Blog Post

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শন ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পঞ্চসূত্র: একটি বিশ্লেষণ

পার্থপ্রতিম রায়:পার্থপ্রতিম রায়

পার্থপ্রতিম রায় উপ-গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মরত আছেন বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনে। আলোচ্য প্রবন্ধে তিনি গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পঞ্চসূত্রের সাথে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শনের সংযোগ খুঁজেছেন। বিশ্লেষণধর্মী এই লেখাটি লেখক লিখেছেন শুধুই লাইব্রেরিয়ান ভয়েসের জন্য।   


সূচনা:

ভারতে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের জনক শিয়ালী রামামৃত রঙ্গনাথন (১৮৯২-১৯৭২) গ্রন্থাগার, গ্রন্থাগার বৃত্তি এবং বিষয় হিসাবে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের কতকগুলি মূল ভাবনা; যথা গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পঞ্চসূত্র, কোলন বর্গীকরণ, বর্গীকৃত ক্যাটালগ কোড, শৃঙ্খল নির্ঘন্ট ইত্যাদির প্রবক্তা। এগুলি গ্রন্থাগারকে সামাজিক  ভিত্তি দিয়েছে এবং গ্রন্থাগার বিজ্ঞানকে সমাজ বিজ্ঞান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ড: রঙ্গনাথন যে শুধুমাত্র গ্রন্থাগার বিজ্ঞানকে কার্যকর ও দার্শনিক ভিত্তি প্রদান করেছেন তাই নয়, তিনি গ্রন্থাগার বৃত্তিকে সুদৃঢ় ও সন্মানিত করেছেন। গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পঞ্চসূত্রের ধারনা রঙ্গনাথনের মনে সঞ্জাত হয় ১৯২৮ সালে।  সূত্রগুলি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) সারা বিশ্বে মূলত কবি হিসাবে পরিচিত ।কিন্তু তিনি ছিলেন একাধারে ছোট গল্পের স্রষ্টা, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধ ও বক্তৃতামালার সুলেখক, পত্রকার, দার্শনিক,সঙ্গীত  রচনাকার, সুরকার ও গায়ক , শিক্ষা বিষয়ক নানা মৌলিক ধ্যান-ধারণার পথিকৃত, গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের প্রবর্তক, অভিনেতা, নির্দেশক, চিত্রকর এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত। সাহিত্য, গান, কলা, শিক্ষা, গ্রাম উন্নয়ন, সমবায় নীতি, জ্ঞান ও জ্ঞান সঞ্চার বিষয়ে কবির লেখা আজও প্রাসঙ্গিক। শিক্ষা বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ কোন তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করেননি, কিন্তু কবির রচিত নানা প্রবন্ধ, পত্র, অভিভাষণ ইত্যাদি থেকে তাঁর  শিক্ষাচিন্তা সম্বদ্ধে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ জীবনব্যাপী কর্মযজ্ঞে সেগুলি রূপায়ণের চেষ্টা করেছেন । গ্রন্থাগার বিষয়ে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় কবির রচনা  গ্রন্থাগার, গ্রন্থাগার বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগারিকতার কার্যকর ও দার্শনিক দিকের প্রতি আলোকপাত করেছে । এই অধ্যয়নের উদ্দেশ্য হল, গ্রন্থাগার বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গির উপর আলোকপাত করা ও বিজ্ঞানের পঞ্চসূত্রের প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ । রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর গ্রন্থাগার ভাবনা অনুধাবন।

পঞ্চসূত্র রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাগার বিষয়ক দূরদৃষ্টি:

