Blog Post

পেশা হিসাবে গ্রন্থাগারিকতার সমস্যা এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা : স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা

‘পেশা হিসাবে গ্রন্থাগারিকতার সমস্যা এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ এ লেখাটি একদিকে যেমন আমার সুদীর্ঘ চাকুরি জীবনের অভিজ্ঞতার ফসল তেমনি প্রাসঙ্গিক ভাবনাটি আমার একান্ত নিজস্ব চিন্তা-চেতনার ফসল। সুতরাং অনেকের সাথে আমার এ চিন্তাধারা নাও মিলতে পারে। সে জন্য আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করি। গ্রন্থাগার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হৃদপিন্ড- হলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হৃদপিন্ড- স্বরূপ গ্রন্থাগার ব্যবস্থা বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার গ্রন্থাগার ব্যবস্থা বড় রুগ্ন ও করুণ। তার চেয়ে করুণ ও হতাশাগ্রস্থ হল গ্রন্থাগারের সঙ্গে সম্পর্কিত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার গ্রন্থাগারিকতা পেশা। মানুষ তার সৃষ্টি কর্মকে ধরে রাখার জন্য যেমন গ্রন্থাগারের সৃষ্টি করেছে; তেমনি গ্রন্থাগারকে সুষ্ঠভাবে ব্যবহার ও পরিচালনার জন্য গ্রন্থাগারিকতা পেশার সৃষ্টি হয়েছে। বলা যায় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠান হিসাবে এবং গ্রন্থাগারিকতা পেশা হিসাবে সভ্যতার আদিযুগ থেকে একই সময়ে ও একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে। অতপর সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিকতা পেশা আজ এ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। সৃজনশীল সৃষ্টি ও নিত্য নতুন আবিষ্কার এবং জ্ঞানের সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য আজ সর্বপ্রকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রন্থাগার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। গ্রন্থাগার আজ সভ্যতার ধারক, বাহক ও গবেষণার ক্ষেত্র হিসাবে সর্বজন স্বীকৃত এক অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিত। সেই একই কারণে সর্বপ্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও গ্রন্থাগার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। গ্রন্থাগার ছাড়া যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কল্পনা করা যায় না, তেমনি গ্রন্থাগার ব্যবহার ছাড়া শিক্ষা পরিপূর্ণতা পায় না। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভিত্তি হল কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার সফলতার সহায়ক শক্তি হল সমৃদ্ধশালী কলেজ গ্রন্থাগার। কলেজ গ্রন্থাগার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকার মাঝে সেবা প্রদান করে থাকেন গ্রন্থাগারিক বা সহকারি গ্রন্থাগারিক। আধুনিক যুগে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়তা করা ও ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ১৯৫৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যতগুলো শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রণীত হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যেমন গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে, তেমনি গ্রন্থাগারিকতার মান উন্নয়নের জন্য ইনষ্টিটিউট স্থাপন করা, উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, গ্রন্থাগারিকদের বেতন বৃদ্ধি করা সহ অন্যান্য সূয়োগ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিকতা সম্পর্কিত কোন সুপারিশমালাই বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারণেই বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রসার গ্রন্থাগারসমূহ ও গ্রন্থাগারিকতা পেশার এই বেহাল অবস্থা। আমরা জানি রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানের যেমন উন্নয়ন ঘটে না; তেমনি কোন পেশারও সামাজিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না।

গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিকতা পেশার নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৫৬ সালে জন্ম হয় বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারের মান উন্নয়ন ও গ্রন্থাগারিকদের ভাগ্য উন্নয়নের একমাত্র সংগঠন হল এই বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি।

জন্মলগ্ন থেকেই সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের নানাবিধ সমস্যা সমূহের কিছু কিছু সমাধান করলেও অধিকাংশ সমস্যা এখনও সেই সমস্যাই রয়ে গেছে। যা এখন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করেছে। তবুও সংগঠনটি বর্তমানে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যে সমস্ত দাবীদাবা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে তা খুবই প্রশংসানীয়। সরকারের কাছে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির দাবীসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান এবং একমাত্র বলিষ্ঠ দাবী হল গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষকের সমান মর্যাদা ও সমবেতন স্কেল আদায় করা।

