Blog Post

গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের পেশার পদমর্যাদা, সামাজিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বাঁধা সমূহের তাত্ত্বিক আলোচনা

সরদার মো. মনজুরুল হকমনজুরুল হক: এমন এক সময় ছিল যখন গ্রন্থাগারকে ‘ষ্টোর হাউজ’নামে অভিহিত করা হত। অর্থাৎ যেখানে বই-পুস্তক শুধুমাত্র সংরক্ষণ করা হত। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে গ্রন্থাগার সম্পর্কে এ ধারণা একেবারেই পাল্টে গেছে। এখন গ্রন্থাগার বলতে এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে বুঝায়, যেখানে তাৎক্ষনিক বা ভবিষ্যতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বই, পত্র-পত্রিকা, পান্ডুলিপি, সাময়িকী, চার্ট, ম্যাপ, গ্লোব, ফিল্ম, মাইক্রোফিল্ম, মাইক্রেফিস, মনোগ্রাফ, রেকর্ড, চিত্র, নকশা, ক্যাসেট, স্লাইড, ডিস্ক, ইন্টারনেট, কম্পিউটারসহ অন্যান্য আধুনিক তথ্য সামগ্রী ও অডিও ভিজ্যুয়াল সামগ্রী পরিকল্পিত ও সুষ্ঠুভাবে নিয়মিত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, শ্রেণীকরণ ও বিতরণের জন্য সাজিয়ে রাখা হয় এবং প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয় তাকে গ্রন্থাগার বলা হয়। খুব সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে গ্রন্থাগার হল জ্ঞান সংগ্রহ ও বিতরণ কেন্দ্র। এক কথায় সভ্যতার ধারক, বাহক ও দর্পণ হল গ্রন্থাগার। শিক্ষা যখন জাতির মেরুদণ্ড তখন গ্রন্থাগার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ড। গ্রন্থাগার সাম্প্রতিক সময়ে এসে আর শুধু গ্রন্থাগার হিসেবে পরিচিত নেই। এখন গ্রন্থাগার ও ডকুমেন্টেশন কেন্দ্র বা গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্র নামে বেশী পরিচিত।

গ্রন্থাগার যেমন সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেশের সুশিক্ষিত নাগরিক উপহার দিয়ে থাকে। অন্যদিকে তেমনি গ্রন্থাগার একটি দেশের সার্বিক সাংস্কৃতিক বিকাশগত মান নির্ধারণের সূচক হিসাবে বিবেচিত হয়। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র বা হৃৎপিন্ড বলা হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও এর গুণগতমান ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার ব্যবহারের প্রাণ স্পন্দনের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। দেশের নাগরিকদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা জীবনব্যাপী শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ, গবেষণা, নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ও শিক্ষা গ্রহণে গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞান ও তথ্য সহজলভ্য করার দায়িত্ব হল গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রের। গ্রন্থাগার হচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার বাহন এবং একটি জাতির মুকুট স্বরূপ। যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত জ্ঞানের ভাণ্ডার নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং দেশের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে গ্রন্থাগারের ভূমিকা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় প্রকার শিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের ভূমিকা বর্ণনাতীত। জীবনব্যাপী শিক্ষা অর্জনের একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম হচ্ছে গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগার সামগ্রীকে ব্যবহার উপযোগী করে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করার জন্য প্রায় সারা বছরই গ্রন্থাগার পেশাজীবিদের নিরলস পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু আজও আমরা আমাদের কর্মের পেশাগত মর্যাদা, সামাজিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাইনি। এমনকি সুন্দরভাবে জীবন ধারনের জন্য অন্যান্য পেশাজীবিদের মত বেতন স্কেলও পায়নি। রাষ্ট্র এখনও আমাদেরকে সেইভাবে মূল্যায়ন করেনি বিধায় সমাজে আমাদের পেশা এখনও এত অবহেলিত। আমরা জানি রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানের যেমন উন্নয়ন ঘটে না; তেমনি কোন পেশারও সামাজিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। আমাদের পেশাগত মর্যাদা, সামাজিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, ও সম্মানজনক বেতন স্কেল প্রাপ্তির অন্যতম ও একমাত্র বাঁধা হল আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর কর্তৃক এক এক সময় একএক ধরনের পরস্পর বিরোধী নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন জারি করে আমাদেরকে মর্যাদার দিক থেকে অনেক পিছনে ফেলে রেখেছে। সেকারণেই যুগ যুগ ধরে আমরা অবহেলিত হয়ে এক মানসিক যন্ত্রণা ও হীন মন্যতা নিয়ে গ্রন্থাগার সেবা দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি। বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন বা জাতীয় শিক্ষানীতি যখন প্রণয়ন করা হয় তখন সব কমিশনই আমাদের মর্যাদা ও বেতন স্কেল সম্পর্কে সুন্দর সুন্দর সুপারিশ করে থাকেন। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর যখন কোন প্রজ্ঞাপন জারি করে তখন আর আমাদের মর্যাদার বা বেতন স্কেলের কথা মনে থাকে না। নিম্নের বিভিন্ন সময়ের কমিশনের সুপারিশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরে প্রজ্ঞাপনগুলো লক্ষ্য করলে তা খুব সহজেই বোঝা যাবে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে ১৯৭২ সালে কুদরত-ই-খোদার নেতৃত্বে সর্বপ্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। সেখান থেকে ২০১০সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রকাশিত হবার সময় পর্যন্ত যতগুলো শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যেমন গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে, তেমনি গ্রন্থাগারিকতার মান উন্নয়নের জন্য ইনষ্টিটিউট স্থাপন করা, উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, গ্রন্থাগারিকদের বেতন বৃদ্ধি করা সহ অন্যান্য সূয়োগ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিকতা সম্পর্কিত কোন সুপারিশমালাই বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারণেই বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রসার গ্রন্থাগারসমূহ ও গ্রন্থাগারিকতা পেশার এই বেহাল অবস্থা। আমরা জানি রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানের যেমন উন্নয়ন ঘটে না; তেমনি কোন পেশারও সামাজিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। একমাত্র মনিরুজ্জামান শিক্ষাকমিশন-২০০৩ এ গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগার পেশাজীবিদের সম্পর্কে এক যুগান্তকারী সুপারিশ করে ছিলেন।

