধ্য লাভ করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারের ভূমিকা ও গুরুত্বকে অবহেলা করা এবং গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীকে এর প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান তথ্যসেবা যোগানে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তাকে অবজ্ঞা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারসেবাকে অকার্যকর ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত করবে। তদুপরি, গ্রন্থাগারসেবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ বিধায় গ্রন্থাগারসেবায় উল্লিখিত ঘাটতিসমূহ বাহ্যত দৃশ্যমান হবে।

উচ্চশিক্ষায় গ্রন্থাগারিকের প্রয়োজনীয়তা:

উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক কম্যুনিটিতে গ্রন্থাগারিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রশ্ন আসতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার বা গ্রন্থাগারিক কেন প্রয়োজন? এখানে শুধু গ্রন্থাগারিকের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ও বর্ধিত চাহিদার নিরিখে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তাকে মাথায় রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে গ্রন্থাগারকে চতুর্থ গন্তব্য হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিহিত করা হয়েছে। একইভাবে ষষ্ঠ গন্তব্য হলো জীবনব্যাপী পড়াশোনা করো। এই দুই জাতীয় গন্তব্যকে একত্র করলে একটি জাতীয় পদের গুরুত্ব অনুধাবিত হয় এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তাও উপলদ্ধি করা যায়। বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিকের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গভীরভাবে অনুভূত হয়। যা নিন্মে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিকের প্রয়োজনীয়তা বিশদ আলোচনা করা হলো-

১. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষের প্রস্তুতি, জ্ঞান সৃষ্টি, শিক্ষা ও তথ্য সরবরাহ, সংস্কৃতি এবং গবেষণায় গ্রন্থাগারিক প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও গ্রন্থাগারে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ এবংশিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য আনয়নে গ্রন্থাগারিকের অবদান অনস্বীকার্য।

২. বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরুনোর পর গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীরা যাতে জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধানে কার্যকর থাকতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে গ্রন্থাগারিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

৩.বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান একাডেমিক কারিকুলামকে সহায়তা করার জন্য গ্রন্থাগারিক প্রয়োজনীয় সংগ্রহ গড়ে তোলে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সেবা নিশ্চিত করতে একজন গ্রন্থাগারিক সর্বদা সচেষ্ট থাকেন।

৪. ব্যবহারকারীরা যাতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ-কর্মে অংশগ্রহণ করতে পারে, শিক্ষার্থীরা কোন জনকল্যাণমূলক কাজ করতে পারে, সেদিকে দৃষ্টি রেখে গ্রন্থাগারিক প্রয়োজনীয় সেবা ও সংগ্রহ গড়ে তোলে।

৫. প্রতিষ্ঠানের যে কোনো কার্যকর উদ্যোগ যেমন-দূরশিক্ষণ এর জন্য প্রয়োজনীয় সংগ্রহের ব্যাখ্যাকরণ এবং গ্রন্থাগারের ভৌত অব-কাঠামো ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উপস্থাপনায় গ্রন্থাগারিকের অবদান অপরিসীম।

৬. গ্রন্থাগারের সামগ্রী নির্বাচন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিন্যাসকরণ, বিতরণ ও জার্নাল ব্যবস্থাপনায় গ্রন্থাগারিককে সৃজনশীল ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হতে হবে।

৭. গ্রন্থাগারের অভ্যন্তরিণ সংগ্রহ স্বয়ংক্রিয়করণ, অনলাইন সংগ্রহ বিস্তৃতকরণ, দ্রূত সেবা প্রদান ও গবেষণায় সহায়তা প্রদান করণে গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা অনবদ্য।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিকের একাডেমিক মর্যাদা:

পেশাজীবী গ্রন্থাগারিকদের একাডেমিক মর্যাদা এর সংজ্ঞায় বলা যায় কোন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক লিখিত স্বীকৃত যা গ্রন্থাগারিকগণকে গবেষণায় স্টাফ ও নির্দেশক কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের রীতি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদবি অনুসারে গ্রন্থাগারিকদেরও পদবি বিন্যাসিত হয়। ১৯৪০ সালে আমেরিকান এসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস সংগঠনটি পেশাজীবী গ্রন্থাগারিকদের অর্ন্তভুক্তি ও সদস্য হওয়ার বিষয়ে আহবান ও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। তাদের এই সমর্থনই আমেরিকার পেশাজীবী গ্রন্থাগারিকগণকে শিক্ষক সম-মর্যাদার স্বীকৃতি এনে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রোলিয়া, কানাডা এবং অন্যান্য উন্নত দেশের গ্রন্থাগারিকগণও যথাযথ ফ্যাকাল্টি/একাডেমিক মর্যাদা পাচ্ছেন। আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারত ও পাকিস্তানেও উল্লিখিত মর্যাদা বিদ্যমান।