গ্রন্থ ব্যবহারের জন্য

প্রথম সূত্র গ্রন্থাগার সংগ্রহের রক্ষণাবেক্ষণের উপর গুরুত্ব দেয় । এর মাধ্যমে গ্রন্থাগারে পাঠককে আমন্ত্রণ জানানো যায় এবং গ্রন্থাগার  সংগ্রহের সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।  রবীন্দ্রনাথের মতে “লাইব্রেরি তার যে অংশে মুখ্যতঃ জমা করে সে অংশে তার উপযোগিতা আছে, কিন্তু যে অংশে সে নিত্য ও বিচিত্রভাবে ব্যবহৃত সেই অংশে তার সার্থকতা” (১)। গ্রন্থাগারের সার্থকতা তার সংগ্রহের সংখ্যা  দিয়ে বিচার হয় না। সেখানে অধিক গুরুত্ব পায় ব্যবহারের আধিক্য । রবীন্দ্রনাথ এই বিষয়ে সচেতন ছিলেন এবং গ্রন্থাগারিকদের গ্রন্থ সংখ্যার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট না হবার জন্য সতর্ক করেছেন।  “গৃধ্নুতা মানুষের একটা প্রধান রিপু । একবার যখন সে সংগ্রহ করতে আরম্ভ করে তখন সংগ্রহের লক্ষ্য সে ভুলে যায় তাকে সংখ্যার নেশায় পেয়ে বসে”(২)। গ্রন্থগার সম্পদের যথার্থ ব্যবহারের জন্য সূচীকরণ, বর্গীকরণসহ অন্যান্য প্রলেখন (ডক্যুমেন্টটেশন) প্রয়োজন । কবির ভাষায় “লাইব্রেরিকে ব্যবহার্য করতে গেলে লাইব্রেরির পরিচয় সুস্পষ্ট ও সর্বাঙ্গসম্পূর্ণ হওয়া চাই ।নইলে তার মধ্যে প্রবেশ চলে না । সে এমন একটা শহরের মতো হয়ে ওঠে যার বাড়ীঘর বিস্তর কিন্তু পথঘাট নেই” (৩) । রবীন্দ্রনাথ ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তগত একটি কবিতায় এ প্রসঙ্গে লিখেছেনঃ

“পাষাণ-গাঁথা প্রাসাদ পরে আছেন ভাগ্যবন্ত,

মেহাগিনীর মঞ্চ জুড়ি পঞ্চহাজার গ্রন্থ,

সোনার জলে দাগ পড়ে না, খোলে কেউ পাতা

অস্বাদিত মধু যেমন যূথী অনাঘ্রাতা,

ভৃত্য নিত্য ধূলা ঝাড়ে যত্ন পূরামাত্রা,

ওরে আমার ছন্দোময়ী সেথায় করবি যাত্রা ।”(৪)

গ্রন্থাগারে পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধির  প্রসঙ্গে  রবীন্দ্রনাথ স্মরণ করিয়েছেন পাঠকরা গ্রন্থাগার তৈরী করেন এটা সম্পূর্ণ সত্য নয়, গ্রন্থাগারও পাঠক তৈরী করে। রঙ্গনাথন এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন “…a library, keen about its books being fully used, will plant itself in the midst of its clientele”(৫) তারজন্য গ্রন্থাগারকে প্রথাগত আমন্ত্রণের উর্দ্ধে উঠতে হবে। “সাধারণতঃ লাইব্রেরি বলে থাকে, আমার গ্রন্থতালিকা আছে,স্বয়ং দেখে নেও, বেছে নেও। কিন্তু তালিকার মধ্যে আহ্বান নেই,পরিচয় নেই, তার তরফে কোনো আগ্রহ নেই। যে লাইব্রেরির মধ্যে তার নিজের আগ্রহের পরিচয় পাই, যে নিজে এগিয়ে গিয়ে পাঠককে অভ্যর্থনা করে আনে, তাকেই বলি বদান্য- সেই বড়ো  লাইব্রেরি-আকৃতিতে নয়, প্রকৃতিতে।” (৬)

গ্রন্থ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যবহারের জন্য যথাযতভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। গ্রন্থাগারের  অন্যতম  কাজ হল গ্রন্থ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাতে সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত, বিনষ্ট বা ধ্বংস প্রাপ্ত না হয়। রবীন্দ্রনাথ ‘গ্রন্থকীট’ ও ‘কীটের বিচার’ নামক দুটি কবিতায় কীটের প্রকৃতি এবং কিভাবে তাঁরা গ্রন্থের ক্ষতি করে তার বর্ণনা দিয়েছেন (৭)। শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমের কার্যপ্রণালীতে এ প্রসঙ্গে উল্লেখিত হয়েছে, “লাইব্রেরি গোছানো, ঘর পরিপাটি রাখা, বাগানের যত্ন করা এ সমস্ত কাজের ভার যথাসম্ভব ছাত্রদের প্রতিই অর্পণ করা উচিত জানিবেন”(৮)। গ্রন্থের যত্নের প্রতি রবীন্দ্রনাথের আগ্রহের কথা সুবোধ চন্দ্র মজুমদারকে লেখা কবির পত্র থেকে জানা যায় । “Religious Systems এবং Origin of Aryans বই দুখানি পাঠাইলাম। লাইব্রেরিতে রাখিও । লাইব্রেরি ঝাড়িয়া তাহার মধ্যে নূতন করিয়া ন্যাপথলিন দিবে” (৯)


গ্রন্থ নির্বাচন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন,

“এখানে ভোজের আয়োজন যা থাকবে সমস্তই সাদরে পাঠকের পাতে দেবার যোগ্য; আর লাইব্রেরিয়ানের থাকবে গুদাম-রক্ষকের যোগ্যতা নয়, আতিথ্যপালনের যোগ্যতা”।


প্রতিটি পাঠকের জন্য গ্রন্থ ; প্রতিটি গ্রন্থের জন্য পাঠক

দ্বিতীয় ও তৃতীয় সূত্র আলোকপাত করে গ্রন্থাগার ব্যবহারকারী এবং ব্যবহারযোগ্য উপাদানের উপর । এই সূত্র দুটি সকলের জন্য বই –এর সংস্থান করতে সচেষ্ট হয়  । গ্রন্থাগার সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য রবীন্দ্রনাথ মনে করেন লাইব্রেরির সম্পদ পাঠকের সামনে তুলে ধরতে হবে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে । কারণ “…লাইব্রেরির নিজের একটা দায় আছে । সে হচ্ছে  তার সম্পদের দায় । যেহেতু তার বই আছে সেইতেতু সেই বইগুলি পড়িয়ে দিতে পারলেই তবে সে ধন্য হয় । সে অক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে না, সক্রিয়ভাবে যেন ডাক দিতে পারে। কেননা, তন্নষ্টং যন্ন দীয়তে” (১০)। এই সূত্রগুলির সঠিক প্রয়োগের জন্য সঠিক গ্রন্থ নির্বাচনের গুরুত্ব অসীম । গ্রন্থ নির্বাচন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “এখানে ভোজের আয়োজন যা থাকবে সমস্তই সাদরে পাঠকের পাতে দেবার যোগ্য; আর লাইব্রেরিয়ানের থাকবে গুদাম-রক্ষকের যোগ্যতা নয়, আতিথ্যপালনের যোগ্যতা”(১১)। সঠিক গ্রন্থ নির্বাচন বা ‘judgement of choice’ প্রসঙ্গে রঙ্গনাথনের বক্তব্যের মূল সুর একই “ As a matter of fact, it may even be said that it is not so much to the size of the library as to the choice of its collections that the Second Law looks for the fulfillment of its message”(১২).

একটি ভালো বই অনেক অজানা জিনিস জানতে সাহায্য করার পাশাপাশি মানুষের চরিত্র গঠন এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । বই থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যায়, সে সব তথ্য ঐ স্থানে গিয়ে  সংগ্রহ করা সম্ভব নয় ।  গ্রন্থ বন্ধুসম, যার সঙ্গে ভাবের, ভাবনার আদান-প্রদান করা যায় । রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন “ আমার একটি নির্জনের প্রিয় বন্ধু জুটেছে- আমি লো (কেনে)র ওখেন থেকে তার একখানা Amiel’s Journal ধার করে এনেছি- যখনি সময় পাই সেই বইটা উল্টেপাল্টে দেখি। ঠিক মনে হয় তার সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে কথা কচ্ছি। এমন অন্তরঙ্গ বন্ধু আর খুব অল্প ছাপার বইয়ে পেয়েছি ”(১৩)। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন সুপাঠক, যিনি গ্রন্থের চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হতে পারতেন । রবীন্দ্রনাথ তাঁর আত্মচরিত ‘জীবনস্মৃতি’-তে উল্লেখ করেছেন, “…রামায়ণের কোনো একটা করুণ বর্ণনায় আমার চোখ দিয়া জল পড়িতেছে, দেখিয়া দিদিমা জোর করিয়া আমার হাত হইতে বইটা কাড়িয়া লইয়া গেলেন”(১৪)। ভালো বই পাঠকের মনে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মতো  দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে।  ভালো বই নুতন ভাবনার জন্ম দেয় । এর উপর ভিত্তি করে প্রবন্ধ বা কবিতা রচনা করা যায় । কবি লিখেছেন “এখানকার লাইব্রেরিতে একখানা মেঘদূত আছে, ঝড় বৃষ্টি দুর্যোগে রুদ্ধদ্বার গৃহপ্রান্তে তাকিয়া আশ্রয় করে দীর্ঘ অপরাহ্নে সেইটি সুর করে পড়া গেছে- কেবল পড়া নয় – সেটার উপর ইনিয়ে বিনিয়ে বর্ষার উপযোগী একটা কবিতাও লিখে ফেলেছি”(১৫)। অনুরূপভাবে  চীনেম্যানের পত্র বইটি অবলম্বন করে প্রবন্ধ লেখার উল্লেখ করা যায় । আসলে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য চর্চ্চার আরম্ভ হয় গ্রন্থ পাঠের মধ্যে দিয়ে । কবির  আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’-তে এ বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায় ।

