Blog Post

ভালোবাসার মানুষটি যখন শুধুই স্মৃতি হয়ে যায়

লেখিকা: শতাব্দি রায় পিংকী


লেখিকার সঙ্গে ড. মির্জা রেজা

কিছু কিছু মানুষ আছেন যাদের হসপিটালের বেডে মানায় না। ঠিক তেমনি আপনি স্যার। যখন আই সি ইউতে গেলাম মনটা ভেঙ্গে গেল আপনাকে দেখে ড.মির্জা মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম স্যার। সবসময় আপনাকে হাসিখুশিই দেখেছি কিন্তু আপনার অক্সিজেন মাস্ক লাগানো নিথর আপনাকে দেখে সত্যিই অনেক অসহায় লাগছে। স্যার আপনি যে আমাদের সবার ভরসা, সবার আস্থা। কোনো সমস্যায় পড়ে আপনাকে জানালে আপনি সবসময় শক্তি জোগাতেন। কিন্তু আজ যখন অসহায় হয়ে আই সি ইউ এর সামনে আপনার জন্য অপেক্ষা করছি তখন তো সান্তনা দেবার জন্য আপনার মতো কাউকেই পাচ্ছি না। আপনি তাড়তাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের ভরসা যোগাবেন এমন আশা নিয়েই সবসময় ছিলাম আই সি ইউ এর সামনে। কিন্তু এখন সব আশা ছেড়ে দিয়ে বাসায় আসলাম। বাহিরে প্রচুর বাতাস। হয়তো একটু পর বৃষ্টিও নামবে। ক্লান্ত আমরাও একটু পর আরাম করে ঘুমিয়ে পড়বো।  আর প্রাণপ্রিয় মানুষটাকে মাটির নিচে একা রেখে আসলাম। কাল থেকে আর সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই হসপিটালে যেতে হবে না আবার ক্লান্ত হয়ে রাত ১২টায় হসপিটাল থেকে আসতে হবে না। ঔ কন্ঠটা আর দুইদিন পরপর ফোনে বলবে না “বাবা আমাকে কি ভুলে গেছো? অবশ্য মেয়েরা বাবাদের এভাবেই ভুলে যায় কিন্তু বাবারা তা পারে না”।কেউ আর বলবে না “বাবা কতদিন থেকে তোমাকে দেখি না।  আসো বাবার সাথে দেখা করে যাও।  বাবার তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করছে।” আর বলবেই বা কেন আমরা তো তাকে স্বার্থপরের মতো একা অন্ধকারে রেখে চলে এসেছি। সারাজীবন শুনেছি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নাকি শুধু জন্মদাতা বাবা মা ই বাসে বাকিসব নাকি স্বার্থের জন্য। কিন্তু আমার আর মি.রয়ের জীবনে তা ভিন্ন। আমাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মানুষ জন্মদাতা বাবা মা ই শুধু ছিলেন না ছিলেন এই মানুষটি যিনি আমাদের আরেক বাবা। কেউ যদি বলে তিনি আমাদের পিতৃতুল্য তাহলে মানতে পারি না। তিনি পিতৃতুল্য না বরং আমাদের পিতা, আমাদের আশ্রয়স্থল। আর কেউ থাকলো না যাকে দিনে দুপুরে ফোন দিয়ে সমস্যার কথা বলবো আর তিনি বলবেন”বাবা তুমি চিন্তা করো না। সব ঠিক হয়ে যাবে বাবা তো আছে, আমিই দেখবো ব্যাপারটা”।একটা দুঃস্বপ্নের মতো জীবন থেকে আপনাকে হারিয়ে ফেললাম ড.মির্জা মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম স্যার। কেউ আর কোথাও নিয়ে যেয়ে কারো সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন না যে এটা আমার মেয়ে আর উত্তম মেয়ে জামাই। হারিয়ে ফেললাম আপনাকে বাবা। এটা যে অপূরণীয়। দূর থেকে এই মেয়েটার জন্য অনেক অনেক দোয়া করবেন বাবা।সবসময় শুধু নিয়েই গেলাম আর চেয়েই গেলাম।  বিনিময়ে কিছুই দিতে পারলাম না আর জানি তা কোনোদিন তা পারতামও না।  ক্ষমা করবেন বাবা। রক্তের সম্পর্কই যে সবসময় আপন তা না কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে আত্মার যা রক্তের চেয়েও বেশি।কিছু কিছু সম্পর্ক নীরবে গভীরতা বাড়ায়, কখনো সে সম্পর্ক অনেক গভীরে গিয়েও সবকিছু হারায়। চোখটা বন্ধ করলেই শুধু আপনার মুখটাই ভেসে আসছে স্যার আর আপনার কথাগুলোই শুধু কানে বাজছে। মনে হচ্ছে এইতো আপনি আমাদের পাশেই বসে কথা বলছেন। আসলেই বাস্তবতা খুবই নির্মম।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close