এই দাবীটির সমার্থনে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি গ্রন্থাগারিকদের পদমর্যাদার শ্রেণিবিন্যাসের যে দাবী করেছেন সেটিও খুবই যুক্তিসঙ্গত, সময় উপযোগী ও প্রশংসার দাবীদার। গ্রন্থাগারিকগণ হবেন প্রভাষকের সমান মর্যাদা ও সমবেতন স্কেলের অধিকারী। তদ্রুপ সহকারি গ্রন্থাগারিক, সহযোগী গ্রন্থাগারিক ও চীপ গ্রন্থাগারিকের পদ প্রবর্তন করে উক্ত পদসমূহে গ্রন্থাগারিকরা উন্নীত হলে তারাও হবেন যথাক্রমে সহকারি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের সমান মর্যাদাপূর্ণ ও সমবেতন স্কেলের অধিকারী। বাংলাদেশের সমস্ত কলেজ গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকরা এ দাবীটির পক্ষে জোর সমার্থন জানাবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এ দাবীটির বাইরেও কলেজ গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকেরা আরও নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যেগুলো সবার আগে সমাধানের প্রয়োজন। সে সমস্যাগুলো সমাধান না হলে আমাদের প্রাণের দাবী, আমরা যে শিক্ষক; তা বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে বা আরও পিছিয়ে যাবে। এ সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য একজন গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিক তার পেশা, পদমর্যাদা ও স্কেল প্রাপ্তির জন্য যে সমস্ত সমস্যার বা বাঁধার সম্মুখীন হন তার কারণসমূহ নিন্মরূপ। যেমন-

১। গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারি : বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারির কারণে বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের নিকট গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকগণ শিক্ষক হিসাবে আজও পরিচিত হয়ে উঠতে পারেননি। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অধিকাংশই মনে করেন গ্রন্থাগারিক বা সহকারি গ্রন্থাগারিক অফিস স্টাফেরই একজন এবং তিনি Clerical job করে থাকেন। তার উপর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর (মাউশি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক এক সময় এক এক ধরণের পরস্পর বিরোধী প্রজ্ঞাপন জারি করার ফলে গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকেরা এক চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষকের মর্যাদা দিলেও শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনে আমাদেরকে শিক্ষকের মর্যাদা দেয়া হয়নি। বরং কোন কোন প্রজ্ঞাপনে গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদেরকে কখনও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, আবার কখনও অশিক্ষক কর্মচারী, আবার কখনও নন টিচিং স্টাফের মধ্যে ফেলে আমাদের মর্যাদাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। যার ফলে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদেরকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে চাকুরি করতে হচ্ছে।

এমতাবস্থায় আলোচ্য বিষয় হিসাবে প্রথমে ডিগ্রি কলেজের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃক ১৯৯৮ সালের ২৫শে জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে শিক্ষকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,“ শিক্ষক অর্থ কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধক্ষ্য, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারি অধ্যাপক, প্রভাষক অথবা এমন ব্যক্তি যিনি কলেজের শিক্ষাদানের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিক, প্রদর্শক ও শরীরর্চ্চার শিক্ষক কলেজের শিক্ষক হিসাবে গণ্য হবেন”। এখানে গ্রন্থাগারিকের শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখ নেই, নেই কোন নির্ধারীত যোগ্যতার ব্যখ্যা। ফলে বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিক নিয়োগ হয়ে থাকেন।

অবশ্য এ নিয়োগ ব্যবস্থা এখনকার সময়ের কথা বলছি না। ২০/২২ বছর আগের নিয়োগ প্রাপ্তদের কথা বলছি। সেই সময়কার নিয়োগ প্রাপ্তদের একটি বিশাল সংখ্যাই এখন চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে চাকুরি জীবন অতিবাহিত করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে আত্মীকরণ প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের নিয়ে। তাদের প্রাপ্ত স্কেলের এক ধাপ নিচে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ প্রভাষকদের স্কেলে হাত দেয়া হচ্ছে না। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে কলেজের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা না থাকায় ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিকরা শিক্ষক হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে সর্বদা দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। কারণ তারা ঐ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন মানেন না। তারা সাম্প্রতিক প্রকাশিত বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করে বলেন আপনারা শিক্ষক নন। উদাহরণ হিসেবে শিক্ষকরা Revised Rules for class 3 and staff এর শিরোনামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক ০১-০৪-০১৩ তারিখের প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে ক্রমিক নম্বর ৩ এর প্রবিধান-২ ঠ এ প্রতিস্থাপন ও সংযোজনে বলা হয়েছে,“গ্রন্থাগারিক, সহকারি গ্রন্থাগারিক এবং অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য বা খন্ডকালীন শিক্ষাদানের জন্য নিযুক্ত কোন ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে গণ্য হইবেন না।” আবার ঐ একই প্রজ্ঞাপনে প্রবিধান-২ খ এ সংযোজনে বলা হয়েছে,“সাধারণ শিক্ষক বলতে প্রধান শিক্ষক/ সহকারি প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ ব্যতিত অপরাপর শিক্ষকগণকে বোঝাইবে।”

আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘বেসবকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) এর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকুরি বিধিমালা-২০১২তে ২ এর ‘ছ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কর্মচারী” অর্থ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন টিচিং স্টাফ অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (সহকারি গ্রন্থাগারিক/ অফিস সুপারিন্টেন্ডেট/হিসাব রক্ষক/উচ্চমান সহকারি/ক্যাশিয়ার/ হিসাব সহকারি/টাইপিষ্ট কাম অফিস সহকারি/ অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর/গ্রন্থাগার সহকারি) এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী (এমএলএসএস অর্থাৎ পিয়ন/দপ্তরী/গার্ড/ক্যাশ পিয়ন/ আয়া/ মালি/ ঝাড়ুদার বুঝাইবে।”

আবার সর্বশেষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর কর্তৃক ০৭-০৩-২০১৭ তারিখে প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরাধীন অফিস/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সৃষ্ট পদ, কর্মরত পদ এবং শূন্য পদের হাল নাগাদ তথ্যাদি প্রেরণ প্রসঙ্গে শিরেনামের তালিকায় ২ নম্বর সিরিয়ালে সহকারি গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার এর নাম রাখা হয়েছে। এ সমস্ত প্রজ্ঞাপনের কারণে শিক্ষকরা গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগরিককে শিক্ষক হিসাবে মেনে নিতে পারছেন না। এর বিপরীতে আমরা ১৯৯৮ সালের ২৫শে জুলাই প্রকাশিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন ছাড়া আর কোন প্রজ্ঞাপন বা সুনিদিষ্ট কোন নীতিমালা আমাদের শিক্ষকদেরকে দেখাতে পারি না। তাছাড়া শিক্ষকরা হালনাগাদ প্রজ্ঞাপন চায় যেখানে আমাদেরকে শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আমরা হাল নাগাদ প্রজ্ঞাপন দেখাতে পারি না বলে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেভাবে পারছে সেভাবে আমাদেরকে ব্যবহার করছে। আর আমরাও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকান্ড থেকে বাদ পড়ছি। যেমন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিতে পারছি না, বিভিন্ন কমিটিতে আমাদেরকে রাখা হয় না, পরীক্ষার হলে ডিউটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং হাজিরা রেজিষ্টারে সর্বনিন্মে স্বাক্ষর করতে হয়। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে আবার সহকারি গ্রন্থাগারিকের জন্য আলাদা হাজিরা রেজিষ্টার করা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং আমাদেরকে শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা আদায় করতে হলে সর্বাগ্রে এ সমস্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে পুনরায় নতুনভাবে জারি করাতে হবে। যেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারিক বা সহকারি গ্রন্থাগারিক সবাই শিক্ষক বলে গণ্য হবেন। তা না হলে এসমস্ত প্রজ্ঞাপন বহাল থাকবে আর আমরা শিক্ষকের মর্যাদা দাবী করবো এটি বাস্তব সম্মত সুচিন্তিত কোন পদক্ষেপ নয়, যা আমাদের সমস্যাকে তাড়াতাড়ি সমাধান করে দিবে। সুতরাং শিক্ষক হিসাবে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করাই আমাদের নেতৃবৃন্দের প্রধান এবং একমাত্র কাজ বলে আমি মনে করি।