বিদ্যালয় ছাত্রদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য রবীন্দ্রনাথ ধাপে ধাপে শিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে দ্রুত পাঠ হিসাবে ইংরাজি, সংস্কৃত বই পড়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন । অনেক বিষয়ের উপর দ্রুত পাঠ্য গ্রন্থের উপযুক্ত প্রাপ্তিস্থান গ্রন্থাগার । এ প্রসঙ্গে প্রমথ নাথ বিশী স্মৃতিচারণ করেছেন, “ কথা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ একদিন বলেছিলেন যে, কলেজে বা শিক্ষকের কাছে পড়িয়া যথার্থ শিক্ষা হয় না; নিজের প্রকৃত শিক্ষক নিজে এবং শিক্ষার স্থান লাইব্রেরি; লাইব্রেরিতে যথেচ্ছ ঘুরিয়া যথেচ্ছ পড়িয়া তিনি প্রকৃত শিক্ষালাভ করিয়াছেন।”(১৬) শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছেন “ … একটা শিক্ষাপুস্তককে রীতিমত হজম করিতে অনেকগুলি পাঠ্যপুস্তকের সাহায্য আবশ্যক। আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িতে পড়িবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে; গ্রহণশক্তি ধারণাশক্তি চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বল লাভ করে”। (১৭) অর্থাৎ রবীন্দ্র শিক্ষা ভাবনায় অত্যাবশক পাঠ্যগ্রন্থের সঙ্গে স্বাধীন পঠনের  গুরুত্ব অধিক । আর এই স্বাধীন পাঠের স্থান অবশ্যই গ্রন্থাগার । গ্রন্থাগারের দায়িত্ব প্রতিটি পাঠকের জন্য গ্রন্থের সংস্থান করা।


গ্রন্থাগারিক শুধুমাত্র ভান্ডারি নন, তিনি গ্রন্থ এবং পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধনের  কান্ডারি ।


পাঠকের সময় বাঁচা

চতুর্থ সূত্র টি পাঠক ও গ্রন্থাগার সংগঠন কেন্দ্রিক । যার মূল উদ্দেশ্য গ্রন্থাগার সম্পদের যথার্থ ব্যবহারের পথ প্রশস্থ করা । এই সূত্রের সঠিক রূপায়নের জন্য  গ্রন্থের বর্গীকরণ, সূচীকরণ, গ্রন্থসম্ভারে নানাপ্রকার নির্দেশিকা ইত্যাদির প্রয়োজন আছে। অর্থাৎ গ্রন্থের পরিচয় সুস্পষ্ট ও সর্বাঙ্গসুন্দর করার সবরকমের প্রচেষ্টা প্রয়োজন । এইসব কৌশল  ছাড়াও   গ্রন্থাগারিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে । এপ্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ  উল্লেখ করেছেন “ প্রত্যেক লাইব্রেরির অন্তরঙ্গ-সভ্য-রূপে একটি বিশেষ পাঠকমন্ডলী থাকা চাই ।সেই মন্ডলীই লাইব্রেরিকে প্রাণ দেয় । লাইব্রেরিয়ান যদি এই মন্ডলীকে তৈরি করে তুলে একে আকৃষ্ট করে রাখতে পারেন তবেই বুঝব তাঁর কৃতিত্ব ।এই মন্ডলীর সঙ্গে তাঁর লাইব্রেরির মর্মগত সম্বন্ধ-স্থাপনের তিনি মধ্যস্থ।”(১৮) তিনি আরোও উল্লেখ করেছেন, “ যে বইগুলি লাইব্রেরিয়ান সংগ্রহ করতে পেরেছেন কেবল তাদের সম্বদ্ধেই লাইব্রেরিয়ানের কর্তব্য আবদ্ধ নয় । তাঁর জানা থাকা চাই, বিষয় বিশেষের জন্য প্রধান অধ্যয়নযোগ্য কী কী বই প্রকাশিত হচ্ছে ।”(১৯) গ্রন্থাগারিক শুধুমাত্র ভান্ডারি নন,তিনি গ্রন্থ এবং পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধনের  কান্ডারি।

