Blog Post

বুক রিভিউ: এনিম্যাল ফার্ম (জর্জ অরওয়েল)

একটি পশুখামারকে উপজীব্য করে লেখা “এনিম্যাল ফার্ম”।  বইটি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মকধর্মী উপন্যাস যাতে লেখক জর্জ অরওয়েল ব্যঙ্গ করেছেন বিংশ শতাবাদীর শুরুতে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ায় সংঘটিত অক্টোবর বিপ্লবকে যা ‘বলশেভিক বিপ্লব’ নামেই বহুল চর্চিত।  লেখক এখানে একটি পশুখামার ও তাতে বসবাসকারী প্রাণীদের দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাবলীকে তৎকালীন সমাজ তান্ত্রিক সোভিয়েত রাষ্ট্রে তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক মুক্তিকে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক পশুচরিত্র হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত নিপুণ হাতে।Animal Firm

ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের জন্ম মূলত তৎকালীন ব্রিটিশ শাসিত ভারতে যেখানে তার পিতা সিভিল সার্জেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে বিলাতে উচ্চ শিক্ষা লাভ শেষে ব্রিটিশ বার্মায় পুলিশ হিসেবে যোগদান করেন।  লেখা যার নেশা পুলিশের মত কাঠখোট্টা চাকুরী তার ভাল লাগবে কেন? অগত্যা চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে পূর্ণ উদ্যোমে লেখক হবার বাসনায় পিতৃভূমি বিলাতে গমন করেন। অনেক চেষ্টার পর সেখানেই তিনি অসাধারণ বাস্তবধর্মী লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

জর্জ অরওয়েলের প্রথম লিখিত কাজ ছিলো এই এনিম্যাল ফার্ম (Animal Farm)।  কিন্তু সমস্যা বাধলো এই উপন্যাস প্রকাশ করতে গিয়ে।  ১৯৪৩ এর বসন্তে লেখা এই লিখিত উপন্যাসটিতে খুব সুচারুভাবে তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃবৃন্দ ও তাদের ঘোষিত কথার সাথে বাস্তবতাহীন কর্মযজ্ঞের আসলরূপ উন্মোচন করেন।  ফলে কোন প্রকাশকই তা প্রকাশ করতে রাজি ছিলেন না। হতাশ অরওয়েল দ্বারে দ্বারে ঘুরে বই প্রকাশের আশা যখন ছেড়ে দিছেন তখন এক অখ্যাত প্রকাশক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।  বইটি প্রকাশের সাথে সাথে পাঠকরা লুফে নেন এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সাহিত্য সমাজে তা বেস্ট সেলার বই হিসেবে সমাদর লাভ করে।

আমাদের দেশেও সেই সোভিয়েত তথাকথিত সমাজতান্ত্রিকদের ‘শুভানুধ্যায়ী’রা তাদের ভন্ডামির ছোবল তুলেছিল স্বাধীনতার পরে। ‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস’ এই মন্তর জঁপে তারা লুট করেছিল সরকারি স্থাপনা, ডাকাতি ও রাহাজানি।  তাদের আরেক ভাগ তো সর্বহারা নাম নিয়ে সাধারণ জনগণের গলা কেটে বাঙলাদেশে ‘শোষণ’ হীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অলীক স্বপ্ন দেখেছিল।  থানা লুট, ঈদের জামাতে মানুষ হত্যা, সন্ধ্যা নামতেই ডাকাতি এই ছিল রেড কমরেড দের সমাজ “বিপ্লবের” কর্মসূচি।  সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করে ভাত না খাওয়ার “প্রতিজ্ঞাবদ্ধ” কমরেডরা আজ সবার পাতেই ভাত খান।  গ্রীষ্মের কাঠফাটা গরমে লেপ মুড়ে শ্রেণীশত্রু  খতম করে শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখা বান্দাদের সংখ্যা যতই কমবে ততই মঙ্গল ।

যারা ভিন্নধর্মী লেখার আগ্রহী ও সমাজ তন্ত্র নিয়ে যাদের আকাশ কুসুম “ফেসিনেশন” আছে তাদের জন্য এই বইটি হাইলি রিকমেন্ডেট।

সূত্রঃ ইন্টারনেট

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close