১৯৬০ সালের ৩-১৪ অক্টোবরে নয়া (নতুন) দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ এশিয়াতে গ্রন্থাগার উন্নয়ন বিষয়ক এক আঞ্চলিক সেমিনার ইউনেস্কো এর পৃষ্ঠাপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো-গ্রন্থাগারিকতা পেশাকে আকর্ষণীয় এবং মর্যাদাসম্পন্ন করতে হলে এর কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গ্রন্থাগার পেশা উন্নয়নে উপযুক্ত ও মেধাবী জনবলের কোন বিকল্প নেই। গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের পদবি, মর্যাদা এবং এদের যুক্তিসঙ্গত পারিশ্রমিকের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে পেশাজীবী গ্রন্থাগারিকদের পদের ক্রমবিন্যাসও শিক্ষকদের মত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

রাধাকৃষ্ণ এজুকেইশন কমিশন (১৯৪৮-৪৯) এর রিপোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিকদের একাডেমিক মর্যাদার জন্য সুপারিশ হলো- গ্রন্থাগারে অবশ্যই পর্যাপ্ত ও যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মকর্তা থাকতে হবে। গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক যথেষ্ট বিচক্ষণ, মেধা সম্পন্ন এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের কোনো বিশেষ শাখায় পারদর্শী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচ.ডি (ডক্টরেট) ডিগ্রি থাকা বাঞ্ছনীয়।

এই কমিশনের রিপোর্টটি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, মহাবিদ্যালয় গ্রন্থাগার ও অন্যান্য গ্রন্থাগার উন্নয়নে খুবই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। উচ্চশিক্ষায় গ্রন্থাগারের গুরুত্ব অনুধাবন করে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উপমহাদেশের প্রথিতযশা গ্রন্থাগার বিজ্ঞানী ড. এস.আর. রঙ্গনাথনকে চেয়ারম্যান করে একটি লাইব্রেরি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি ভারতের গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিরকদের মান-উন্নয়নে প্রভূত অবদান রাখে। বেতনক্রম ও গ্রন্থাগারের স্টাফ সম্বন্ধে লাইব্রেরি কমিটি দ্ব্যর্থহীনভাবে নিবোক্ত সুপারিশ করে। “উচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক, পেশাদারী শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের সমম্বয়, সারা বিশ্বে বিদ্যমান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারগুলোর অবস্থা অনুসরণ করে গ্রন্থাগার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মান ও বেতনক্রম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষণা কর্মকর্তাদের সমমান সম্পন্ন হতে হবে।”

নিম্নোক্ত সুপারিশ করে। “উচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক, পেশাদারী শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের সমম্বয়, সারা বিশ্বে বিদ্যমান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারগুলোর অবস্থা অনুসরণ করে গ্রন্থাগার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মান ও বেতনক্রম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষণা কর্মকর্তাদের সমমান সম্পন্ন হতে হবে।”

এই কমিটি আরো সুপারিশ করে যে, গ্রন্থাগার কর্মীদের কাঠামোগত বিন্যাস, তাঁদের পদবি, পেশাদারী অবস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং গ্রন্থাগারে গ্রেড পদ্ধতি পরিবর্তন হবে যখন সমমান সম্পন্ন একজন শিক্ষাবিদের মানও পরিবর্তন হয়। এ বিষয়ে একটি সারণি নিন্মে প্রদত্ত হলো-

ক্রঃ নংকর্মকর্তাদের পদবি ও অবস্থানদায়িত্বের ধরনসমমান সম্পন্ন অনুষদ সদস্যদের পদবি ও প্রাপ্ত সুবিধাদি
০১গ্রন্থাগারিক (অধ্যাপক)সুপারভাইজারিবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
০২উপ-গ্রন্থাগারিক (সহযোগী অধ্যাপক)সিনিয়র পেশাজীবী বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডার
০৩সহকারী গ্রন্থাগারিক (সহকারী অধ্যাপক)জুনিয়র পেশাজীবীবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক
০৪সিনিয়র গ্রন্থাগার সহকারী/সিনিয়র ক্যাটালগার অথবা সমমান সম্পন্ন পদপেশাজীবী সহকারীসহকারী প্রভাষক

ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ১৯৬১ সালে এই রিপোর্ট বাস্তবায়ন করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নির্দেশিত যোগ্যতা পূর্ণমূল্যায়ন করে এবং চূড়ান্তভাবে ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক ও উপ-গ্রন্থাগারিক এর নিম্নলিখিত যোগ্যতা অনুমোদন করেন। নতুনভাবে বিন্যাসিত যোগ্যতার মাপকাঠিতে গ্রন্থাগারিক ও উপ-গ্রন্থাগারিকদের Bachelor of Library Science (B.L.Sc.) and Diploma of Library Science (D.L.Sc) এর সাথে যদি Master of Library Science (M. L.Sc.) ডিগ্রিটি থাকে তাহলে উক্ত ডিগ্রিধারীগণ M. A./ M.Com/ M. Sc. ডিগ্রি এর উর্ধে বিবেচিত হবেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিকের একাডেমিক মর্যাদার সুবিধাসমূহ:

গ্রন্থাগারিক একটি সেবামুলক পেশা। তাই এ পেশায় নিয়োজিত গ্রন্থাগারিক/গ্রন্থাগারিকদেরকে যথাযথ তাদের মর্যাদা দেওয়া সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রন্থাগারিকের একাডেমিক মর্যাদা যথাযথভাবে প্রদান করা হয়েছে। আমাদের দেশেও গ্রন্থাগারিককে একাডেমিক মর্যাদা দেওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিকের একাডেমিক মর্যাদার সুবিধাবলি নিন্মে বর্ণিত হলো-

ক. উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ও দক্ষ পেশাজীবী গ্রন্থাগারিক গ্রন্থাগারসেবায় তখনই আগ্রহের সঙ্গে মনোনিবেশ করেন যখন একাডেমিক মর্যাদার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

খ. ইহা গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের সন্তুষ্টি ও মানোন্নয়নে সহায়ক এবং পেশাজীবীগণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে গ্রন্থাগারসেবা প্রদানে নিজেদের উৎসর্গ করেন।

গ. দায়িত্ববোধ, পেশাদারী আচরণ এবং গবেষণা সহায়তা গ্রন্থাগারিক উদ্বুদ্ধ হন।

ঘ. বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটিতে অংশগ্রহণ, কোর্স কারিকুলাম নির্দেশনা প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতি প্রণয়নে গ্রন্থাগারিকের অংশগ্রহণের পথ সুনিশ্চিত করে।

ঙ. এতে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সমমর্যাদা সম্পন্ন বিবেচনা করে একে অপরের সঙ্গে সমান মর্যাদা নিয়ে কাজ করতে সক্ষম হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারসেবার মানোন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

চ. গ্রন্থাগারিকগণ বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশী সুনামধন্য প্রকাশনা থেকে বই ও জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ছ. গ্রন্থাগারিকদের আইসিটি বিষয়ক দক্ষতা রয়েছে, যা লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার develop করার দক্ষতা রাখে। এ সফটওয়্যার develop করার ফলে ব্যবহারকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা দেয়া সম্ভব।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার:

