Blog Post

গ্রন্থাগার পেশার উন্নয়নে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা এবং গ্রন্থাগারিকদের প্রত্যাশা

মনজুরুল হক

গ্রন্থাগার বরণীয় মানুষের স্বরণীয় সৃষ্টি সমূহের সুসংবদ্ধ সমাহার। সে কারণে গ্রন্থাগারকে কৃষ্টি ও সভ্যতার সংরক্ষণাগার বলা হয়। প্রাচীন কাল থেকে এ দেশে গ্রন্থাগার গড়ে উঠলেও গ্রন্থাগারকে সুষ্ঠু ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালনা করার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না। বিংশ শতাব্দীর প্রায় তৃতীয় দশক পর্যন্ত গ্রন্থাগারসমূহ চিরাচরিত নিয়মে বা সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত হত। সে নিয়মে সুষ্ঠুভাবে জ্ঞান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণে নানাবিধ সমস্যা হত। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সমায়ে এসে এ দেশে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের পাশাপাশি গণগ্রন্থাগার গড়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর চতুর্থ দশকে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার, গণগ্রন্থাগারের পাশাপাশি শিক্ষায়তন গ্রন্থাগার, বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে বিশেষ ধরনের গ্রন্থাগার গড়ে উঠতে শুরু করে। এ সমস্ত গ্রন্থাগারসমূহ আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালনা করার জন্য তখন প্রয়োজন হয় শিক্ষিত, প্রশিক্ষিণ প্রাপ্ত দক্ষ গ্রন্থাগার কর্মীর। ফলে আস্তে আস্তে সমাজে গ্রন্থাগারিকতা তথা গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজন অনুভূত হতে শুরু করে।

গ্রন্থাগার কি?

বর্তমানে গ্রন্থাগার বলতে এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে বুঝায়, যেখানে তাৎক্ষনিক বা ভবিষ্যতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বই, পত্র-পত্রিকা, পান্ডুলিপি, সাময়িকী, চার্ট, ম্যাপ, গ্লোব, ফিল্ম, মাইক্রোফিল্ম, মাইক্রেফিস, মনোগ্রাফ, রেকর্ড, চিত্র, নকশা, ক্যাসেট, স্লাইড, ডিক্স, ইন্টারনেট, কম্পিউটারসহ অন্যান্য আধুনিক তথ্য সামগ্রী ও অডিও ভিজ্যুয়াল সামগ্রী পরিকল্পিত ও সুষ্ঠুভাবে নিয়মিত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, শ্রেণিকরণ ও বিতরণের জন্য সাজিয়ে রাখা হয় এবং প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয় তাকে গ্রন্থাগার বলা হয়। খুব সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে গ্রন্থাগার হল জ্ঞান সংগ্রহ ও বিতরণ কেন্দ্র। এক কথায় সভ্যতার ধারক, বাহক ও দর্পণ হল গ্রন্থাগার।

পেশা কি?

অতি সাধারণভাবে বলতে গেলে বলা যায় জীবন ধারণের জন্য আমরা যে কাজ করে অর্থ উপার্জন করি সেই কাজটিকেই পেশা বলা হয়। ব্যাপক অর্থে বলতে গেলে কোন বিশেষ বিদ্যায় বৃত্তিমূলক জ্ঞান আহরণ করে পারদর্শিতা ও দক্ষতা অর্জনের পর বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ ও ব্যবহার দ্বারা জীবিকা নির্বাহের প্রয়াসকে পেশা বলে। যেমন: চিকিৎসা, আইন, প্রকৌশলী, চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট প্রভৃতি পেশার আওতাভূক্ত।

গ্রন্থাগারিকতা কি পেশা?

লাইব্রেরিয়ানশীপ বা গ্রন্থাগারিকতা পেশা কি না এ প্রশ্নে যাবার আগে আমাদের জানা প্রয়েজন গ্রন্থাগারিকতা কি? আর পেশাই বা কি ? সহজ কথায় গ্রন্থাগারিক যা করেন তা-ই তার পেশা, নাম গ্রন্থাগারিকতা। অন্যভাবে বলা যায় গ্রন্থাগারের জন্য গ্রন্থাগারিক যা করেন তাই গ্রন্থাগারিকতা। এক কথায় গ্রন্থাগারিকের কাজই গ্রন্থাগারিকতা। আবার পেশা বলতে বুঝায় কোন বিশেষ বিদ্যায় বৃত্তিমূলক শিক্ষার মত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান লাভ করে পারদর্শিতা ও দক্ষতা অর্জনের পর বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ ও ব্যবহার দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করাকে পেশা বলে। সাধারণত যে যা করে, সেই মতেই পেশার নামকরণ হয় এবং পেশার নাম দিয়ে নিদিষ্ট পেশার লোকদের চিহ্নিত করা হয় বা আলাদা করা হয়। সুতরাং পেশার সংজ্ঞার আলোকে গ্রন্থাগারিকের গ্রন্থাগারিকতা হল একটি পেশা। বর্তমানে গ্রন্থাগারিকতা শুধু একটি পেশাই নয়, বরং একটি আদর্শ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত।

তা ছাড়া বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানী পেশার কতকগুলো বৈশিষ্ট তুলে ধরেছেন। কোন কাজকে পেশা হতে হলে যেমন-

১) বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়

২) পেশাগত জ্ঞান ও যোগত্য থাকতে হয়

৩) পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়

৪) পেশাগত স্বীকৃতি থাকতে হয়

৫) পেশাগত সংগঠন থাকতে হয়

৬) চাকরি বা আয়ের ক্ষেত্র থাকতে হয়

৭) যুগোপযোগী পাঠ্য সূচি থাকতে হয়। এ সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকলে যে কোন শিক্ষা পেশা হিসাবে গণ্য হবে। আলোচনা করলে দেখা যায় যে, গ্রন্থাগারিকতার, পেশায় বা শিক্ষায় ঊল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান। সুতরাং গ্রন্থাগারিকতা একটি পেশা। শুধু পেশা নয় বরং একটি আদর্শ পেশা।

পেশাজীবী সংগঠন বলতে কি বুঝায়?

পশোজীবী সংগঠন হল এমন একটি সংগঠন যা কোন নিদিষ্ট পেশার লোকদের কাজের দক্ষতা ও মান বৃদ্ধিসহ সমাজে মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার নিমিত্তে সরকার বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পেশার বিভিন্ন সূযোগ সুবিধা আদয়ের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে থাকে। এমন ধরনের সংগঠনকে সাধারণত পেশাজীবি সংগঠন বলে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন্ দেশে বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবি সংগঠন রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেমন: বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ ব্যাংকার্স ইউনিয়ন, বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতি, ডক্টরস সমিতি, হকার্স সমিতি, সাংবাদিক সমিতি ইত্যাদি।

পেশার উন্নয়নে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর ভুমিকা

গ্রন্থাগার বরণীয় মানুষের স্বরণীয় সৃষ্টি সমূহের সুসংবদ্ধ সমাহার। সে কারণে গ্রন্থাগারকে কৃষ্টি ও সভ্যতার সংরক্ষণাগার বলা হয়। প্রাচীন কাল থেকে এ দেশে গ্রন্থাগার গড়ে উঠলেও গ্রন্থাগারকে সুষ্ঠু ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালনা করার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না। বিংশ শতাব্দীর প্রায় তৃতীয় দশক পর্যন্ত গ্রন্থাগারসমূহ চিরাচরিত নিয়মে বা সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত হত। সে নিয়মে সুষ্ঠুভাবে জ্ঞান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণে নানাবিধ সমস্যা হত। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সমায়ে এসে এ দেশে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের পাশাপাশি গণগ্রন্থাগার গড়ে ওঠে। বিংশ শতাব্দীর চতুর্থ দশকে ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার, গণগ্রন্থাগারের পাশাপাশি শিক্ষায়তন গ্রন্থাগার, বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে বিশেষ ধরনের গ্রন্থাগার গড়ে উঠতে শুরু করে। এ সমস্ত গ্রন্থাগারসমূহ আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালনা করার জন্য তখন প্রয়োজন হয় শিক্ষিত, প্রশিক্ষিণ প্রাপ্ত দক্ষ গ্রন্থাগার কর্মীর। ফলে আস্তে আস্তে সমাজে গ্রন্থাগারিকতা তথা গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজন অনুভূত হতে শুরু করে।

গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার সূচনা পর্ব

বাংলাদেশে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এসে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রন্থাগারসমূহ পরিচালনার জন্য শিক্ষিত ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার কর্মীর সমস্যার পাশাপাশি গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এ মতাবস্থায় ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন গ্রন্থাগারিক ফজল ইলাহির তত্ত্বাবধানে তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স বাংলাদেশে প্রথম চালু হয়। মূলত গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিষয়ে একাডেমিক পাঠদান এখান থেকেই শুরু হয়। কিন্তু একটি মাত্র কোর্স সমাপনের পরেই এটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক প্রফেসর নাফিজ আহমদের কাছ থেকে মোহাম্মদ সিদ্দিক খান কর্তৃক গ্রন্থাগারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তার নেতৃতে ও তত্ত্বাবধানে ১৯৫৫-৫৬ শিক্ষা বর্ষ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে চারটি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হয়। এখান থেকেই শিক্ষিত ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার কর্মী বের হতে থাকে এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষা ও গ্রন্থাগারিকতা পেশার আন্দোলন শুরু হয়।


১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন গ্রন্থাগারিক ফজল ইলাহির তত্ত্বাবধানে তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স বাংলাদেশে প্রথম চালু হয়। মূলত গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিষয়ে একাডেমিক পাঠদান এখান থেকেই শুরু হয়।


গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার সার্টিফিকেট কোর্স প্রবর্তন:

১৯৫৬ সালে তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্থান গ্রন্থাগার সমিতি’ গঠিত হলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিক খানকে পরিচালক এবং মোতাহার আলী খানকে অবৈতনিক সেক্রেটারী করা হয়। তাদের উদ্দোগে ১৯৫৮ সালে ‘গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে’ ছয় মাসের একটি নিয়মিত স্নাতকপূর্ব সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়। গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের এই একাডেমিক শিক্ষার ছয় মাসের সার্টিফিকেট কোর্সটি নিয়মিতভাবে চালু হবার ফলে এ দেশে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে একাডেমিক শিক্ষার পথ সুগম হয় এবং গ্রন্থাগার সমিতির আন্দোলন জোরদার হয়। ফলে স্নাতকোত্তর একবছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স চালু করার জন্য জোর দাবী ওঠতে শুরু করে।

গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার ডিপ্লোমা ও মাস্টার ডিগ্রি কোর্স প্রবর্তন

১৯৫৮ সাল থেকে একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত স্নাতক পূর্ব ছয় মাসের সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করা ছাত্র-ছাত্রীরা দেশের বিভিন্ন গ্রন্থাগারসমূহে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালিত করে আসছিল তখন তাদের মধ্যে উচ্চতর পর্যায়ে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষা করার উৎসাহ বেড়ে যায়। এ মতাবস্থায় গ্রন্থাগার সমিতি কীভাবে উচ্চতর পর্যায়ে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়া যায় তার পথ খুঁজতে থাকে। অতঃপর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের তৎকালীন গ্রন্থাগারিক মোহাম্মদ সিদ্দিক খানের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ১৯৫৯ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়। ফলে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রাপ্তরা তখন দেশের অসংখ্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে চাকুরীতে প্রবেশের সূযোগ পায়।

এমনিভাবে গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগার কর্মীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির ফলে গ্রন্থাগার সমিতির সদস্য সংখ্যা আরো বেড়ে যায় এবং চাকুরীতে উচ্চতর স্কেলে বেতনের আশায় গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রি পড়ার ব্যবস্থা করার জন্য গ্রন্থাগার সমিতির আন্দোলন জোরদার করে। যার ফলে ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ডিপ্লোমা কোর্সের পরিচালক ও গ্রন্থাগারিক মোহাম্মদ সিদ্দিক খানের নেতৃতে এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাধারীদের জন্য মাস্টার ডিগ্রি কোর্স চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪-৬৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রন্থাগার বিজ্ঞানকে কলা অনুষদের অওতায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ হিসেবে অনুমোদন প্রদান করে করে। ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স বাতিল করে তার স্থলে ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন পাঠ্যসূচি নিয়ে তিন বছর মেয়াদী স্নাতক সম্মান কোর্স চালু করে এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগকে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগ নামে নতুন নাম করণ করা হয়।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একার পক্ষে এ বিপুল পরিমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রাজশাহী, চট্রগ্রাম ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য পৃথক বিভাগ খোলার সুপারিশ করেন। কিন্তু বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অদ্যাবধি অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐ সুপারিশ কার্যকরী হয়নি।


গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার দু’বছর মেয়াদী মাস্টার ডিগ্রি কোর্স প্রবর্তন:

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে দেশের প্রয়োজনে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তর, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সৃষ্টি হয় তার সঙ্গে গ্রন্থাগার ও প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে গ্রন্থাগারিক, গ্রন্থাগার কর্মীর পাশাপাশি গ্রন্থাগার বিজ্ঞানীদের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের একার পক্ষে এ বিপুল পরিমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রাজশাহী, চট্রগ্রাম ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য পৃথক বিভাগ খোলার সুপারিশ করেন। কিন্তু একমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অদ্যাবধি অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐ সুপারিশ কার্যকরী হয়নি। অবশেষে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করার জন্য বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির দুর্বার আন্দোলনের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃৃপক্ষ ১৯৭৫-৭৬ শিক্ষা বর্ষ থেকে এক বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স চালু রেখে দু’বছর মেয়াদী মাস্টার ডিগ্রি কোর্স (এম.এ ১ম পর্ব ও এম.এ শেষ পর্ব) অনুমোদন করে এবং ১৯৭৬-৭৭ শিক্ষা বর্ষ থেকে এ কোসের্র কার্যক্রম শুরু হয়।

গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে এম.ফিল ও পিএইচ.ডি কোর্স প্রবর্তন

দেশে গ্রন্থাগারিকতার ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পেশাগত শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৫-৭৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষার দুবছর মেয়াদী মাস্টারোত্তর এম.ফিল কোর্স প্রবর্তন করে এবং ১৯৭৬-৭৭ শিক্ষা বর্ষ থেকে এ কোসের্র কার্যক্রম শুরু হয়। অতপর ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষা বর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে পিএইচ.ডি কোর্স চালু করে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক বছর পর ১৯৯১ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিন বছর মেয়াদী বি.এস.এস সম্মান কোর্সের কার্যক্রর্ম চালু করে। সম্মান কোর্স প্রথম ব্যাচ সমাপনান্তে ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স চালু করে।

বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির বিশেষ অবদান:

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান গ্রন্থাগার সমিতি বাংলাদেশ গ্রন্থগার সমিতি (ল্যাব) নাম ধারণ করে। বাংলাদেশ গ্রন্থগার সমিতির নিরলস প্রচেষ্ঠা ও আন্দোলনের ফলে এক দিকে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার লাভ করতে থাকে অন্যদিকে তেমনি গ্রন্থাগারিকতা পেশাজীবিদের চাকুরীর উন্ন্য়ন ঘটতে থাকে এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডির মত সর্বোচ্চ শিক্ষা কোর্স প্রবর্তন করা সম্ভব হয়।

