এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেইজ – জুল ভার্ন

  • অনুবাদঃ ইফতেখার আমিন
  • প্রকাশনীঃ ফ্রেন্ডস বুক কর্নার
  • ISBN: 984-70020-0519-7

মাহাবুবা আক্তার

জুল ভার্নের অনবদ্য সৃষ্টি এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেইজ। ফিলিয়াস ফগ পাঁচ বন্ধুর সংগে হুইস্ট খেলার সময় বাজি ধরেছেন আশি দিনে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবেন।  যেদিন বাজি ধরেছিলেন সেদিন রাত ৯ টায় লন্ডন ছাড়েন তিনি।ঘড়ি দেখে চলা তার স্বভাব। যেই কথা সেই কাজ, একচুল এদিক ওদিক করেন না।অক্টোবর মাসের ২ তারিখ ভৃত্যকে বরখাস্ত করেছেন,বরখাস্তের কারণ শেভ করার পানি ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের জায়গায় ৮৪ ডিগ্রি গরম করে এনেছিলেন।

এরাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেইজব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে পঞ্চান্ন হাজার পাউন্ড খোয়া যাওয়ায় লিভারপুল হতে নিউইয়র্ক পর্যন্ত তন্ন তন্ন করে খুঁজতে বের হয়েছেন লন্ডনের পুলিশ এমন গল্প করছিলেন ৫ বন্ধুর মধ্যে একজন। এদিকে র‍্যালফ বলছে পৃথিবীটা এখন ছোট হয়ে আসছে তিন মাসেই চক্কর দিয়ে আসা যায়, চোর এতক্ষণে লন্ডন থেকে অন্য দেশে চলে গিয়েছেন। মুখের কথা কেড়ে নিয়ে ফিলিয়াস ফগ বলে ফেললেন ৮০ দিনে পৃথিবী প্রদক্ষিণ সম্ভব। বাজি ধরলেন ফগ। বন্ধু ব্যারিংসনের কাছে জমা দিলেন ২০ হাজার পাউন্ড। হেরে গেলে সেটা ফেরত পাবেন না । বেরিয়ে পড়লেন ডোভারের রাতের ট্রেনে রাত ৮ টা ৪৫ এর গাড়িতে কারণ ২১ ডিসেম্বর শনিবার রাত ৯টা বাজার ১৫ মিনিট আগে রিফর্ম ক্লাবে হাজির হতে হবে তাকে। রুটগুলো ঠিক করলেন-প্যারিস, ব্রিন্দিসি, সুয়েজ, বম্বে, কলকাতা, সিংগাপুর, হংকং, ইয়োকোহামা, সানফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক লন্ডন।

নতুন হেল্পিং হ্যান্ড পাশপার্তুকে সংগে নিয়ে বেরিয়েছেন কিন্তু পথিমধ্যে পাশঁপার্তুর মনে পড়েছে গ্যাস বার্নার জ্বালিয়ে এসেছেন,মনিবের সোজা প্রতিউত্তর ৮০ দিনের বিল মেটাতে হবে তাকে। মিটিয়েছিলেন পাশঁপার্তু। রুট অনুযায়ী গন্তব্যে পৌছাল ফিলিয়াস ফগ ও পাশঁপার্তু। এদিকে রিফর্ম ক্লাবের বিশ্ব রিফর্ম ক্লাবে। কারণ ২১ ডিসেম্বর হতে আরও ৫ মিনিট বাকি ছিল। কিন্তু কিভাবে উনআশি দিনে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করলেন?? কারণ ফগ পুর্বদিকে যাত্রা করেছিলেন যার ফলে প্রতি ডিগ্রি যাত্রায় ৪ মিনিট সময় কম লাগায় নির্ধারিত সময়ের ১ দিন আগে পৌছান। পুরো লন্ডন, রিফর্ম ক্লাব এর বন্ধুরা, বিভিন্ন বাজিতে ধরা লোকজন সেদিন হেরে যায়।জিতে যান ফগ। একসাথে ২ টি জিনিস জিতেন মশিয়ে ফগ রানী আউদা ও বিশ হাজার পাউন্ড। সেই মুহূর্তে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি ছিলেন,লেখকের ভাষায়।