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক গ্রন্থাগার স্থাপনের প্রচেষ্টা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্ব পায়নি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাড়া করা বাড়িতে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গ্রন্থাগার ছোট পরিসরের একটি কক্ষে বিনা পদ-মর্যাদায় গ্রন্থাগার কর্মী দিয়ে পরিচালনা করা হয়। উল্লেখ যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট ১৯৯২-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার ক্যাটাগরিতে গ্রন্থাগারিকের কোনো পদ নেই (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্টে গ্রন্থাগারিকের পদের সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে) এবং গ্রন্থাগার স্থাপন/ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো কথারই উল্লেখ নেই। সম্ভবত এ কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আধুনিক গ্রন্থাগার স্থাপনে কোনো গুরুত্ব নেই। তাই দেশের বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারসেবা প্রদানে অনীহা। কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানগণ মনে করেন যে, গ্রন্থাগার সার্ভিস দেয়া এতটা জরুরি নয়। নামমাত্র গ্রন্থাগার থাকলেই চলে। সরেজমিনে পরির্দশন করে দেখা যায় যে, কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার পিয়ন/গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রাপ্ত জনবল দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নন-প্রফেশনাল জনবল (গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিগ্রি নেই) দিয়ে গ্রন্থাগার পরিচালনা করছে। এতে করে গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীরা তাদের কাঙ্খিত তথ্য সঠিক সময়ে পাচ্ছে না।এর ফলে গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীরা গ্রন্থাগার ব্যবহার করার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। যা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বাধাস্বরুপ। এক্ষেত্রে গ্রন্থাগার উন্নয়নে ইউজিসির অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ চালু রয়েছে, যেমন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং সর্বশেষ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য বিজ্ঞানও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ রয়েছে। প্রতি বছর ঐ বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর (অনার্স ও মাস্টার ডিগ্রি) ডিগ্রি পাস করে ছাত্র/ছাত্রী বের হচ্ছে। এছাড়াও দেশে-বিদেশ থেকে এই বিষয়ের উপর পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করে আসছে। তবে গ্রন্থাগার সেবাকে আরোও বেশি যুগোপযোগী করার জন্য উচ্চতর ডিগ্রি প্রাপ্ত (পিএইচ.ডি) ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক নিয়োগ প্রদান করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেও গ্রন্থাগারিকের অধ্যাপকের মর্যাদা দেয়া উচিত। তবে গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারসেবা উন্নত না হলে শিক্ষাব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে না তেমনি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি না হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান উন্নত হবে না। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান উন্নতমানের না হলে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে না। এক্ষেত্রে মানসম্মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সর্বদা ভর্তি হতে ইচ্ছুক। এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে অভিভাবকরা সচেতন, বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাদের ছেলে ও মেয়েদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। এ বিষয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের চিন্তা করা উচিত।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়মূহের মানোন্নয়নে সম্পর্কিত প্রতিবেদনে যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা সন্তোষজনক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের মান, সেবা, জনবল কাঠামো, নেটওয়ার্কিং, অনলাইন জার্নাল সুবিধাদি ও রেফারেন্স সেবা অত্যন্ত সন্তোষজনক। যেমন- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং ইন্ডিপেন্ডন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ অন্যতম। অবশ্যই এই চারটি বিশ্ববিদ্যারয়ের ক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনজর, একাগ্রতা ও বাজেট বরাদ্দে উদারতা এবং সর্বোপরি গ্রন্থাগার মনস্কতার কারণে গ্রন্থাগার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে গ্রন্থাগারিকের অবস্থান:

বর্তমানে দেশে ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে (ইউজিসির ওয়েব থেকে নেয়া)। তন্মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলো সম্পদ সংগ্রহ ও জনবল কাঠামো তুলনামূলকভাবে ভালো। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে এবং গ্রন্থাগারিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক পদাধিকার বলে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং শিক্ষকের (অধ্যাপক) সম-মর্যাদা সম্পন্ন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৯২-এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার কোনো বিধান রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা তালিকায় গ্রন্থাগারিকের নাম রাখা হয়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৯৮-এর সংশোধনীতেও এ বিষয়টি স্থান পায়নি। অধ্যাদেশে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের তালিকায় গ্রন্থাগারিকের নাম অর্ন্তভুক্ত না করার ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে এবং গ্রন্থাগারিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক পদাধিকার বলে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য এবং শিক্ষকের (অধ্যাপক) সম-মর্যাদা সম্পন্ন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৯২-এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার কোনো বিধান রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা তালিকায় গ্রন্থাগারিকের নাম রাখা হয়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৯৮-এর সংশোধনীতেও এ বিষয়টি স্থান পায়নি।


সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রন্থাগারিককে মূখ্য কর্মকর্তা হিসেবে স্থান দেয়া এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি শর্তাবলি পূরণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রন্থাগারিককে সরকারিভাবে মূখ্য কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ায় গ্রন্থাগারিককে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্তকরণে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় শিক্ষা কমিশন ২০০৩ প্রতিবেদনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হয়েছে এবং প্রয়োজনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট সংশোধনের সুপারিশও রয়েছে। প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার পরিচালনার জন্য হয়েছে এবং প্রয়োজনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট সংশোধনের সুপারিশও রয়েছে। প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার পরিচালনার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের অনুরুপ জনবল কাঠামো অনুসরণ করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্টে রেজিস্ট্রার ও কন্ট্রোলার পদগুলোর সঙ্গে গ্রন্থাগারিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বিভাগের প্রধান হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করা। এজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্টে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যেতে পারে।

উপসংহার:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গ্রন্থাগারের উন্নত সেবাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে গ্রন্থাগারিকের মর্যাদা উপেক্ষা করে কোনোভাবেই উন্নত গ্রন্থাগারসেবা আশা করা যায় না। তাই আমরা বলতে পারি, গ্রন্থাগারকে বাদ দিয়ে যেমন শিক্ষার কথা ভাবা যায় না, তেমনি গ্রন্থাগারিক ছাড়া গ্রন্থাগারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। গ্রন্থাগার যেমন একটি দেশের সার্বিক সাংস্কৃতিক বিকাশগত মান নির্ধারণের অন্যতম সূচক, তেমনি গ্রন্থাগার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের হৃৎপিÐস্বরুপ। তাই একটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পরিবেশ ও এর গুণগত মান ঐ-শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ, গবেষণা, নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও শিক্ষা গ্রহণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যা সত্যিকার অথের্, শিক্ষা বিস্তারে একটি মহতী উদ্যোগ। সেই সাথে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের উচিত গ্রন্থাগারসেবাকে আরো উন্নত করার জন্য গ্রন্থাগারিকদের পদ-মর্যাদা নিশ্চিত করা।


লেখকঃ ড. মোঃ রফিকুল ইসলামড. মোঃ রফিকুল ইসলাম
গ্রন্থাগার বিভাগের প্রধান, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, চট্রগ্রাম


তথ্যসূত্র:

  1. রফিকুল ইসলাম, ড. মোঃ, ঢাকার গ্রন্থাগারের ক্রমবিকাশ ও ব্যবস্থাপনা, সময় প্রকাশন, ঢাকা, ২০১৮
  2. বাংলাদেশ সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষা কমিশন ২০০৩ প্রতিবেদন, ঢাকা, মোঃ আবদুল ওয়াহাব,সদস্য-সচিব, জাতীয় শিক্ষা কমিশন ২০০৩,শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০৪
  3. Ratcliffe, Fredrick William, The role of the modern university library, Northern Territory University Planning Authority, 1982
  4. Thompson. James, University library histiry: an international review, New York:Clive Bingley, 1980
  5. Battin, Patrcia, The library : centre of the restructured universiity, College & Research Libraries 1984
  6. Martell, Charles Rennie,The client-centred academic library:an organizational model ,Westport: Greenwood press, 1983
  7. http://www. ugc.gov.bd.
  8. ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ
  9. এ, ডি, এম, আলী আহাম্মদ, গ্রন্থাগার প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, নবরাগ প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৯৯
  10. Lynch, Mary Jo and Young, Arthur, Academic libraries : research perspectives, Chicago: American Library Association, 1990
  11. Guskin, Alen E [et al], Library future stock : the microcomputer revolution and the new role of the library, College & Research Libraries -45, 1984
  12. Hafner, Arthur W. The essential role of the academic librarian. http://www.bus.edu/library/
  13. Rahman, Matin, The status and responsiblities of the university libraries in Bangladesh. Proceeding [of the] National Seminar on “Preparing the Libraries and Librarians of Bangladesh for the 21th Century” organised by The Library Association Bangladesh, LAB, Dhaka,1993
  14.  UNESCO Regional Seminar on Library Development in South Asia, Delhi, 1960 : Datta N. Academic status for university and college librarians in India.
  15. India, University Grant Commission, Library Committee on University and College Libraries, Report of Library Committee, New Delhi, 1965
  16. দৈনিক প্রথম আলো ১৪ জানুয়ারি, ২০০৫