Blog Post

ডিজিটাল লাইব্রেরি বনাম ভার্চুয়াল লাইব্রেরি

মনজুরুল হক:

ডিজিটাল লাইব্রেরি শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯৮৮ সালে কর্পোরেশন ফর ন্যাশনাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভসের একটি প্রতিবেদনে। আর এই ধারণাটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ১৯৯৪ সালের দিকে যখন এন. এস. এফ., ডারপা এবং নাসা বিষয়টিকে জনসমক্ষে তুলে আনে। এর আগে এ ধরনের গ্রন্থাগারকে ইলেকট্রনিক গ্রন্থাগার বা ভার্চুয়াল গ্রন্থাগারও বলা হত এবং এখনও ক্ষেত্র বিশেষে এই শব্দ দুটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। অবশ্য বর্তমানে ইলেকট্রনিক গ্রন্থাগার বলতে কেবল সরকারি পোর্টালকে বোঝায়। যেমন ফ্লোরিডা ইলেকট্রনিক পোর্টাল।

সাধারণত কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইব্রেরি কার্যক্রম পরিচালনা ও সবার জন্য নিদিষ্ট ওয়েব ঠিকানায় উন্মুক্ত করে দেয়াকে ডিজিটাল লাইব্রেরি বলা হয়। সর্বপ্রথম নাসা ১৯৯৪ সালে ই-লাইব্রেরি শব্দটি ব্যবহার করে এবং তাদের নিজস্ব তথ্যগুলো স্ক্যান করে কম্পিউটারে ঢুকিয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি চালুর সিন্ধান্ত নেয়। তারপর শুধু এগিয়ে চলা সামনের দিকে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় বড় লাইব্রেরিগুলো এখন এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে। লাখ লাখ বই কম্পিউটারে বসে ঘেঁটে দেখার মজাই আলাদা । তাছাড়া কষ্ট করে ক্যাটালগও খুঁজতে হয় না। মানুষ তার কাঙ্খিত বইটি পড়তে পারে ঘরে বসেই। শুধু তাই নয় বই কেনা, সদস্য হওয়া, একাউন্ট খোলা, ফাইন পরিশোধ করা, অভিযোগ করা ইত্যাদি কাজও ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা যায়।

আজকাল ডিজিটাল ও ভার্চুয়াল কথা দুটি খুবই ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিজিটাল ও ভর্চুয়াল লাইব্রেরির কথাও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ডিজিটাল ও ভার্চুয়াল লাইব্রেরি কী? তা অনেকেই জানেন না। আজকের বিশ্ব অর্থনীতিতে উচ্চমানের শিক্ষা সাফাল্যের পূর্বশর্ত। অর্থনৈতিক উন্নতি ও উচ্চমানের শিক্ষা একে অপরের পরিপূরক। বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয় ব্যক্তিগত, সমাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কাজে। একটি ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট আমাদের জীবন যাত্রার মানকে পরিবর্তন করে দিতে পারে।  ইন্টারনেট বদলে দিচ্ছে আমাদের চিরকালের জীবনযাত্রার মান ও কাজকে। এক কালে বই লেখা হত মাটির ফলকে, প্যাপিরাসে, চামড়ায়। তারপর এলো কাগজ, এল কাগজের বই। আর এখন এসেছে ই-বুক; যা কম্পিউটারের মাধ্যমে পড়তে হয়। ইন্টারনেট থাকলে একটি ল্যাপটপ হয়ে যায় বিশাল এক লাইব্রেরি। সনাতন পদ্ধতির লাইব্রেরির পরে আসে লাইব্রেরি অটোমেশন পদ্ধতি, এরপর ইলেক্ট্রনিক লাইব্রেরি, এরপর ডিজিটাল লাইব্রেরি এর পর আসে ভার্চুয়াল লাইব্রেরি। যা একটি অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ডিজিটাল লাইব্রেরি বা ভার্চুয়াল লাইব্রেরি বলতে এমন এক ধরনের গ্রন্থাগারকেবুঝায় যেখানে সমুদয় সাহিত্যকর্মসহ অন্যান্য গ্রন্থ বা যে কোন প্রকারের সংগ্রহই  ডিজিটাল ফরমেটে  সংরক্ষণ করা হয় এবং ডিজিটাল ফরমেটে পাঠককে পড়তে হয়। অর্থাৎ সাধারণ গ্রন্থাগার যেখানে ছাপার কাগজ, মাইক্রোফর্ম বা অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ করে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেখানে কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্যের উৎস সমূহকে সফট্ কপি সংরক্ষণ করা হয়। সফট্ কপি সংরক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বা জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল গ্রন্থাগার গড়ে তোলা যায়। আবার ইন্টারনেটের মাধ্যমে তা সমগ্র বিশ্বেও ছড়িয়ে দেয়া যায়। যেখান থেকে পাঠকরা পিডিএফ ফরমেটে তাদের কাঙ্খিত বই বা তথ্যটি পড়তে পারে।