২। Non-Government Intermediate College Regulations-1977 (সম্ভাবত এর পরে আর কোন পরিবর্তন হয়নি): সাম্প্রতিক এ সমস্ত প্রজ্ঞাপন জারির আগে যে Regulation এর কারণে আমরা শিক্ষকের মর্যাদা লাভ করতে পারিনি সেটি হল Non-Government Intermediate College Regulations-1977. আমার জানা মতে এ Regulation টি এখনও পর্যন্ত কোন প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন বা বিয়োযোজন হয়নি। এখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যায় মত শিক্ষকের সংজ্ঞা দেয়া না থাকলেও Mode of elections representatives of the teaching staff সম্পর্কে বলা হয়েছে, “ The Principal shall send to all members of the teaching staff including the physical instructor and Demonstrators” এখানে Assistant Librarian শব্দটি সংযোজিত না থাকায় যে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন সহকারি গ্রন্থাগারিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজে চাকুরী করেন না কেন তিনি শিক্ষকের মর্যাদা পাওয়াতো দূরের কথা তিনি শিক্ষক স্টাফ হিসাবেও গণ্য হন না। ফলে কোন কোন কলেজে শিক্ষক হাজিরা রেজিষ্টারে সই করা, শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা, কলেজের বিভিন্ন কমিটিতে সদস্য হওয়া, বিভিন্ন পরীক্ষার ডিউটি করা, চাকুরিতে যোগদানের ভিত্তিতে সিনিয়র না হওয়াসহ নানাবিধ বিষয়ে গ্রন্থাগারিক, সহকারি গ্রন্থাগারিক ও শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। কারণ উক্ত Regulation-এ আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকায় শিক্ষকদের দৃষ্টিতে আমরা শিক্ষক নই। এই Regulation টি গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা প্রয়োগ করেন এবং এখনো কোন কোন কলেজে আমাদেরকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিতে দেন না। ডিগ্রি কলেজের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ রকম কোন Regulation না থাকায় এর বিপরীতে আমরা কোন Regulation দেখাতে পারি না। ফলে আমাদেরকে কলেজের নানাবিধ কর্মকা- থেকে শিক্ষকরা বাদ দিয়ে রাখেন। সরকারি কলেজ ও নতুন আত্তীকরণ কলেজে এ সমস্যা আরও বেশী প্রকট রূপে বিদ্যমান। এই একটি মাত্র Regulation এর কারণে আজ পর্যন্ত আমরা অধিকাংশ ইন্টারমিডিয়েট কলেজের সহকারি গ্রন্থাগারিকরা অফিস স্টাফের অংশ হিসাবে বিবেচিত হই। সুতরাং এই Regulation টি সংশোধন করে উক্ত লাইনের শেষে and Assistant Librarian শব্দটি সংযোজন করতে পারলেই আমরা হাজার হাজার গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিক শিক্ষকের মর্যাদা পাইতাম বলে আমি বিশ্বাস করি।

৩। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার গ্রন্থাগারিক/সহকারি গ্রন্থাগারিক পদটি ক্লোজ বা ব্লক পদ: সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিক দুটি পদই ক্লোজ বা ব্লক পদ। অর্থাৎ গ্রন্থাগারিক/সহকারি গ্রন্থাগারিক বেতন স্কেল নিদিষ্ট। তাদের কোন প্রমোশন নেই। কারণ লাইব্রেরিয়ান বা গ্রন্থাগারিকই সর্বোচ্চ পদ। সুতরাং প্রশাসন আমাদেরকে প্রমোশন দিয়ে আবার কোন পদে উন্নীত করবে। সে কারণেই আমাদের স্কেল বা পদবি কোনটিরই পরিবর্তন হয় না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গ্রন্থাগারিক/সহকারি গ্রন্থাগারিক একটি মাত্র টাইম স্কেল পেয়ে পরবর্তী স্কেলে যাবেন। এরপর আর কোন স্কেল পাবেন না। পদ দুটি ব্লক হওয়ার কারণে গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিক সারা জীবন একই পদবি নিয়ে অবসরে যান। বেসরকারি কলেজের সহকারি গ্রন্থাগারিকগণ একটি টাইম স্কেল নিয়ে গ্রন্থাগারিকের বেতন স্কেলের সমান বেতন পেলেও তিনি পদবি পরিবর্তন করতে পারেন না। কারণ ইন্টারমিডিয়েট কলেজে গ্রন্থাগারিকের পদ নাই। ইন্টারমিডিয়েট কলেজ যদি ডিগ্রি বা অনার্স পর্যায়ে উন্নীত হয় তবে সহকারি গ্রন্থাগারিকের ডক্টরেট ডিগ্রি থাকলেও ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিক হতে হলে তাকে আবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুনভাবে গ্রন্থাগারিক হিসেবে নিয়োগ নিতে হয়। সে ক্ষত্রে সহকারি গ্রন্থাগারকতার চাকুরী জীবন ১০/১৫ বছর যাই হোক না কেন তা আর কাউন্ট হবেনা। এ ক্ষেত্রে আরও একটি সমস্যা হল অধ্যক্ষেদের অসহযোগীতা। কারণ অধিকাংশ কলেজর অধ্যক্ষ্যগণ সহকারি গ্রন্থাগারিককে আর গ্রন্থাগারিক হিসেবে নিতে চান না।

তারা নতুন করে গ্রন্থাগারিক নিতে চান। কারণ বর্তমানে অধ্যক্ষ্যগণ একজন গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দিতে পারলে ৭/৮লাখ টাকা অনায়াসে আয় করতে পারেন। যার ফলে সহকারি গ্রন্থাগারিক সেই সহকারি গ্রন্থাগারকই থেকে যান। এক্ষেত্রে আমাদের সর্বপ্রথম করণীয় হল ক্লোজ বা ব্লক পোষ্টকে রানিং পদে পরিণত করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা এবং কলেজ ইন্টারমিডিয়েট হোক আর ডিগ্রি বা অনার্স কলেজ হোক টাইমস্কেলের মাধমে বা পদোন্নতির মাধ্যমে ডিগ্রি কলেজের গ্রন্থাগারিক যাতে হতে পারেন এমন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করার ব্যবস্থা সর্বাগ্রে করা।

৪। গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের পদবি সমস্যা: সরকারি ও বেসরকারি উভয় কলেজে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সহকারি শব্দটি উর্ধ্বগামী। যেমন প্রভাষকগণ টাইম স্কেল বা পদোন্নতিতে যখন পরবর্তীতে সহকারি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন তখন তার বেতন স্কেল ও পদমর্যাদা দুটিই বদলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সহকারি গ্রন্থাগারিক হিসাবে যোগদান করলে পরবর্তীতে যোগ্যতা বা উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে ডেপুটি গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগারিক পদে উন্নীত হতে পারেন। কিন্তু স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের ক্ষেত্রে ঐ রকম কোন উধ্বগামী পদবি নেই। গ্রন্থাগারিক পদটিই আমাদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ পদবি। সে কারণে শিক্ষকদের উর্ধ্বগামী সহকারি পদবিটি গ্রন্থাগারিকের আগে বসালে তা নিম্নগামী হয়ে যায় এবং তার বেতন স্কেল ও পদমর্যাদা গ্রন্থাগারিকের নিচের স্কেলের হয়। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত জুনিয়র গ্রন্থাগারিক, সহকারি গ্রন্থাগারিক, ডেপুটি গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগারিক পদটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে প্রবর্তন করা যায় কিনা আমাদের গ্রন্থাগারবিদ ও ল্যাব নেতাদের ভেবে দেখার সময় এসেছে। যদি এই পদবিগুলো প্রবর্তন করা যায় তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গ্রন্থাগারিকদের মধ্যে একটা সমতা আসবে এবং অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি। তাছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রসার গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকের ক্ষেত্রে এই পদবি ছাড়া অন্য কোন নতুন পদবি আমাদের নীতিনির্ধারণকারীরা মেনে নেবেন বলে আমার মনে হয় না। সুতরাং জুনিয়র গ্রন্থাগারিক, সহকারি গ্রন্থাগারিক, ডেপুটি গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগারিক পদটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়; আমাদের ল্যাবের কেন্দ্রীয় নেতাদের তার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

৫। গ্রন্থাগারিকতার পাশাপাশি শিক্ষাকতার সূযোগ না থাকা: বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ডিগ্রি কলেজের পাঠ্যসূচিতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হলেও গ্রন্থাগারিকরা গ্রন্থাগারিকতার পাশাপাশি উক্ত বিষয়ে শিক্ষকতা করতে পারবেন এমন সুযোগ রাখা হয়নি। যে কারণে ডিগ্রি কলেজে যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রন্থাগারিক অর্থাৎ অনার্স ও মাষ্টার্স থাকা সত্ত্বেও উক্ত বিষয়ের জন্য নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে গ্রন্থাগারিকরা গ্রন্থাগারিকই থেকে যান। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আর শিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন না। সুতরাং আমরাদের গ্রন্থাগারিকতার পাশাপাশি স্বীয় বিষয়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ না থাকার কারণে প্রভাষকদের সমান মর্যাদা ও বেতন স্কেল থেকে অনেকখানি পিছিয়ে আছি বলে আমি মনে করি। আবার ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের কলেজে আমাদের সাবজেক্ট না থাকায় সেখানেও সহকারি গ্রন্থাগারিকরা শিক্ষকাতর সূযোগ থেকে বঞ্চিত। সুতরাং ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের কলেজের সাবজেক্ট অনুমোদন ও একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যম গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকরা যাতে গ্রন্থাগারিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতা করার সুযোগ পান তার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবী।

৬। শিক্ষক সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত করা: বাংলাদেশের গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের ন্যায্য দাবীসমূহ সমাধানের লক্ষে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত করতে হবে। গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠানেরই অংশ এবং গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকরা শিক্ষকদের ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কাজ করে থাকেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষক সংগঠন যেমন স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারের উন্নয়নের কথা বলেন না, তেমনি বলেন না গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকদের সমস্যাসমূহের কথা। যে কারণে আমাদের এত সমস্যা রয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের উচিত হবে এখন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের দাবী-দাবার মধ্যে আমাদের ১/২টি করে দাবী অন্তর্ভূক্ত করা। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় ল্যাব নেতৃবৃন্দকে শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। তা হলে আমাদের আন্দোলন আরও জোড়ালো ও বেগবান হবে এবং দাবী আদায়ের পথ সুগম হবে।

৭। বিভাগীয় পর্যায়ে সেমিনার, সিস্পোজিয়ামের আয়োজন করা: বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য এক এক বছর এক এক বিভাগে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, পিকনিক বা অন্যান্য যে কোন ধরনের কার্যক্রমের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ প্রতি বছর ঢাকায় গিয়ে সব সদস্যদের পক্ষে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা এজিএমের মত কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করা সম্ভব হয় না। সুতরাং এর যে কোন একটি ব্যবস্থা চালু করলে একদিকে যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সদস্যদের সঙ্গে মত বিনিময় হবে তেমনি অন্যদিকে ল্যাবের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সমস্যাসমূহের সমাধানের নতুন নতুন দিক নির্দেশনাও পাওয়া যাবে।

৮। বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) কে আরও গতিশীল হতে হবে: বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতিকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী হতে হবে। এরজন্য প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে ও জিলা শহরে ল্যাবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হরে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সদস্য ফি ২০০০ টাকার পরিবর্তে ১০০০ টাকা করার উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমানে স্কুলের সহকারি গ্রন্থাগারিকদের বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে। তারা তাদের সংগঠনে ব্যানারে কাজ করবে আবার প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের সময় ল্যাবের সঙ্গেও আন্দোলন করবে। এজন্য তাদেরকে ল্যাবের সদস্য হতে হবে। এভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের সময় যেন সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে সোচ্চার হয়ে উঠতে পারি তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই ঢাকার সাথে জিলা ও বিভাগীয় শহরে একই সঙ্গে জোরদার আন্দোলন করা যাবে, সাংবাদিক সম্মেলন করা যাবে, প্রশাসনের কাছে স্বারকলিপি দেয়া যাবে। যেভাবে শিক্ষক নেতারা কেন্দ্রের সাথে সাথে জিলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আন্দোলন করে থাকে। তাহলে আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।


লেখক পরিচিতি:

সরদার মো. মনজুরুল হক (এলএম-১৬২৫)
লাইব্রেরিয়ান, খুলনা কলেজ, খুলনা

Email. monzurul1962@gmail.com

Show More

Related Articles

2 Comments

  1. অনার্স করার পর আরোও এক বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করতে হয় তবে কেন এই বৈষম্য।আধুনিক তরুণ দের এ পেশা সম্পর্কে আরো ধারনা প্রদান করার লক্ষ্যে সারা দেশে এ আন্দোলন ছরিয়ে দিতে হবে।ল্যাব এর কাছে আমাদের দাবী আরোও প্রচার প্রচারনা করতে হবে।।।।।সহকারি লাইব্রেরিয়ান তেঁতুলঝোড়া কলেজ সাভার ঢাকা।01717082213

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close