পরিভ্রমণের খবরে মশিয়ে ফগ কে চোর ভেবে তার পেছনে লেগে থাকেন ডিটেকটিভ ফিক্স। ফগ কে অনুসরণ করে বম্বে চলে আসেন। বোম্বেতে ঘটে যায় বিপত্তি। লঞ্চ মিস হওয়ায় হংকং যাত্রা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেন এলাহাবাদের আশে পাশে ঘুরে দেখবেন, আস্ত হাতি কিনে ফেলেন বহু কাঠখড় পেরিয়ে। বুন্দেলখান্ডের হিন্দু সম্প্রদায়ের এলাকায় একটি ঘটনা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, শবদেহের শোভাযাত্রা সাথে অল্পবয়সী রমণী দেবির মতো সেজে চলছেন শবদেহের সাথে প্রাণ দিতে হবে। যাকে বলে সতীদাহ ।এমন ঘটনা দেখে ফগ সিদ্ধান্ত নেন যে করেই হোক নববিধবা কে বাঁচাতে হবেই। সফল হন এ যাত্রায়। দুই দিকে বিপদ পিছনে ডিটেকটিভ ফিক্স সাথে রাণী আউদা সদ্যবিধবা এভাবেই তিনি সানফ্রান্সিসকো পর্যন্ত পৌছালেন পথিমধ্যে বহুবার গ্রেফতার করতে চান ডিটেকটিভ কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণ না পাওয়ায় পারেননি। কিয়ানি স্টেশনে ডাকাতির ঘটনায় পাসপার্তু কে হারিয়ে ফেললেন মনিব মশিয়ে ফগ। খুঁজে বের করতে এক দিন সময় পিছিয়ে গেলেন। পরে লিভারপুলে পৌছায় গ্রেফতার করলেন ডিটেকটিভ ফিক্স ছাড়াও পেলেন কারণ ইতোমধ্যে ধরা পড়েছেন আসল চোর।পরে স্পেশাল ট্রেন ভাড়া করে লন্ডন পৌছান তিনি। লন্ডনের মাটিতে পা রেখে দেখলেন ৯ টা বাজতে ১০ মিনিট বাকি, ৫ মিনিট দেরি করে ফেলেছেন। শান্ত ও বিচক্ষণ ফগ সরাসরি বাসায় গিয়ে দেখলেন ১ হাজার পাউন্ড বাকি রয়েছে।ভাগ করে দিলেন পাশপার্তু ও ফিক্সের মধ্যে। মশিয়ে ফগ এর পাশে আউদা ছাড়া কেউ রইল না। পাসপার্তুকে পাঠালেন গির্জায় বিয়ের ব্যবস্থা করতে । পাসপার্তু ফিরে এসে হাপাতে হাপাতে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেলেন

শিক্ষণীয়ঃ

মশিয়ে ফগ শুধু নিয়মানুবর্তী ছিলেন না, ছিলেন কমিটেড মনিব। ভৃত্যের জন্য জীবনের পরোয়া করেন নি । ধীর ও শান্ত স্বভাবের ফগ।ভৃত্য ও ছিলেন আজ্ঞাবহ। বইটি পড়লে জানা যাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি ও মশিয়ে ফগ এর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, ভৃত্যের আনুগত্য।এমন মনিব ও অনুগত ভৃত্য থাকলে সত্যি পৃথিবী জয় করা সম্ভব।

বইটি কেন পড়বেনঃ

বইটি পড়লে জানা যাবে বিপদে কিভাবে নিজেকে স্থির রাখতে হয়,মানুষের প্রতি মানুষের যে টান, ভৃত্য বা সহযোগী হলেও সে যে মানুষ, ভৃত্যের জন্য মনিব যে নিজের প্রাণ ও দিতে প্রস্তুত থাকতে পারে, তার অনন্য উদাহরণ ফিলিয়াস ফগ।বইটিতে যতটা না পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তের বর্ণনা রয়েছে তার চেয়ে অধিক ফুটে উঠেছে সবার উর্ধেধ মানবপ্রেম।মানবপ্রেম ছাপিয়ে গিয়েছে দেশ কালকে ভেদ করে।


মাহাবুবা আক্তার

  • সহকারি লাইব্রেরিয়ান
  • জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার, দিনাজপুর।
  • উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি, লাইব্রেরিয়ান ভয়েস।