ভার্চুয়াল লাইব্রেরি হল এক প্রকার ডিজিটাল লাইব্রেরি যা ইলেক্ট্রনিকভাবে যে তথ্যগুলো পাওয়া যায় তার একটি পোর্টাল বা লিংক প্রদান করে। যার মাধ্যমে একজন গ্রন্থাগার ব্যবহারকারি খুব সহজেই তার কাঙ্খিত তথ্য চাহিদা পূরণ করতে পারে। বর্তমান সমায়ে অত্যন্ত পরিচিত একটি শব্দ হচ্ছে ‘ডিজিটাল’। কথায় কথায় আমরা বলে থাকি ডিজিটলি ক্যামেরা, ডিজিটাল ফোন, ডিজিটাল ফরমেটে চলচ্চিত্র, ডিজিটলি লাইব্রেরি। আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরতে পরতে ডিজিটালের ছোয়া। সেই ডিজিটালে ছোয়াকে আমাদেরকে নিয়ে গেছে ভার্চুয়াল পর্যায়ে।  সে কারণে বর্তমানে আরও একধাপ এগিয়ে গড়ে উঠতে চলেছে ভার্চুয়াল লাইব্রেরি। এখানে শুধুমাত্র একটি অ্যাপের মাধ্যমে দুনিয়ার যে কোন প্রান্তে বসে নিজের কাঙ্খিত বইটি পড়া যয়। শুধু তাই নয় একটি বই একই সঙ্গে অনেক লোক পড়তে পারে। দুনিয়াজোড়া সমাদৃত এমন কিছু ডিজিটাল লাইব্রেরি হল ইউনিভার্সাল লাইব্রেরি (www.ulib.org), প্রজেক্ট গুটেনবার্গ (www.gutenberg.org), গুগুল বুকস (https//books.gogle.com)

ডিজিটাল লাইব্রেরি, ইলেক্ট্রনিক লাইব্রেরির, বা ভার্চুয়াল লাইব্রেরির ভিতর তেমন কোন পার্থক্য নেই। কারণ সব ব্যবস্থায় বই বা তথ্যসমূহকে ডিজিটালে রুপান্তরিত করতে হয়। সুতরাং ডিডিজটাল, ইলেক্ট্রনিক বা ভার্চুয়াল  লাইব্রেরি বলতে এমন একটি লাইব্রেরিকে বুঝানো হয় যেখানে সব বই, জার্নাল ও অন্যান্য তথ্যগুলোকে ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং পিডিএফ ফরমেটে পড়তে হয়।

সর্বপরি ভার্চুয়াল লাইব্রেরি হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার সমন্বিত ব্যবস্থা যেখানে লাইব্রেরির কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীগণ বাস্তব লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা ও আনন্দ লাভ করতে পারে। আসলে ভার্চুয়াল লাইব্রেরি হল একপ্রকার ডিজিটাল লাইব্রেরি যা ইলেক্ট্রনিক ভাবে যে তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে  তার একটি পোর্টাল বা লিংক প্রদান করে থাকে যার মাধ্যমে একজন গ্রন্থাগার ব্যবহারকারি খুব সহজেই তার কাঙ্খিত তথ্য চাহিদা পূরুণ করতে পারে।

বর্তমানে এন্ড্রয়েড স্মার্টফেনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবার ফলে ডিজিটাল লাইব্রেরি ভার্চুয়াল লাইব্রেরির ই-বুক বা পিডিএফ বইয়ের প্রচলনটা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এর কারণ হিসাবে বলা যায় ই-বুক বা পিডিএফ বইগুলো ফ্রি পাওয়া যায়। বর্তমানে বাংলা পিডিএফ বইয়ের সইটের কিছু ঠিকানা নিচে দেয়া হল। যেখান থেকে বাংলা ভাষাভাষি মানুষেরা তাদের চাহিদা মত বই পড়তে পারে। যেমন- ১. Banglapdf.net ২. Amarboi.com  ৩. Allbdbooks.com ৪. Aejutipdf.cf


লেখক: মনজুরুল হক

লাইব্রেরিয়ান, খুলনা কলেজ, খুলনা

Show More

Related Articles

One Comment

  1. library science বিষয়ক ই-বুক (বাংলায়) কোন ওয়েব সাইট এ পেতে সক্ষম হব। যদি এক টু বলেন আপনাদের নিকট বাধিত থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close