শুধু তাই নয় বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) তার নিজস্ব উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সদস্যদের নিয়ে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১৯৫৮ সাল থেকে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ছয় মাস মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স চালু করে। অতঃপর ১৯৮৭-৮৮শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তÍর ডিপ্লোমা কোর্স বাতিল করে তার স্থলে তিন বছর মেয়াদী স্নাতক সম্মান কোর্স চালু করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি ১৯৮৯-৯০শিক্ষা বর্ষ থেকে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে। এরই ধারা বাহিকতায় বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি তৎকালীন চারটি বিভাগীয় শহরসহ বড় বড় জেলাগুলোতে ইনস্টিটিউট স্থাপন করে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষার কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণ করে। পরবর্তী কালে সরকারের নতুন নীতিমালার আলোকে ইনস্টিটিউটগুলো ১৯৯৮ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত হয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ ১৯৯২ সাল থেকে বি.এ.(পাশ) ডিগ্রি কোর্সের পাঠ্য সূচিতে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়কে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে তিন পত্রের একটি কোর্স অন্তরভূক্ত করে। এমনিভাবে আলোচনা করলে দেখা যায় যে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি তার জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশের গ্রন্থাগার, গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গ্রন্থাগার কর্মীদের পেশার উন্ন্য়নে এক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আসছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) ছাড়া ও গ্রন্থাগার পেশাজীবিদের আরও অনেক সংগঠনের সৃষ্টি হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ গ্রন্থাগারিক ও তথ্যায়নবিদ সমিতি (বেলিড), বাংলাদেশ, কাউন্সিল অব লাইব্ররি প্রোফেশনালস, বাংলাদেশ (সিএলপিবি), বাংলাদেশ কলেজ গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ সহকারী গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ সম্মিলিত গ্রন্থাগার পেশাজীবি জোট, বাংলাদেশ পিটিআই গ্রন্থাগার সমিতি, গ্রন্থাগার শিক্ষক পরিষদ, বাংলাদেশ স্কুল লাইব্রেরি সমিতি, এসোসিয়েশন অব ন্যাশলাইজ এন্ড নন গর্ভমেন্ট একাডেমিক লাইব্রেরি (এ্যানজেল), স্কুল লাইব্রেরি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এস. এল. বি.), মেডল্যাব প্রভৃতি। ফলে গ্রন্থাগার আন্দোলন আরো জোরালো হয়েছে। সব সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার ফলে হয়তো আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছে যাব সেদনি বেশী দূরে নেই।

গ্রন্থাগার পেশার উন্নয়নে পশোজীবী সংগঠনগুলোর সফলতা

বাংলাদেশে গ্রন্থাগার আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায় যে, সর্বক্ষেত্রে গ্রন্থাগার আন্দোলন পুরোপুরি সফল না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে সফল হয়েছে তা বলা যায়। বিশেষ করে গ্রন্থাগারভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন যেমন: বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ গ্রন্থাগারিক ও তথ্যায়নবিদ সমিতি, কাউন্সিল অব লাইব্রেরি প্রোফেশনালস্, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গ্রন্থাগার পরিষদ প্রভতি সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠিত হবার ফলে গ্রন্থাগার আন্দোলন আরো বেগবান হয়েছে। তবে গ্রন্থাগার আন্দোলনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি বা ল্যাব এবং  কাউন্সিল অব লাইব্রেরি প্রোফেশনালস্, বাংলাদেশ বা সিএলপিবি। বিশেষ করে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ও স্বক্রিয় আন্দোলনের ফলে আজ বাংলাদেশের গ্রন্থাগার আন্দোলনের যেমন অগ্রগতি হয়েছে তেমনি গ্রন্থাগারিকরা তাদের হতাশাগ্রন্থ চাকুরী জীবনে কিছুটা হলেও মান-মর্যাদা বৃদ্ধিসহ সরকারি স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির প্রচেষ্টার ফলে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লে¬ামা কোর্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি পর্যায়ে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা, সরকারি কলেজে সহকারী লাইব্রেরিয়ানদের পদোন্নতির মাধ্যমে লাইব্রেরিয়ান পদে পদায়ন করা, বি.সি.এস পরীক্ষায় গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা, ঢাকার শ্যামলীর আদাবরে সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ের জন্য জমি ক্রয় করা প্রভৃতি কাজগুলো করা সম্ভব হয়েছে। তা ছাড়া বর্তমানে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স, এম.ফিল, পিএইচ.ডি করানো হয়। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে মাস্টার্স কোর্স চালু করেছে। সুতরাং দেশে বর্তমানে পেশাজীবি গ্রন্থাগারিক তৈরির একটি রিরাট ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সর্বপরি বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির ১৫ দফা দাবী বাস্তবায়িত হলে গ্রন্থাগারিকতা পেশা একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে পরিচিতি পাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।


গ্রন্থাগার আন্দোলনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি বা ল্যাব এবং কাউন্সিল অব লাইব্রেরি প্রোফেশনালস্, বাংলাদেশ বা সিএলপিবি। বিশেষ করে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ও স্বক্রিয় আন্দোলনের ফলে আজ বাংলাদেশের গ্রন্থাগার আন্দোলনের যেমন অগ্রগতি হয়েছে তেমনি গ্রন্থাগারিকরা তাদের হতাশাগ্রন্থ চাকুরী জীবনে কিছুটা হলেও মান-মর্যাদা বৃদ্ধিসহ সরকারি স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির যে ১৫ দফা দাবী সরকারের কাছে পেশ করেছে তার অধিকাংশ এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারে নাই। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের উপযুক্ত বেতন স্কেল ও শিক্ষকদের সমান পদমর্যাদা প্রাপ্তি এখনও পর্যন্ত আদায় হয় নাই। এটিই এখন পেশাজীবি সংগঠনগুলোর কাছে গ্রন্থাগারিকদের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


গ্রন্থাগারিকদের প্রত্যাশা

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি ছাড়া আর কোন কাজে তেমন সাফাল্য অর্জন করতে পারে নাই। বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হল এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির যে ১৫ দফা দাবী সরকারের কাছে পেশ করেছে তার অধিকাংশ এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারে নাই।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের উপযুক্ত বেতন স্কেল ও শিক্ষকদের সমান পদমর্যাদা প্রাপ্তি এখনও পর্যন্ত আদায় হয় নাই। এটিই এখন পেশাজীবি সংগঠনগুলোর কাছে গ্রন্থাগারিকদের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া টাইম স্কেল, ইনক্রিমেন্ট আদায় করা, গ্রন্থাগারিকতা পেশাকে টেকনিক্যাল পেশা হিসেবে স্বীকৃতি ও ক্যাডারভূক্ত করা, গ্রন্থাগার আইন প্রণয়ন করা, গ্রন্থারের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রভৃতি সমস্যাগুলো তো থেকেই গেছে।

পরিশেষে আলোচনা করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগারবিদ তৈরি করার ক্ষেত্রে যে পরিমান সাফাল্য অর্জন করেছে ঠিক সেই পরিমান ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তাদেরই প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগারবিদদের উপযুক্ত সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে দিতে। তবু আশার কথা বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর আন্দোলন থেমে নেই। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলেই হয়ত একদিন আমরা গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগারবিদরা আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পোঁছে যাবো।

সবশেষে সর্বস্তরের সহকর্মী পেশাজীবি ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে এবং আমরা আমাদের শিক্ষক মর্যাদা একদিন প্রতিষ্ঠা করতে পারব সেদিন বেশী দূরে নেই। এই আশাবাদ ব্যাক্ত করে এখানেই শেষ করছি।


লেখক পরিচিতি:

সরদার মো. মনজুরুল হক (এলএম-১৬২৫)
লাইব্রেরিয়ান, খুলনা কলেজ, খুলনা

Email. monzurul1962@gmail.com


গ্রন্থপঞ্জি
১। রহমান, মো. মিজানুর। গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পরিচিতি। ৩য় সং.। ঢাকা :নিউ প্রগতি প্রকাশনী ,২০০৪। ৫৭০পৃ.
২। আহমদ, ডক্টর নাসির উদ্দীন। সমাজ গ্রন্থাগার ও যোগাযোগ। ঢাকা : বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, ১৯৯৪। ২১০পৃ.
৩। হাকিম, মো. আজিজুল। বাংলাদেশে গণ-গ্রন্থাগার আন্দোলন। খুলনা : সীমা প্রকাশনী, ১৯৯৪। ১১৬পৃ.
৪। সা’দাত আলী, মোহাম্মদ। আধুনিক গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাারিকতা। ঢাকা : বর্ণ বিচিত্রা, ১৯৮৫। ১১২পৃ.

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close