অতিথি পরায়ণ গ্রন্থাগারিক একজন অনিয়মিত গ্রন্থাগার ব্যবহাকারীকে নিয়মিত ব্যবহাকারীতে পরিবর্তন করতে পারেন। কবির ভাষায় “ এখানে (গ্রন্থাগারে) ভোজের যা আয়োজন থাকবে সমস্তই সাদরে পাঠকের পাতে দেবার যোগ্য; আর লাইব্রেরিয়ানের থাকবে গুদাম-রক্ষকের যোগ্যতা নয়, অতিথ্যপালনের যোগ্যতা।”(২০) তাই শিক্ষাগত বা বৃত্তিমমূলক যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গে গ্রন্থাগারিককে নানা মানবিক গুন অর্জন করতে  হবে। তবেই চতুর্থ সূত্রটির যথার্থ রূপায়ন সম্ভব । কবি রাশিয়ার গ্রন্থাগারের কার্যকারিতার সঙ্গে শান্তিনিকেতন গ্রন্থাগারের তুলনা করে উল্লেখ করেছেন “ সে ম্যুজিয়াম আমাদের শান্তিনিকেতন লাইব্রেরির মত অকারি ( Passive) নয়- সকারি ( Active)।”(২১) রঙ্গনাথন পঞ্চসূত্রের গ্রন্থটিতে একইভাবে উল্লেখ করেছেন “…it is the Library Staff that ultimately make or mar a library”. (২২)

গ্রন্থাগার একটি ক্রমবর্ধমান অবয়ব

পঞ্চম সূত্রে গ্রন্থাগারকে একটি  প্রানবন্ত জীবদেহের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে । একটি ক্রমবর্ধমান অবয়বই বেঁচে থাকতে পারে। এই সূত্রটি গ্রন্থাগারের আভ্যন্তরিন পরিবর্তনের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে । এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ কাব্যিক ভাষায় লিখেছেন “..the growth of this school was the growth of my life and not that of a mere carrying out of my doctrines, its ideals changed with its maturity like a ripening fruit that not only grows in its bulk and deepens in its colours, but undergoes change in the very quality of its inner pulp”(২৩) গ্রন্থাগারের দুই প্রকার বৃদ্ধিই যথা- শিশু ক্রমবৃদ্ধি ও বয়স্ক ক্রমবৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করেই গ্রন্থাগারে সামগ্রিক বিকাশ পরিকল্পনা গ্রহন ও রূপায়ণ করা প্রয়োজন । কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হয় না । রঙ্গনাথন এবিষয়ে সতর্ক করেছেন “ The modesty with which library authorities under estimate the rate of growth of each of these factors is unimaginable… a far less pardonable thing is to set about organizing a library as if it would be stationary, as if neither the books, nor the readers , nor the staff would grow in number”.(২৪)

রবীন্দ্রনাথ শুধুমাত্র স্বপ্ন দেখতেন না । তাঁর গ্রন্থাগার তথা শিক্ষা বিষয়ক ধারণাগুলিকে বাস্তব আকার দেবার চেষ্টা করেছেন শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই । শান্তিনিকেতনে শিক্ষা এবং গ্রন্থাগারের সৃষ্টি ও বিকাশের কথা শান্তিনিকেতন ট্রষ্ট দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে “ এই ট্রষ্টের উদ্দিষ্ট আশ্রম ধর্মের উন্নতির জন্য ট্রষ্টীগন শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মবিদ্যালয় ও পুস্তকালয় সংস্থাপন করিতে পারিবেন ।”(২৫) রবীন্দ্রনাথ এ প্রসঙ্গে লিখেছেন “…তিনটি ঘরের একটিতে রক্ষিত হল পিতৃদেবের পুস্তক সংগ্রহ ।আগে ব্যবস্থা হল পুঁথিপুস্তকের অতঃপর ভাবনা হল ছাত্রদের আবাসগৃহ কোথায় করা যায় ।” (২৬) তাই শান্তিনিকেতন আশ্রমের সূচনা পর্ব থেকেই মুক্তমঞ্চ গ্রন্থগারের জন্ম ও বিকাশ ঘটেছে  স্বয়ং কবির প্রত্যক্ষ সহায়তায় । রঙ্গনাথনও মনে করেন গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পঞ্চসূত্রের যথার্থ রূপায়নের জন্য মুক্তমঞ্চ গ্রন্থগার প্রয়োজন । “Practically every Law of Library science  presses the case for Open Access…”(২৭)

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শন:

শিক্ষা হল মানুষের জীবনীশক্তির বিকাশ বা জাগরণ। এখানে জাগরণ বলতে বোঝায় মঙ্গলের পথে ধারাবাহিক উত্তরণ । শিক্ষার উদ্দেশ্য সত্যের একতা প্রতিষ্ঠা। শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছেন “ We have come to this world, to accept it or not merely to know it. We may become powerful by knowledge, but we attain fullness by sympathy. The highest education is that which does not merely give us information but makes our life in harmony with all existence”(২৮) রবীন্দ্রনাথ তাঁর কথা এবং কাজের মাধ্যমে সচেষ্ট   হয়েছেন  শিক্ষা, স্বাধীনতার বিকাশ ঘটাতে । এই স্বাধীনতা হল অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্তির স্বাধীনতা, বদ্ধ-সংস্কার থেকে মুক্তির স্বাধীনতা।   ভারতীয় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য  প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন “ভান্ডারপূরণ তার লক্ষ্য ছিল না; তার উদ্দেশ্য ছিল সর্বজনীন চিত্তের উদ্দীপন,উদ্বোধন, চরিত্রসৃষ্টি। পরিপূর্ণ মনুষ্যত্বের যে আদর্শ জ্ঞানে কর্মে হৃদয়ভাবে ভারতের মনে উদ্ভাসিত হয়েছিল এই উদ্যোগ তাকেই সঞ্চারিত করতে চেয়েছিল চিরদিনের জন্য সর্বসাধারণের জীবনের মধ্যে, তার আর্থিক ও পারমার্থিক সদ্গতির দিকে, কেবলমাত্র তার বুদ্ধিতে নয়”(২৯)। চার দেওয়ালের শিক্ষার সঙ্গে সমাজের যোগসূত্র স্থাপনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার স্থাপনের উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন । কারণ তিনি মনে করেছিলেন “কলেজের বাহিরে যে দেশ পড়িয়া আছে তাহার মহত্ত্ব একেবারে ভুলিলে চলিবে না । কলেজের শিক্ষার সঙ্গে দেশের একটা স্বাভাবিক যোগ স্থাপন করিতে হইবে ।”(৩০) সেই কারণে রবীন্দ্রনাথ শ্রীনিকেতন সংলগ্ন গ্রামের সঙ্গে বিশ্বভারতীর যোগসূত্র স্থাপনের জন্য ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার ‘চলন্তিকা’ প্রচলন করেছিলেন ১৯২৫ সালে ।

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শণ মূলত চিন্তা বা ভাবনার স্বাধীনতা  হৃদয়ের স্বাধীনতা   এবং  ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা –এই তিন প্রকার স্বাধীনতার ধারনার উপর প্রতিষ্ঠিত । স্বাধীনতার ধারণাকে ব্যাখ্যা করে তিনি আরোও উল্লেখ করেছেন, “ as God himself finds his own freedom in his own creation and then nature is fulfilled, human beings have to create their own world and then they can have their freedom”(৩১) এই স্বাধীনতা কেবল মনের প্রসারতার উপর নির্ভর করে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেছেন, “ What is space? It is freedom, not emptiness. Through this freedom of space child life finds its own voice….”(৩২) রবীন্দ্রনাথ ব্যক্ত করেছেন, “deep rooted convictions that only through freedom can man attain his fullness of growth”(৩৩) মানুষের পূর্ণতা প্রাপ্তির এই ক্রমবর্ধমান আকাঙ্খার দুটি পরস্পর সংযুক্ত উপাদান আছে- একটি হল ব্যক্তিগত পূর্ণতা ও অপরটি হল সামাজিক পূর্ণতা । এই দুই ধরনের পূর্ণতা একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী । একটি অপরটির পরিপূরক । গ্রন্থাগার মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা, মনের প্রসারতার ক্ষেত্রকে গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত তথ্য, জ্ঞান সঞ্চারের মাধ্যমে বিস্তৃত করে।

“যাহা-কিছু জানিবার যোগ্য তাহাই বিদ্যা, তাহা পুরুষকেও জানিতে হইবে , মেয়েকেও জানিতে হইবে- শুধু কাজে খাটাইবার জন্য যে তাহা নয়, জানিবার জন্যই ।মানুষ জানিতে চায় সেটা তার ধর্ম; এইজন্য জগতের আবশ্যক অনাবশ্যক সকল তত্ত্বই তার কাছে বিদ্যা হইয়া উঠিয়াছে ।”(৩৪) আর গ্রন্থাগারের কাজই হল সকল তত্ত্ব, তথ্য সংগ্রহ, বিন্যাস ও সরবরাহ করা ।রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছেন, “we have come to this world, to accept it and not merely to know it . We may become powerful by knowledge,but we attain fullness by sympathy. The highest education is that which does not merely give us information but makes our life in harmony with all existence”(৩৫) এখানে শিক্ষার সামাজিক ভূমিকার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে । জ্ঞান সঞ্চারের ক্ষেত্রে কোন জাতি বা ধর্মের বিচার চলে না । মানুষের দ্বারা সৃষ্ট সকল জ্ঞানে সকলের অধিকার আছে। কারণ এই জ্ঞান একক ব্যক্তি বা দেশের সৃষ্ট নয় । পৃথিবীর সকল দেশের সর্বকালের সব মানুষের সৃষ্ট জ্ঞানের ধারা জ্ঞানসমুদ্র সৃষ্টি করেছে । বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার অপরিহার্য্য অংশ হিসাবে গ্রন্থাগার বিশ্বজনীন জ্ঞান সংগ্রহ ও সরবরাহ কেন্দ্র হিসাবে রবীন্দ্র শিক্ষা দর্শনের মূলভাবটিকে পরিপূর্ণ করতে তৎপর ।

উপসংহার:

রঙ্গনাথন গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের পঞ্চসূ্ত্রে প্রত্যেক (every) শব্দটির উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন । অর্থাৎ সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য গ্রন্থ । তিনি মনে করেন “..in libraries books are collected for USE, prepared for USE, kept for USE and served for USE”(৩৬) জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশের অধিকার সকলের। আর এই অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব রাষ্টের । এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম গ্রন্থাগার । তাই গ্রন্থাগার একটি কার্যকরী সামাজিক প্রতিষ্ঠান । সামাজিক উন্নয়ন বা বিকাশের জন্য  ব্যক্তি স্বাতন্ত্র বজায় রেখে আনন্দের সঙ্গে জ্ঞান সরবরাহ   গ্রন্থাগারের দায়  । রবীন্দ্রনাথ কাব্যিক ভাষায় গ্রন্থাগারের যে কার্যগত ও দার্শনিক দূরদৃষ্টির কথা বলেছেন তা কবির শিক্ষা দর্শনের উপর  প্রতিষ্ঠিত। এটি কার্যকর করার জন্য সমস্ত ধরনের স্বাধীনতা প্রদানের মাধ্যমে গ্রন্থাগারের সক্রিয় ভূমিকা পালন আবশ্যিক । তবেই শিক্ষার সঙ্গে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমাজের যোগ স্থাপিত হবে এবং ব্যক্তির পূর্ণতার সঙ্গে  সঙ্গে সামাজিক পূর্ণতা আসবে ।


তথ্যসূত্র:

  • ১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।লাইব্রেরির মুখ্য কর্তব্য । বালক পত্রিকা,পৌষ সংখ্যা, ১২৯২ ।
  • ২। তদেব ।
  • ৩। তদেব ।
  • ৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।ক্ষণিকা ।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩৫৯ ব.।পৃ.২৩ ।
  • ৫। Ranganathan(SR). The Five laws of library science. Bangalore: Sarada Ranganathan Endowment for Library Science, 1957 (rep. 1988). p.33.
  • ৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।লাইব্রেরির মুখ্য কর্তব্য । বালক পত্রিকা,পৌষ সংখ্যা, ১২৯২ ।
  • ৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।কণিকা । কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩০৬ ব.।পৃ.৫ ।
  • ৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্য্যাশ্রম ।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩৩৮ ব.।পৃ.৩১-৩২ ।
  • ৯। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।কথা সাহিত্য, অগ্রহায়ন, ১৩৬৭। পৃ.২৬৭।
  • ১০। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।লাইব্রেরির মুখ্য কর্তব্য । বালক পত্রিকা,পৌষ সংখ্যা, ১২৯২ ।
  • ১১। তদেব।
  • ১২। Ranganathan(SR). The Five laws of library science. Bangalore: Sarada Ranganathan Endowment for Library Science, 1957 (rep. 1988). P.243.
  • ১৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।ছিন্ন পত্রাবলী। ।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩৬৭ ব.।পৃ.২৫১-২৫২ ।
  • ১৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।জীবন-স্মৃতি ।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩৩৫ ব.।পৃ.৮ ।
  • ১৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।চিঠিপত্র,৫ম খন্ড ।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩৫২ ব.।পৃ.১৩৯ ।
  • ১৬। প্রমথ নাথ বিশী।রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩৫৩ ব.।পৃ.১২৮।
  • ১৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।শিক্ষার হেরফের মধ্যে শিক্ষা।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৪১২ ব.।পৃ.৮।
  • ১৮। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।লাইব্রেরির মুখ্য কর্তব্য । বালক পত্রিকা,পৌষ সংখ্যা, ১২৯২ ।
  • ১৯। তদেব।
  • ২০। তদেব।
  • ২১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।রাশিয়ার চিঠি ।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৩৬৭ ব.।পৃ.৯-১১ ।
  • ২২। Ranganathan(SR). The Five laws of library science. Bangalore: Sarada Ranganathan Endowment for Library Science, 1957 (rep. 1988). p.50.
  • ২৩। Tagore (Rabindranath). My school In Santiniketan: 1901-1951.Calcutta: Visva-Bharati Granthan Vibhaga, 1951. p.6-7.
  • ২৪। Ranganathan (SR). The Five laws of library science. Bangalore: Sarada Ranganathan Endowment for Library Science, 1957 (rep. 1988). p.327.
  • ২৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্য্যাশ্রম ।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, ১৩৫৮ ব.।পৃ.৩১-৩২ ।
  • ২৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । শান্তিনিকেতন –আদি পর্ব ।বিশ্বভারতী পত্রিকা, অগ্রহায়ন ১৩৪৯ ব.।
  • ২৭। Ranganathan(SR).Library manual for library authorities,librarians and library workers. Sarada Ranganathan Endowment for Library Science, 1960 , p.47.
  • ২৮। Tagore (Rabindranath). My school In Santiniketan: 1901-1951.Calcutta: Visva-Bharati Granthan Vibhaga, 1951. p.2.
  • ২৯।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ মধ্যে শিক্ষা।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৪১২ ব.।পৃ.২০২।
  • ৩০।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।ছাত্রদের প্রতি সম্ভাষণ মধ্যে শিক্ষা।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ,১৪১২ ব.।পৃ.২১।
  • ৩১। Tagore (Rabindranath).Schoolmaster. Modern Review, 36(3)(Oct 1924).
  • ৩২।Tagore (Rabindranath). To the child. Modern Review, 37(2)(May 1925).
  • ৩৩।Tagore (Rabindranath). Schoolmaster. Modern Review, 36(3)(Oct 1924).
  • ৩৪।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।স্ত্রীশিক্ষা মধ্যে শিক্ষা।কলকাতা:বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, ১৪১২ ব.।পৃ.১৩৮।
  • ৩৫। Tagore (Rabindranath). Personality.Calcutta: Macmillan, 1942. p.116.
  • ৩৬। Ranganathan (S R). The Five laws of library science. Bangalore: Sarada Ranganathan Endowment for Library Science, 1957 (rep. 1988). p.68.
Show More

Related Articles

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close