মনিরুজ্জামান শিক্ষাকমিশন-২০০৩ এর সুপারিশমালা নিম্নরূপ ছিল-

১) উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রন্থাগারিক ১ম শ্রেণি-১জন, সহকারী গ্রন্থাগারিক-২য় শ্রেণি-১জন ও বুক সটার-৪র্থ শ্রেণি-১জন পদ সৃষ্টির কথা সুপারিশ করা হয়েছে।

২) সরকারি অনার্স কলেজের জন্য সহকারী অধ্যাপকের সমতুল্য ১জন সিনিয়র গ্রন্থাগারিকের পদ ও স্নাতকোত্তর কলেজগুলোতে সিনিয়র গ্রন্থাগারিক ও সহযোগী অধ্যাপকের সমতুল্য ১জন প্রধান গ্রন্থাগারিক পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

৩) সরকারি বেসরকারি উভয় ডিগ্রি কলেজের একই স্টাফিং প্যাটার্ন অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

৪) প্রতিটি বিভাগীয় শহরে অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান চালুর কথা বলা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০০৯ (খসড়া) ও ২০১০: 

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০০৯ ও ২০১০ এ গ্রন্থাগার পরিচ্ছেদে গ্রন্থাগারিকদের বেতন কাঠামো ও মর্যাদা সম্পর্কে মাত্র তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। যেমন-

১) মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে উন্নত ও আধুনিক মানের গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার করা, গ্রন্থাগারিকের পদ সৃষ্টি এবং গ্রন্থাগারকর্মীদের বেতন কাঠামো বিভিন্ন স্তরে যৌক্তিকীকরণ করা হবে। সরকার কর্তৃক গ্রন্থাগারের জন্য বার্ষিক মঞ্জুরি দেয়া হবে।

২) প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারিক, সহ গ্রন্থাগারিকসহ অন্যান্য পদ সৃষ্টি করা ও তাদের যথার্থ মর্যাদা নির্ধারণ করা হবে।

৩) গ্রন্থাগারে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পদোন্নতির সূযোগ বৃদ্ধি করা হবে।

আজ যদি এই সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করা যেত তবে আমাদের অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যেত বলে আমি মনে করি।  জানি না এসমস্ত সুপারিশমালা যখন প্রকাশিত হয়ে ছিল তখন আমাদের নেতৃবৃন্দরা কেন আন্দোলন করেননি এরকম সুপারিশমালাগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা সহকারী গ্রন্থাগারিকেরা প্রথম যে নীতিমালার বেড়াজালে আটকে পড়ি সেটি হল ১৯৭৭ সালের নীতিমালা। ১৯৭৭ সালের নীতিমালায় আমাদেরকে শিক্ষক হিসাবে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সূযোগ না রাখায় সেখান থেকেই আমরা চরম অবহেলা ও বঞ্চনার স্বীকার হয়ে চাকরি করছি এবং একপ্রকার হতাশা, বিব্রতকর পরিস্থিতি, মানসিক যন্ত্রণা ও হীনমন্যতা নিয়ে গ্রন্থাগার সেবা দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি। ১৯৭৭ সালের নীতিমালার সেই অংশটুকু নিম্নরূপ-

  • নীতিমালা ১৯৭৭: Governing Bodies of Non-Government Intermediate Colleges- Regulations-1977 এর ১৬ ধারায় Mode on election of representatives of the teaching staff এর ২ উপধারায় বলা হয়েছে,`The principal shall sent to all Members of the teaching staff including the physical Instructor and Demonstrators…’ এখানেও Assistant Librarian শব্দটি সংযোজিত না থাকায় যে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন সহকারী গ্রন্থাগারিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজে চাকরি করেন না কেন তিনি শিক্ষকের মর্যাদা পাওয়াতো দূরের কথা তিনি শিক্ষক স্টাফ হিসাবেও গণ্য হবেন না। এই নীতিমালা জারির ফলে কোন কোন কলেজে শিক্ষক হাজিরা রেজিষ্টারে সই করা, শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা, কলেজের বিভিন্ন কমিটিতে সদস্য হওয়া, বিভিন্ন পরীক্ষার ডিউটি করা, চাকরিতে যোগদানের ভিত্তিতে সিনিয়র না হওয়াসহ নানাবিধ বিষয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক ও শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। কারণ উক্ত নীতিমালায় আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকায় শিক্ষকদের দৃষ্টিতে আমরা শিক্ষক নই।

এই নীতিমালার এই অংশটুকু সহকারী গ্রন্থাগারিকের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা এখনও পর্যন্ত প্রয়োগ করে থাকেন এবং এখনো অধিকাংশ কলেজে আমাদেরকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিতে দেন না এবং কলেজের নানাবিধ কমিটিতে নিয়োগ না করার জন্য অধ্যক্ষ মহোদয়কে অনুরোধ করে থাকেন। ফলে আমাদেরকে কলেজের নানাবিধ কর্মকর্তা থেকে অধ্যক্ষ মহোদয় ও শিক্ষকরা বাদ দিয়ে রাখেন। সরকারি কলেজ ও নতুন আত্তীকরণ কলেজে এ সমস্যা  আরও  বেশী প্রকট রূপে বিদ্যমান। এই একটি মাত্র নীতিমালার কারণে আজও আমরা অধিকাংশ ইন্টারমিডিয়েট কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিকরা অফিস স্টাফের অংশ হিসাবে বিবেচিত হই। সুতরাং তখনকার সময়ের ল্যাব নেতৃবৃন্দরা যদি আজকের মত সক্রিয় হয়ে যদি এই নীতিমালাটির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে সংশোধন করে উক্ত লাইনের শেষে  Assistant Librarian শব্দটি সংযোজন করাতে পারতেন তবে আজকে আমরা শিক্ষকের মর্যাদায় স্বীকৃত থাকতাম।  আমার যদি ভুল না হয়; আমার যতদূর মনে পড়ে তখন এ নীতিমালার বিরূদ্ধে কোন প্রকার কর্মসূচি পালন করা হয়নি।

  • নীতিমালা ১৯৭৯: ১৯৭৯ সালে আবার নতুন নীতিমালা জারি হলে সেখানেও আমাদেরকে শিক্ষকের মর্যাদা দেয়া হয়নি। ১৯৭৯ সালের নীতিমালায় সহকারী গ্রন্থাগারিকেরা যে অংশটুকুর কারণে শিক্ষকের মর্যাদা পাননি; সে অংশটুকু নিম্নরূপ- The Recognized Non-Government Intermediate College Teachers (Board of Intermediate and Secondary Education, Dhaka) Terms and Conditions of Service Regulations-1979. এখানে ২ এর M ধারায় শিক্ষকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, `Teacher’ means a teacher wherever Permanent or temporary of an Intermediate College under the Board এর ৩ ধারায় শিক্ষকের ক্লাসিফিকেশনের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,“ There may be appointed in an Intermediate College a Principal and such number of teachers to be designated as Assistant professor, Lecturer, Demonstrator and Physical Education Teacher… এখানেও শিক্ষকের সংজ্ঞায় সহকারী গ্রন্থাগারিকদের নাম রাখা হয়নি। আমাদেরকে সেই অশিক্ষক কর্মচারির মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। জানি না এ নীতিমালাটিও জারির পরপরই আমাদের সেই সময়কার নেতৃবৃন্দরা কেন সরব হননি। কেন আমাদের তৎকালীন নেতৃবৃন্দরা আজকের মত মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি করেন নাই। দৌড়াদৌড়ি করলে হোক বা না হোক আমরা অন্তত সান্তনা পেতাম এই ভেবে যে, তখনকার সময়ে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন এবং আমাদেরকে শিক্ষকের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। এখানেও আমার যদি ভুল না হয়, আমার যতটা মনে পড়ে তখনকার নেতৃবৃন্দ আমাদের জন্য কিছুই করেন নাই।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিদের চাকরি বিধিমালা-২০১২:

সহকারী গ্রন্থাগারিকদের মান-মর্যাদা সম্পর্কে যেটুকু সাধারণ শিক্ষক ও মানুষের মধ্যে অজানা ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ‘বেসবকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) এর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের চাকরি বিধিমালা-২০১২ এর ২এর ‘ছ’ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে তার চরম বারোটা বাজিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে বলা হয়েছে, “কর্মচারী” অর্থ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন টিচিং স্টাফ অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (সহকারী গ্রন্থাগারিক/ অফিস সুপারিন্টেন্ডেট/হিসাবরক্ষক/উচ্চমান সহকারী/ক্যাশিয়ার/ হিসাব সহকারী/টাইপিষ্ট কাম অফিস সহকারী/ অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর/গ্রন্থাগার সহকারী) এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস অর্থাৎ পিয়ন/দপ্তরী/গার্ড/ক্যাশ পিয়ন/ আয়া/ মালি/ ঝাড়–দার বুঝাইবে।” এই একটি মাত্র প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের তখনকার ল্যাব নেতৃবৃন্দ আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্ঠা করে ছিলেন বলে কিছুদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপনটি সংশোধিত আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। এর জন্য তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি নিম্নরূপ-

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিদের চাকরি বিধিমালা-২০১২ আংশিক সংশোধন: শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ‘বেসবকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) এর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা-২০১২ আংশিক সংশোধিত এর   ২এর ‘ছ’ অনুচ্ছেদে সহকারী গ্রন্থাগারিক শব্দ দুটি বাদ দিয়ে বলা হয়েছে, “কর্মচারী” অর্থ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন টিচিং স্টাফ অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (অফিস সুপারিন্টেন্ডেট/হিসাবরক্ষক/উচ্চমান সহকারী/ক্যাশিয়ার/ হিসাব সহকারী/টাইপিষ্ট কাম অফিস সহকারী/ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর/গ্রন্থাগার সহকারী) এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস অর্থাৎ পিয়ন/দপ্তরী/গার্ড/ক্যাশ পিয়ন/ আয়া/ মালি/ ঝাড়ু–দার বুঝাইবে।”

এখনে  শুধুমাত্র সহকারী গ্রন্থাগারিক শব্দ দুটি বাদ দিয়ে নতুনভাবে আংশিক সংশোধিত আকারে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। সে জন্য আবারও তৎকালীন ল্যাব নেতৃবৃন্দকে  আমার ও আমাদের সহকারী গ্রন্থাগারিকগণের পক্ষ থেকে তাদেরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। এ সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি জারির ফলে আমরা অন্তত শিক্ষকের মর্যাদায় ফিরে আসতে পারলেও কলেজের শিক্ষকেরা আমাদেরকে সেইভাবে মূল্যায়ণ করেননি। কারণ আমরা শিক্ষক কিনা সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তথাপিও আমরা ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল’ প্রবাদটির মত সান্তনা পেলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে যেতে না যেতে ২০১৭ সালে মাউশি আবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের হাল নাগাদ তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠালো। সেই তথ্যের ফরমটি নিম্নরূপ-

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক অফিস/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরদের হাল নাগাদ তথ্য প্রেরণ-২০১৭: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর কর্তৃক ০৭-০৩-০১৭ তারিখে প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরাধীন অফিস/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সৃষ্ট পদ, কর্মরত পদ এবং শূন্য পদের হাল নাগাদ তথ্যাদি প্রেরণের ছকে ১নং. ক্রমিকে   প্রদর্শক, ২নং. ক্রমিকে সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার এবং ৩নং ক্রমিকে শরীরচর্চা শিক্ষকের নাম রাখা হয়েছে। এভাবে অন্যান্য ৩১ জনের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নাম তারা ঠিক করে দিয়েছেন এবং তথ্য চেয়েছেন। এই সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনটিই আমাদেরকে সবচেয়ে বেশী অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এটিও পুনরায় সংশোধিত আকারে জারি করানোর জন্য আমাদের ল্যাব নেতৃবৃন্দ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু  চেষ্টার ফসল কবে ঘরে তুলতে পারবো তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তবে আমাদের নেতৃবৃন্দ আন্তরিকতার সঙ্গে যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। এতো গেলো ইন্টারমিডিয়েট কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিকদের কথা। এখন বলবো ডিগ্রি কলেজর গ্রন্থাগারিকদের কথা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন- ১৯৯৮ : ডিগ্রি কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং ডিগ্রি কলেজের সবাইকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর ১৯৯৮ সালের ২৫ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত সর্ব প্রথম একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে প্রজ্ঞাপনে ২ এর (চ) অনুচ্ছেদে ‘শিক্ষকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,“শিক্ষক অর্থ হচ্ছে অর্থ কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক অথবা এমন কোন ব্যক্তি যিনি কলেজে শিক্ষা দানের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। (কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিক, ডেমোনেস্ট্রেটর ও শরীরচর্চা শিক্ষক কলেজের শিক্ষক হিসাবে গণ্য হবেন)। এ প্রজ্ঞাপনটি জারি হবার পর ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিকরা মোটামুঠিভাবে শিক্ষক হিসাবে কাগজে কলমে থাকলেও আমাদের আত্মতৃপ্তি ছিল যে “গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল। প্রজ্ঞাপনটি থাকার কারণে আমারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেটিকে কাজে লাগাতে পারতাম।  কেহ মানুক আর না মানুক অনন্ত কাগজে-কলমেতো আমরাতো শিক্ষক ছিলাম। তাছাড়া আমাদের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে আমাদের ভোটাধিকার ছিল। কিন্ত ঐ যে প্রবাদ বাক্য,“ভাঙ্গা কপালে সুখ বেশীদিন সহ্য হয় না!”

মাউশির ২০০৯ সংশোধিত প্রবিধান : ২২ডিসেম্বর ২০১৬ সালে মাউশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্ভাণিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) ২০০৯ এর প্রবিধান সংশোধনপূর্বক জারি করে ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষকের নাম থেকে বাদ দিয়ে দেন। সেখানে ক্রমিক নম্বর ৩এর প্রবিধান ২ঠ এ প্রতিস্থাপন ও সংযোজন করে বলা হয়েছে, ‘প্রদর্শক’ শব্দটির পর ‘ইনস্ট্রাকটর’ শব্দটি বসবে এবং দ্বিতীয় লাইন হিসাবে যুক্ত হবে “গ্রন্থাগারিক, সহকারী গ্রন্থাগারিক এবং অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য বা খণ্ডকালীন শিক্ষাদানের জন্য নিযুক্ত কোন ব্যক্তি শিক্ষক হিসাবে গণ্য হবেন না।”আমার জানার বিষয় হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষকের মর্যাদা দিল সেখানে  মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তর কিভাবে সে মর্যাদা কেড়ে নেয়? এর প্রতিবাদ কি আমাদের ল্যাব নেতারা যথাযথভাবে করেছিলেন? জানিনা করেছিরেন কিনা? তবে আমাদের নেতৃবৃন্দদের উচিত ছিল প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ হবার সাথে সাথে সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করে এর প্রতিকার চাওয়া এবং মাঝে মাঝে ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া। নেতৃবৃন্দরা অনন্ত ভিসি স্যারকে বুঝাতে পারতেন, স্যার আপনি ১৯৯৮ সালে ২৫ জুলায়ের প্রজ্ঞাপনে যেখানে ডিগ্রি কলেজের যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষক হিসাবে মর্যাদা দিয়েছেন, সেখানে মাউশি কিভাবে গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষক হিসাবে মর্যাদা কেড়ে নেয়। আমাদের নেতৃবৃন্দ যদি এতটুকু কাজ করতেন বা এখনও আন্তরিকতার সঙ্গে করেন তাহলে হয়তো আমরা অনন্ত ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিকেরা শিক্ষকের মর্যাদা ফিরে পেতাম বলে আমি বিশ্বাস করি।

এমনিভাবে আলোচনা করলে দেখা যায় যে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর (মাউশি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক এক সময় এক এক ধরনের পরস্পর বিরোধী প্রজ্ঞাপন জারি করার ফলে গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকেরা মর্যাদার প্রশ্নে এক চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষকের মর্যাদা দিলেও শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনে আমাদেরকে শিক্ষকের মর্যাদা দেয়া হয়নি। বরং কোন কোন প্রজ্ঞাপনে গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদেরকে কখনও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, আবার কখনও অশিক্ষক কর্মচারী, আবার কখনও নন টিচিং স্টাফের মধ্যে ফেলে আমাদের মর্যাদাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। যার ফলে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদেরকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে চাকুরি করতে হচ্ছে। এ কারণে আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের নিকট আমরা আজও শিক্ষক হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠতে পারেননি।  সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অধিকাংশই মনে করেন গ্রন্থাগারিক বা সহকারী গ্রন্থাগারিক অফিস স্টাফেরই একজন এবং তিনি  ‘ক্লারিক্যাল জব’ করে থাকেন। এর মধ্যে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে আত্মীকরণ প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের নিয়ে। তাদের প্রাপ্ত স্কেলের এক ধাপ নিচে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ প্রভাষকদের স্কেলে হাত দেয়া হচ্ছে না। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে কলেজের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা না থাকায় ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিকরা শিক্ষক হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে সর্বদা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। কারণ তারা ঐ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন মানেন না। তারা সাম্প্রতিক প্রকাশিত বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করে বলেন আপনারা শিক্ষক নন। উদাহরণ হিসেবে শিক্ষকরা ‘রিভাইজড রুলস  ফর  ক্লাস  থ্রি  এন্ড  ষ্টাফ’ এর  শিরোনামে  মাধ্যমিক ও উচ্চ  মাধ্যমিক  শিক্ষা  বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক ০১-০৪-০১৩ তারিখের  প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করেন।  সেখানে  ক্রমিক নম্বর ৩ এর প্রবিধান-২ঠ এ প্রতিস্থাপন ও সংযোজনে বলা হয়েছে,“গ্রন্থাগারিক, সহকারী গ্রন্থাগারিক এবং অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য বা খণ্ডকালীন শিক্ষাদানের জন্য নিযুক্ত কোন ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে গণ্য হবেন না।” আবার ঐ একই প্রজ্ঞাপনে প্রবিধান-২খ এ সংযোজনে বলা হয়েছে,“সাধারণ শিক্ষক বলতে প্রধান শিক্ষক/ সহকারী প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ /উপাধ্যক্ষ ব্যতীত অপরাপর শিক্ষকগণকে বোঝাইবে।” এর বিপরীতে আমরা ১৯৯৮ সালের ২৫শে জুলাই প্রকাশিত জাতীয় বিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন ছাড়া আর কোন প্রজ্ঞাপন বা সুনিদিষ্ট কোন নীতিমালা আমরা শিক্ষকদেরকে দেখাতে পারি না। শিক্ষকরা হালনাগাদ প্রজ্ঞাপন দেখতে চান, যেখানে আমাদেরকে শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে হাল নাগাদের এমন কোন প্রজ্ঞাপন নেই যেখানে আমাদেরকে শিক্ষকের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ফলে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেভাবে পারছে সেভাবে আমাদেরকে ব্যবহার করছে এবং আমরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বাদ পড়ছি। যেমন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিতে পারছি না, বিভিন্ন কমিটিতে আমাদেরকে রাখা হয় না, পরীক্ষার হলে ডিউটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং হাজিরা রেজিষ্টারে সর্ব নিম্নে স্বাক্ষর করতে হয়। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে আবার সহকারী গ্রন্থাগারিকের জন্য আলাদা হাজিরা রেজিষ্টার করা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং আমাদেরকে শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা আদায় করতে হলে সর্বাগ্রে এ সমস্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে বা এর বিপরীতে পুনরায় নতুনভাবে আমরা ‘শিক্ষক’ এমন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করাতে হবে। যেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারিক বা সহকারী গ্রন্থাগারিক সবাই শিক্ষক হিসাবে গণ্য হবেন। তা না হলে এসমস্ত প্রজ্ঞাপন বহাল থাকবে আর আমরা শিক্ষকের মর্যাদা দাবী করবো এটি বাস্তব সম্মত সুচিন্তিত কোন পদক্ষেপ নয়। যা আমাদের সমস্যাকে তাড়াতাড়ি সমাধান করে দিবে। সুতরাং শিক্ষক হিসাবে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করাই আমাদের নেতৃবৃন্দের এখন প্রধান এবং একমাত্র কাজ বলে আমি মনে করি। আমাদের বর্তমান ল্যাবের নেতৃবৃন্দ যারা ক্ষমতায় আছেন আর যারা নেই; সবাই যদি একসাথে কাজ করেন তবে আশা করি আগামী ল্যাব নির্বাচনের আগেই আমরা একটি কাঙ্খিত ফলাফল দেখতে পাব। এ আশাবাদ ব্যক্ত করে আমাদের সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীবৃন্দ ও নেতৃবৃন্দদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

লেখকঃ মনজুরুল হক (এলএম-১৬২৫), লাইব্রেরিয়ান, খুলনা কলেজ, খুলনা।

Show More

Related Articles

10 Comments

  1. যেহেতু সহকারী গ্রন্থাগারিকের ষোগ্যতা বি এ/বি এসসি/ করার পর ডিপ্লোমা করতে হয় তবে কেন সম্মানের দিক থেকে শিক্ষকেেের সমান হবেনা?

  2. আপনার লিখিত তথ্য পেয়ে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাই ।

  3. অনেক সুন্দর লিখেছেন আসলে আমাদের খাট করে দেখা হয় অথছ একজন গ্রন্থাগারিক কে সবকাজের কাজী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর যেখানে বর্তমান শিক্ষক মর্যাদা নামধারীরাও গ্রন্থাগারিকের মত ভালো পড়াতে পারে না অথছো যখন শিক্ষক মর্যাদার প্রশ্ন আসে তখন আমাদের অশিক্ষক বলে চরম অপমান করা হয়।

  4. উক্ত বিষয়ে যাদের ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ও ১ বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, তাদের কে সকল ক্ষেএে পদোন্নতি আওতায় আনতে হবে এবং সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদটি কে ১ম শ্রেণীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে কারন শিক্ষা ক্ষেএে অনেক উন্নয়ন উক্ত বিভাগ টি সহ পদটি কি শিক্ষা ক্ষেএের বাইরের আংশ। উত্তরঃ না। বিবেচনা করার জন্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করছি।

  5. বাধাঃপদ দ্বয় বেশির ভাগ সময় মুল প্রতিষ্ঠানের, একটা অংশ বিশেষ তাই মুল প্রতিষ্ঠানের,প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ, সকল কর্মকতা প্রতিষ্ঠান টি অংশ বিশেষ হওয়াই সামাজিক মর্যাদা দিতে সব সময় না মত পোষণ করে এসেছেন।শিক্ষক সমাজে এই বাধা টা সব চাইতে বেশি।

  6. রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ক্ষেএে এটি বাধা নই বরং উক্ত পদদ্বয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং শিক্ষা ব্যাবস্থা কে শক্তিময় করে তোলে।

  7. বাধাঃপদ দ্বয় বেশির ভাগ সময় মুল প্রতিষ্ঠানের, একটা অংশ বিশেষ তাই মুল প্রতিষ্ঠানের,প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ, সকল কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান টি অংশ বিশেষ হওয়াই সামাজিক মর্যাদা দিতে সব সময় না মত পোষণ করে এসেছেন।শিক্ষক সমাজে এই বাধা টা সব চাইতে বেশি।

  8. মানসম্মত শিক্ষা বাস্তোবায়নের ক্ষেএে, সহকারী গ্রন্থাগারিক পদ টিকে সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ১ম শ্রেণীর পদোমর্যদা না দেওয়া টাও, একটি বাধা।

  9. আশাকরি শিক্ষামন্ত্রনালয় এ বিষয়টি আমলে নিবে।

  10. লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ নীতিমালা কি? কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সনদ গ্রহন যোগ্যতা পাবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close