Blog Post

কেন বই পড়বো?

নাজিবুর রহমান নাজিমপড়িলে  বই আলোকিত হই;না পড়িলে বই অন্ধকারে রই।”

কেন বই-ই পড়তে হবে? বই পড়তে আমার ভালো লাগে না। আমি মুভি দেখবো,প্রোগ্রাম,নাটক কিংবা সিনেমা । জগতে এত বই আছে!সব বই কি এক জীবনে পড়া সম্ভব?

হ্যা,বই-ই পড়তে হবে।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ ফেসবুক, ইমো, হায়াটসঅ্যাপ, ভিডিও গেইমসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। প্রযুক্তিতে যেমন বাদ দেয়া যাবে না।বইকেও না।আপনি হয়তো ভাবছেন টেলিভিশন কিংবা সিনেমার কথা। ধরুন আপনি সিনেমা দেখছেন। তখন পুরো দৃশ্যটাই আপনার সামনে। কিন্তু একটা বই? যা আপনার রেটিনায় শুধু নীল আকাশের কথা তুলে দিবে। নীল থাকবে না ।থাকবেনা আকাশেরও কোন চিহ্ন। আপনাকে ভাবতে হয়।হারিয়ে যেতে হয় ।ভাবনার রাজ্যে।এই ভাবনাই আপনার কল্পনাশক্তিকে বৃদ্ধি করে।বই আপনার অজ্ঞতার প্রাচীর ডিঙিয়ে জ্ঞানের আলোয় আপনাকে করে আলোকিত। আত্মাকে করে পরিশুদ্ধ।

খুব দুশ্চিন্তায় আছেন?বই-ই আপনাকে শীতল করবে। ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখানো হয়, বই পড়া হচ্ছে চাপ মোকাবেলার সর্বোত্তম পন্থা। চাপ ঠেকানোর অন্যান্য পন্থা যেমন: গান শোনা, এককাপ চা কিংবা কফি পান অথবা একটু হেঁটে আসার চেয়েও কার্যকরি হলো বই পড়া।এই গবেষণায় দেখা যায়, কোনো অংশগ্রহণকারী বইয়ের পাতা উল্টানো শুরুর ছয় মিনিটের মধ্যেই তার উত্তেজনা প্রশমিত হয়ে যায় বা তিনি শীতল হয়ে যায়।এটা যেকোনো বই-ই হতে পারে, আপনি আপনার প্রাত্যহিক চাপ থেকে বইয়ের জগতে হারিয়ে যেতে পারেন, লেখকের কল্পনার জগতকে আবিষ্কার করতে পারেন।’

বই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী, বই হাসায়, কাঁদায়, তবে কখনো একা ফেলে রেখে যায় না। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস খুবই ভালো। বই আপনার চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়িয়ে দেবে আপনার জ্ঞান। বই হচ্ছে মানুষের সেই বন্ধু যে কখনো ক্ষতি করে না। আপনার বিভিন্ন সমস্যায় বইয়ের জ্ঞান আপনাকে অনেক কঠিন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

কখনো কোন রহস্য গল্প বা উপন্যাস পড়া শুরু করার প্রথম দিকে কি প্রধান রহস্যটা ধরতে পেরেছিলেন? পড়া শেষে নিজের ধারণা করা সমাধানের সাথে মিল দেখে বিস্মিত হয়েছেন এমন ঘটনা ঘটেছে কি? তাহলে বলা যায় আপনার বিশ্লেষণ ও অনুমান করার ক্ষমতা অসাধারণ।

আবার যদি রহস্যের কুলকিনারা খুঁজে নাও পেয়ে থাকেন তাহলেও কোন সমস্যা নেই। কারণ এই টান টান উত্তেজনা আপনাকে গল্প বা উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এবং গল্প শেষে আপনিও একজন কঠিন ধাঁধাঁর সমাধানকারী হিসেবে নিজেকে মনে করতে পারবেন। এই সব চর্চার মাধ্যমে আপনার অজ্ঞাতেই আপনার বিশ্লেষণ ক্ষমতার অসাধারণ উন্নতি ঘটে যাবে।

এতগুণ যে বইয়ের, তাহলে কেন আর অপেক্ষা। হাতে নিন একটা বই। হারিয়ে যান সেখানে, বইয়ের ভেতরে বা কোনো চরিত্রের সঙ্গে!

বই পড়ুন!ঘরে থাকুন।থাকুন নিরাপদেও।


নাজিবুর রহমান নাজিম

  • ২য় বর্ষ (২০১৮-১৯ সেশন)
  • ইনফরমেশন ‍সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close