বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থাগার পেশা বিষয়ক মাসিক অনলাইন সাময়িকী

logo

librariansvoice@gmail.com

তথ্য, শিক্ষা এবং গবেষণায় ওপেন একসেস আন্দোলন

ওপেন একসেস আন্দোলন গতানুগতিক তথ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রকাশনা শিল্প থেকে ভিন্ন একটি আধুনিক ধারনা এবং বিশ্বব্যাপী গবেষকদের স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক সমন্বিত প্রয়াস। নব্বইয়ের দশকে ইন্টারনেট যখন সহজ লভ্য অনলাইনে পাবলিশিং যখন একটি প্রথা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তখনই এই ধারনাটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একসেস আন্দোলন বর্তমান গবেষণা পদ্ধতি প্রকাশনার ক্ষেত্রে শতবর্ষের পুরানো মডেল অনুসরণ করছে এবং প্রযুক্তি নির্ভর বর্তমান যুগের চাহিদার মেটাতে পারছে না। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের সরকার গবেষণার সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক এবং অর্থ দাতা। বছরে শত বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি অর্থ গবেষণার পেছনে বরাদ্দ থাকে এবং এর অধিকাংশ গবেষকদের পেছনে খরচ হয়।

এ কারণে ওপেন এক্সেসের সাথে যুক্ত গবেষকেরা তাঁদের গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল কোনরূপ নগদ প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছাড়া প্রকাশ করে থাকেন। অপরদিকে শতাব্দী প্রাচীন প্রচলিত পদ্ধতিতে গবেষকেরা তাঁদের গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল প্রকাশে প্রকাশকের দ্বারস্থ হন। দুই ক্ষেত্রেই গবেষক এবং সম্পাদকেরা কাজ করেন গবেষণা ফলাফল প্রকাশের জন্য পারিশ্রমিক ছাড়া। যদিও জনগণের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে, জনগণেরই টাকায় এই গবেষণাগুলো করা হয় তথাপিও প্রচলিত গবেষণা প্রকাশ পদ্ধতিতে পুনরায় জনগণকে গবেষণাপত্র ব্যবহারের জন্য পরোক্ষ বিভিন্নভাবে অর্থ খরচ করতে হয়। এই ডিজিটাল যুগে মুদ্রণ নির্ভর গবেষণাপত্র প্রায় অচল। যদিও সকল ক্ষেত্রেই গবেষক এবং সম্পাদকেরা কাজ করেন প্রকাশিত ফলাফলের জন্য কোন পারিশ্রমিক ছাড়া; তথাপি জনগণের পয়সা খরচ করে করা তথ্য ও গবেষণা পত্রের জন্য কারিগরি, আইনী এবং অর্থনৈতিক কারণের নামে গবেষণা ফলাফল জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় অজ্ঞাত কারণে। ওপেন একসেস মুভমেন্ট মনে করে এর কোন যৌক্তিক কারণ নেই শুধুমাত্র প্রাচীন প্রকাশকদের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া। যা জনসম্পৃক্ততা থেকে তথ্য, শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রমকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। গবেষণাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে ব্যাপকভাবে এবং গবেষণাকে একটি অলীক কার্যক্রম হিসেবে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে।

থিয়োরি অফ রিলেটিভিটির মতো জটিল এবং দুর্বোধ্য আবিষ্কার এসেছে পেটেন্ট অফিসের কেরানি আইনস্টাইনের কাছ থেকে। বৈদ্যুতিক বাল্ব কিংবা উড়োজাহাজের মত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এসেছে একেবারে অপ্রচলিত গবেষক এডিসন কিংবা রাইট ব্রাদার্সের কাছ থেকে। গবেষণা কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততার মতো মৌলিক অপরিহার্যতা ডিজিটাল টেকনলজি প্রসারের মাধ্যমে অর্জন সম্ভব। এই পদ্ধতির দ্বারা তথাকথিত কুলীন ভাল ছাত্র থেকে হরি ধানের জনক হরিপদ কাপালীর মতো প্রান্তিক জনগণকে গবেষণা কার্যক্রমে সমপৃক্ত করা সম্ভব। ওপেন একসেস অনলাইনে বিনামূল্যে তাৎক্ষনিক প্রাপ্য গবেষণাপত্র সমূহ ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশের জন্য কাজ করে। এটি একই সাথে তথ্য এবং গবেষণাপত্র সমূহ ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিতের আন্দোলন।

সরকারের মাধ্যমে জনগণই শিক্ষা, তথ্য এবং গবেষণা কাজের জন্য মূল অর্থ দাতা। তাঁরা মানবিক উন্নয়নের জন্য, জ্ঞানের উৎকর্ষের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে। ওপেন একসেস আন্দোলন জনগণের এই বিনিয়োগ এবং প্রত্যাশার ফলাফল দ্রুততার সাথে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

ওপেন একসেস মানে বিনামূল্যে আরও বেশি পাঠক, আরও বেশি গবেষণা সহযোগী, আরও বেশি সাইটেশন এবং ফলশ্রুতিতে বেশি বেশি স্বীকৃতি।


[ডঃ মোঃ মিলন খান, এম এম আসাদুল্লাহ, কনক মনিরুল ইসলাম, শুভ্রা কর, শাহজাদা মাসুদ আনোয়ারুল হক, শামীম হোসেন, আমিনুল মিঠু, আবু হানিফা, হাসিব দীপু, আরশাদ কাইউম – লেখকগণ ওপেন একসেস বাংলাদেশের সদস্য]   তথ্যসুত্র: যুগান্তর ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *