বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থাগার পেশা বিষয়ক মাসিক অনলাইন সাময়িকী

logo

librariansvoice@gmail.com

ভার্চুয়াল লাইব্রেরি: শিক্ষা ক্ষেত্রে আনবে নয়া দিগন্ত

Digital Library

মুত্তাইয়া কগুনারানাথ এর Virtual Library: an Overview, উইকিপিডিয়া এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন সূত্র অবলম্বনে এই নিবন্ধটি লিখেছেন কনক মনিরুল ইসলাম এবং মোবাশ্বিরা মাহমুদা সুপ্তী


ভার্চুয়াল লাইব্রেরি হচ্ছে মূলত কম্পিউটার এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা যেখানে একটি লাইব্রেরির সমস্ত কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীগণ করে থাকেন। এই লাইব্রেরিতে একজন ব্যাবহারকারি তার বাস্তব লাইব্রেরির সকল সুযোগ সুবিধাও আনন্দ লাভ করতে পারে। এখানে ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমেও ব্যবহারকারীগণ লাইব্রেরির সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারেন এবং অনেকের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। এটি এমন একটি শিমুলেশন ব্যবস্থা যা বাস্তব লাইব্রেরির মতই। ভার্চুয়াল লাইব্রেরিগুলি গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্পদ পরিচালকদের, নীতিনির্ধারক, স্টেকহোল্ডার এবং সাধারণ জনসাধারণের জন্য বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং নীতি সম্পর্কিত তথ্য ও সংস্থানের প্রবেশদ্বার হিসাবেও কাজ করতে পারে। সর্বপ্রথম ১৯৮৩ সালে এধরনের লাইব্রেরি নিয়ে আলোচনা হয় এবং ১৯৯৪ সালে এধরনের একটি লাইব্রেরি প্রথম কাজ শুরু করে। ভার্চুয়াল লাইব্রেরীকে একটি ডিজিটাল লাইব্রেরিও বলা যায়। তবে এটি নিজে কোন সামগ্রী বহন করে না বা ধারণ করে না এটি শুধু কিছু তথ্যের পোর্টাল কে সংরক্ষণ করে। ভার্চুয়াল লাইব্রেরী এই শব্দটিকে লাইব্রেরিয়ানরা একটি দশক বা তারও বেশি সময় ধরে এমন একটি লাইব্রেরিকে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহার করেছেন যা স্থানীয়ভাবে প্রদান করা পয়েন্টারগুলির মাধ্যমে বৈদ্যুতিন বিন্যাসে বিতরিত তথ্যগুলিতে অ্যাক্সেস সরবরাহ করে থাকে।Digital Library

গ্যাপেন (১৯৯৩) ভার্চুয়াল লাইব্রেরী সম্পর্কে বলেছেন – “এটি দূরবর্তী অ্যাক্সেসের ধারণা ” তিনি বিষয়টিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এমন ভাবে যে এটি হচ্ছে মূলত একটি বিষয়, লাইব্রেরী, অন্যান্য তথ্য সংস্থার সেবা। এটি হচ্ছে একটি ইলেক্ট্রনিক নেটওয়ার্ক যা বাইরে থেকে বিভিন্ন ধরণের ডাটা সরবরাহ করতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী একটি লাইব্রেরী এবং বাণিজ্যিক তথ্য ও জ্ঞানের উৎস। লাইব্রেরিয়ানদের প্রথাগত ধ্যান ধারনা ও ফোকাসিং পয়েন্ট ও এই ভার্চুয়াল লাইব্রেরী পরিবর্তন করেছে। এছাড়া তালিকা তৈরি এবং সাময়িকী যেমন তথ্য সম্পদ তালিকাভুক্তকরণ এবং ব্যবস্থাপনা এসব বিষয়েও ভার্চুয়াল লাইব্রেরী সম্পূর্ণ নতুন ধারনা নিয়ে এসেছে। মূলত সময় নষ্ট না করে দ্রুত ডাটা অ্যাক্সেস এর বিষয়েই এই লাইব্রেরী মূল গুরুত্ব দেয়। লাইব্রেরী, পন্ডিত, প্রকাশক এবং নথি বিতরণ বিক্রেতাদের এই লাইব্রেরী তাদের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের সাথে আরো ভালো যোগাযোগের জন্য অনুপ্রানিত করে চলছে।

ভার্চুয়াল লাইব্রেরির মূল কাজ:

সাধারণত ভার্চুয়াল লাইব্রেরির মূল কাজ হচ্ছে শিক্ষার আরো দৃঢ় একটি ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা প্রদান এবং জ্ঞান অর্জন করা। শিক্ষার এই দৃঢ় ভিত্তি জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখে বিশেষ করে ডিজিটাল ও আইটি সম্পর্কিত সব বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে। বিভিন্ন ধরণের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বই, ম্যাগাজিন, পত্রিকা প্রভৃতি ভার্চুয়াল লাইব্রেরির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে ব্যাবহার করা যায়। ভার্চুয়াল লাইব্রেরী এই উপকরণগুলো সরবরাহ করে শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরো বিস্তৃত করে তুলছে। জনসাধারণের সেবায় কার্যকর শিক্ষামূলক হাতিয়ার হতে, এটিকে অবশ্যই ব্যাখ্যাযোগ্য, ব্যবহারযোগ্য এবং সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের এক্সেস প্রদান করতে হবে যেমন – ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। যে সংগ্রহ নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত তা হলো পাবলিক ডোমেইন এবং যে মাধ্যমে তা অ্যাক্সেসযোগ্য হয় যেমনঃবিনামূল্যে অ্যাপ্লিকেশন সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট শুল্ক ভিত্তিতে সফ্টওয়্যার।

Digital Library

ভার্চুয়াল লাইব্রেরির ফিচার সমূহ:

  • এটি একটি বিশ্বব্যাপী পদ্ধতি যাতে আপডেট তথ্য দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে এক্সেস করা হয়।
  • এটি শুধুমাত্র বই উপকরণএর ক্যাটালগিং এর ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত বা পুরোনো লাইব্রেরি সিস্টেম পরিবর্তন করেছে।
  • এনবিএমএর তালিকাভুক্ত করণ (নন বুক উপকরণ) কেবলমাত্র ডেটা বেসগুলিও নয় ওয়েবসাইট।
  • ডকুমেন্ট অ্যাক্সেস এর ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হয় এর বৃহৎ সংগ্রহ এর উপর নয়।
  • সময়সাশ্রয়ী
  • এটি কেবলমাত্র উন্নত দেশগুলির সাথে ডিজিটাল ডিভাইড তৈরি করে দেয় অটোমেশনর জন্য শক্তিশালী তহবিল এবং ভার্চুয়াল লাইব্রেরির জন্য অবকাঠামো গত প্রয়োজনীয়তা পূরণ ভার্চুয়াল লাইব্রেরি সেবা সমর্থন করতে পারে। ভার্চুয়াল লাইব্রেরির ফাংশন:

একটি ভার্চুয়াল লাইব্রেরির ফাংশন মানে পদ্ধতিগত বিকাশ নিশ্চিত করা অর্থাত ডিজিটাল ফর্ম তৈরি, তথ্য এবং জ্ঞান সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ, এবং প্রদান করা পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থান থেকে প্রায় এটি সহজ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাক্সেস। সাধারণভাবে, একটি ভার্চুয়াল লাইব্রেরি উচিত:

  • ডিজিটালভাবে উপলব্ধ প্রকাশনা একটি পরিসীমা আইসিটি ভিত্তিক অ্যাক্সেস প্রদান পাবলিক ডোমেইন এবং অন্যান্য উত্স থেকে উপলব্ধ শিক্ষা প্রদান;
  • দূরত্ববর্তী শিক্ষার সমস্ত উপকরণ এর অ্যাক্সেস প্রদান;
  • ছাত্র, গবেষক এবং শিক্ষকের তথ্য দক্ষভাবে সব বিশ্ববিদ্যালয় এবংঅন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা;
  • বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরী এবং শিক্ষিত সমাজ এর মাঝে যোগাযোগ এবং সহোযোগিতা জোরদার করে থাকে জাতীয়, আঞ্চলিক অথবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।;
  • জীবনকাল ধরে শেখার সুযোগ।

ভার্চুয়াল লাইব্রেরির এনভায়রণমেন্ট:

ভার্চুয়াল লাইব্রেরী পরিবেশ মানে ভার্চুয়াল টিম; ভার্চুয়াল যোগাযোগ এবং একটি ইলেকট্রনিক পরিবেশ এখন গ্রন্থাগারের জন্য একটি বড় বাস্তবতা। যা লাইব্রেরির ইন্টারনেট সাইট থেকে বা ইন্টারনেটে তথ্য খোজার মত করে এখানে ব্যবহারকারীরা দেখতে এবং ব্যাবহার করতে পারবেন।আরো সাধারণ অনুসন্ধানের জন্য ফোন এবং ই-মেইল দ্বারা গ্রন্থাগার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। ভার্চুয়াল লাইব্রেরিতে সেবা সম্পূর্ণরূপে ভার্চুয়াল হবে। ভার্চুয়াল তথ্য সেবা প্রদান করা ভিন্ন নিম্নলিখিত এরিয়াতে ঐতিহ্যগত তথ্য পরিষেবা বিতরণ করা হয়ে থাকে: ক্লায়েন্টরা সাধারনত লাইব্রেরির রিসোর্সগুলি আগে থেকে দেখতে পারে না এমনকি ডাটাবেজ থেকে সেগুলি ব্যাবহার এবং সংগ্রহ ও করতে পারে না। সকল যোগাযোগ ইমেল, ফোন এবং ফ্যাক্স এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। তথ্য স্বাক্ষরতার ট্রেনিং ও দেওয়া হয়ে থাকে বিভিন্ন উদ্ভাবনীয় পন্থায় যেহেতু সামনা সামনি বা সরাসরি এটি প্রদান করা সম্ভব নয়। এমনকি কিছু কিছু লাইব্রেরী টেলি কমিউনিকেশন সেশনের ব্যবস্থাও করেছে যেখানে সেশনগুলি টেলিফোনের মাধ্যমে অথবা বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে। তথ্য সম্পদ ব্যাবহার হরার জন্য তথ্য প্রযুক্তির একটি বড় ভুমিকা আছে এবং ক্রমান্বয়ে এর উপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলপ্রসুতে লাইব্রেরির ব্যবহারকারিগণ এখন প্রায়ই লাইব্রেরী থকে টেকনিক্যাল সাহায্য আশা করে থাকেন এবং নেটওয়ার্ক অথবা রিসোর্স ব্যবহারের সমস্যাই এখন ক্রমান্ব্যে বেড়ে চলছে। এর মানে হচ্ছে এই যে লাইব্রেরিয়ান্দের এখন বর্তমান টেকনিক্যাল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জ্ঞান থাকতে হবে এবং আপডেট থাকতে হবে।

ভার্চুয়াল লাইব্রেরি এর উপকারিতা:

  • ভার্চুয়াল লাইব্রেরির কোন ধরণের কোন সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াই ভার্চুয়াল লাইব্রেরি তার সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে সক্ষম যেকোন সময়ে যেকোন জায়গায়।
  • এই ভার্চুয়াল লাইব্রেরির জন্য শুধু ইন্টারনেট এর সংযোগের দরকার
  • ভার্চুয়াল লাইব্রেরী বিভিন্ন ধরনের বিষয়ের ওপর একই সাথে অনেককে সেবা প্রদান করতে পারে।
  • ভার্চুয়াল লাইব্রেরির পক্ষেই সবচেয়ে বেশি আপ-টু-ডেট তথ্য রাখা সম্ভব হয়।
  • এই ধরণের লাইব্রেরিতে কালেকশঙ্গুলি সুন্দরভাবে বিন্যাস করা সম্ভব।
  • এই লাইব্রেরিকে বিভিন্ন স্কুল অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করে নেওয়া সম্ভব।

ভার্চুয়াল লাইব্রেরী সমগ্র জীবনব্যপী শিক্ষার একটি প্রক্রিয়া। এটি প্রাতিষ্ঠানিক অথবা স্বশিক্ষা যাই হক না কেন দুটির জন্য ই খুবই মূল্যবান। ভার্চুয়াল লাইব্রেরিতে কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি কোন লেকচার একজন স্টুডেন্ট চাইলে সারা জীবন ধরে শুনতে ও দেখতে পারে। ভার্চুয়াল লাইব্রেরির এই সুবিধাগুলি কোন একজন ছাত্রকে তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। অপরদিকে অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা প্রযুক্তিকে দেখে ভয় পান তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে এই ভার্চুয়াল লাইব্রেরী যেহেতু এর সব কিছুই প্রযুক্তি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই দিন দিন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্চুয়াল লাইব্রেরি। আর জনপ্রিয়তা তরান্বিত হচ্ছে দক্ষ গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের নিরলস প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *