Book Review

বুক রিভিউ : মাই জার্নি ট্রান্সফরমিং ড্রিমস ইন্টু অ্যাকশন

মাহাবুবা আক্তার

  • মাই জার্নি ট্রান্সফরমিং ড্রিমস ইন্টু অ্যাকশনবইঃ মাই জার্নি ট্রান্সফরমিং ড্রিমস ইন্টু অ্যাকশন
  • ধরনঃ আত্মজীবনী
  • পৃষ্ঠাঃ ৮৪
  • প্রকাশনীঃ অ্যালবাট্রস প্রকাশনী
  • অনুবাদকঃ মনোজিৎ কুমার দাস
  • রিভিউ লেখকঃ মাহাবুবা আক্তার
  • মূল্যঃ ২৫০ টাকা

আইএস বি এনঃ ৯৮৪-৭০০২১-০০২৪-৩


বইটি সম্পর্কে কিছু কথাঃ

বইটি মূলত ভারতের একাদশতম রাষ্ট্রপতি এপি জে আবদুল কালাম এর জীবনের ঘটে যাওয়া ছোট খাটো ঘটনা,যেসব ব্যক্তিদের অবদান তিনি তাঁর  জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে অনুভব করেন তাদের সাথে ঘটে যাওয়া স্মৃতি উল্লেখ করেছেন।বিরাশি বছর বয়সে এসে তিনি উল্লেখ করেন যে,তাঁর জীবনে তাঁর বাবা মায়ের মূল্যবান উপদেশ  তাঁর জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে।তাঁর বইয়ের ভূমিকায় শেষ লাইনে তিনি বলেন,আমি আশা করি আমার জীবনের গল্পগুলো পাঠকদের তাদের স্বপ্ন কি তা বুঝতে সাহায্য করবে এবং তাদের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে বাধ্য করবে যা তাদের জাগিয়ে রাখবে।

পাঠ পর্যালোচনাঃ

“অতীতের জন্য অনুশোচনা করবেননা, বর্তমানকে আত্মবিশ্বাসের সাথে পরিচালনা করুন আর নির্ভীকভাবে ভবিষ্যতের মোকাবিলা করুন।”এপিজে আবদুল কালাম

মাই জার্নি বইটি ১২ অধ্যায়ে বিভক্ত যেখানে প্রথম অধ্যায়ে এপিজে আবদুল কালাম তাঁর বাবার কথা বলেছেন,বাবা জয়নুল আবেদীনের কাজ শুরু ভোর ৪ টায়।নামাজ সেরে তিনি নারিকেল বাগানে হাটতে যেতেন ,মানুষের জন্য তিনি ভরসার স্থল ছিলেন।বিভিন্ন মানুষ বাবার কাছে পরামর্শ নিতে আসতেন।অভাবের সংসারে বড় ভাই বোনের মধ্যে ভাগাভাগি করে খাবার খেতে হতো।একদিন ভাত না থাকায় রুটি তৈরি করেছিলেন তাঁর মা।রুটি খেতে গিয়ে কারো খাবার কথা না ভেবে তিনি সমস্ত রুটি খেয়ে ফেলেন।  বড় ভাই তাকে পরের দিন বলেন যে,মা রাতে না খেয়ে রাত কাটিয়েছেন,তিনি লজ্জিত হয়ে সবার খাবারের কথা ভেবে খাবার খেতেন।বাবার সংসারে সাহায্যের জন্য তিনি  কাজিন সামসুদ্দিনের অধীনে পেপার বিক্রি করেন ,মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌছে দিতেন সংবাদপত্র এতে তাঁর আনন্দ হতো।ছোটবেলায় বাবার নৌকা ব্যবসা দেখাশোনা করতেন,নৌকা তৈরির অভিজ্ঞতা তাকে রকেট তৈরি করতে শিখিয়েছিল বলে স্বীকার করেন ।তাঁর জীবনের পথ প্রদর্শক ছিলেন ,আহমেদ জালালুদ্দিন একসময়ের বন্ধু ও পরামর্শদাতা পরে ভগ্নীপতি হন।তিনিই তাকে স্বপ্ন দেখান জীবনে বড় হওয়ার।পাইলট হওয়ায় ব্যর্থ হয়ে ,তিনি সহকারি সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে যোগ দেন।রামেশ্বরেম এলাকা হিন্দু ,খ্রিষ্টান,মুসলিম এর মধ্যে সম্প্রীতি ছিল এতটাই প্রগাঢ় রামেশ্বরমের কোন অদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান তিন গোত্রের প্রধান তিন জন দিতেন,খুবই শান্তিপূর্ণ শহর ছিল সেটি।তাঁর আরেক পথ প্রদর্শক বিক্রম সারা ভাই যিনি মহাশূন্য গবেষণায় ভারতে প্রথম ISRO স্থাপন করেন।ডঃ বিক্রম সারাভাই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ,আমলাদের কাছে ISRO স্থাপনের জন্য জায়গা চান ,কেউ এগিয়ে আসেনি।পরে ত্রিভান্দ্রমের বিশম ডঃপিটার বার্নাড পেরেইরার চার্চের জায়গায় স্পেস সেন্টার স্থাপনের অনুমতি দেন।এর পর আর পিছনে তাকাতে হয়নি।

বইটি কেন পড়বেন?

বইটি পড়লে আপনি জীবনে কোন কাজকে ছোট ভাববেন না।যেমন ভাবেননি এপিজে আবদুল কালাম।ধৈর্য ও নিষ্ঠা মানুষের আকাশ সমান সাফল্য এনে দিতে পারে এই উপলব্ধি জাগ্রত হবে পাঠকের মধ্যে।

ব্যক্তিগত উপলব্ধিঃ

বইটি পড়ে মনে হয়েছে একজন বিজ্ঞানীর জীবনের খুটিনাটি বিষয়গুলোর দ্বিধাহীনভাবে চমৎকার উপস্থাপন,এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে সুন্দরভাবে মিলেমিশে বসবাসের পাশাপাশি  সাম্প্রদায়িক সম্পীতির অনন্য উদাহরণ ছিল এই রামেশ্বরম।


মাহাবুবা আক্তার
  • সহকারি লাইব্রেরিয়ান
  • জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, দিনাজপুর।
  • উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি, লাইব্রেরিয়ান ভয়েস।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close