Blog Post

বার্মিংহামের স্মৃতিকথা : পর্ব-২ (দ্য লার্জেস্ট পাবলিক লাইব্রেরি ইন ইউরোপ)

আসিফ মাহতাব পাভেল

পর্ব-২ : দ্য লার্জেস্ট পাবলিক লাইব্রেরি ইন ইউরোপ


দশ মিনিট পরে আমাদের সফরসঙ্গীদের মধ্যে থেকে কয়েকজন প্রিমিয়ার ইন হোটেলের লবিতে এসে জমায়েত হলো। আমার সহকর্মী রংপুরের বিভাগীয় লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান আবেদ সাহেব এসে বললেন,

– স্যার চলেন একটু বাইরে যাই।
– আমি একটু আগেই বাইরে থেকে ফিরলাম।
– স্যার চলেন, বিদেশে আবার কবে আসবো তারতো ঠিক নেই। যতটুকু পারা যায় সময় উপভোগ করা প্রয়োজন।
– ঠিক আছে চলেন (কিছুটা অনিচ্ছা থাকলেও আবেদ সাহেবের অনুরোধ ফেলে দেয়া আমার পক্ষে কষ্টকর)!

লাইব্রেরি অব বার্মিংহামের টেরেসে সফরকারী সহকর্মীদের সাথে লেখক
 লাইব্রেরি অব বার্মিংহামের টেরেসে সফরকারী সহকর্মীদের সাথে লেখক

যেতে যেতে তাকে একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনালাম। তিনি বিস্মিত হলেন। হোটেলের সামনের রাস্তায় অফিস ফেরৎ লোকজন চলাচল করছিল। নানা বর্ণের নারী-পুরুষ সমানে হেঁটে চলেছেন এখান থেকে সেখানে। ক্রিসমাসের এক মাস বাকি থাকলেও ভবনগুলো এখন থেকেই নানা বর্ণে সাজানো হয়েছে। ঝলমলে আলোয় চারদিকে উদ্ভাসিত। আমি আর আবেদ সাহেব বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম। ট্রাম জাতীয় ট্রেন রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচল করছে, এগুলো সবই নতুন অভিজ্ঞতা। এমন সময় হোটেলের কোণার দিক থেকে হট্টগোল শুনতে পেলাম। দেখলাম সেই যুবক যার সাথে আমার দেখা হয়েছিল, এক বয়স্ক লোকের সাথে ঝগড়া করছে। বয়স্ক লোকটার পোশাকও নোংরা এবং জরাজীর্ণ। তর্ক-বিতর্কের এক ফাঁকে যুবকটা দড়াম করে বৃদ্ধের নাকে ঘুষি মেরে দিল এবং বৃদ্ধটির নাক বেয়ে রক্ত ঝরতে লাগল। নিরাপত্তা বাহিনীর লোকরা এগিয়ে আসতেই যুবকটি পালিয়ে গেল। আমরা হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম তারপর অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে নিকটস্থ শপিং মলের দিকে রওনা হলাম। যেতে যেতে সবাই সবার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলাম। শপিং মলে কেনাকাটার চেয়ে দেখাদেখির দিকেই আমার উৎসাহ ছিল বেশি। চকলেট, প্রশাধনী, কাপড় সবকিছুই দেখছিলাম আর মনে মনে ভেবে রাখছি কোনটা কিনবো। অবশ্যই কম দামের আইটেমের দিকে মনযোগ বেশী ছিল আমার। আসন্ন ক্রিসমাস উপলক্ষে বেশকিছু উপকরণে ছাড় আর স্পেশাল অফার চলছিল। লক্ষ্য করলাম কেউ কেউ ইতোমধ্যে কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কোন ভেদাভেদ চোখে পড়লো না। পুরুষরাও দিব্যি প্রশাধনীর কিনছে, কোয়ালিটি যাচাই করছে, দরদাম করছে, অন্যদিকে আমাদের নারী সহকর্মীরাও পুরুষদের আইটেম দেখছে, কিনছে, যাচাই করছে। আমাদের সাথে অবশ্য দু’জন নারী সহকর্মী রয়েছেন। একজন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের আমার সিনিয়র সহকর্মী লাইব্রেরিয়ান ফাতেমা খাতুন ম্যাডাম, অন্যজন মুন্সিগঞ্জের লাইব্রেরিয়ান রাফিয়া সুলতানা। রাফিয়া বয়সের দিক থেকেও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হলেও বেশ সাহসী মনে হলো দিব্যি একাকী এদিক-সেদিক যাচ্ছে, যেখানে আমরা কয়েকজন কেউ কাউকে ছাড়ছি না।

প্রায় সাড়ে আটটার দিকে আমরা হোটেলে ফিরলাম। নয়টায় আইয়ুব খানের নিমন্ত্রণে যেতে হবে। আইয়ুব খান যুক্তরাজ্য লাইব্রেরি এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। একটি পাকিস্তানি রেঁস্তোরায় তিনি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানালেন আমাদের সফরসঙ্গী লাইব্রেরি আনলিমিটেড প্রজেক্টের তাপস দা।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,

– তাপস দা, রেস্টুরেন্টটা কতদূর? আমি হাঁটাহাঁটিতে খুব বেশী অভ্যস্ত না তাই সবার আগে দূরত্ব জানার চেষ্টা করি।
– এইতো খুব বেশি দূরে না। তিনি অভয় দিলেন।

আমার কেন জানি ভরসা হলো না তাঁর কথায়। এমনিতেই দীর্ঘযাত্রার ক্লান্তি, দিনভর উত্তেজনা এবং ৪-৬ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা সবমিলিয়ে বিছানা আমাকে টানছিল। আমি এর ওর দিকে তাকালাম আমার মতো ক্লান্তি কারো চেহারায় দেখা যাচ্ছে কিনা দেখার জন্য। কিন্তু সবাই মনে হলো নতুন উদ্যোমে রাত শুরু করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। ক্ষীণ আশা ছিল, আমার মতো দুই/একজন পেলে ট্যাক্সি বা সিটি সার্ভিসের চেষ্টা করতাম। রাতের বেলা একাকী সে চেষ্টা করার প্রশ্নই আসে না। আমরা সকলে শীতের জন্য গরম পোশাক পরে বের হয়েছি। শুধু শওকত স্যারকেই দেখলাম (সিলেটের উপপরিচালক) শুধু একটা ব্লেজার গায়ে চাপানো। যা হোক প্রচণ্ড শীতল হাওয়ার মধ্যে দিয়েই দাওয়াত খাওয়ার জন্য রওনা হলাম।

হাঁটছিতো হাঁটছিই পথ শেষ হবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আমার সহকর্মীদের কারও মধ্যে ক্লান্তি নেই। রাস্তায় যাই দেখছে তার সামনেই ছবি তুলছে। জন ডোলানও সমান উৎসাহে এটা সেটার বর্ণনা দিয়ে চলেছেন। যেতে যেত যে বিষয়টা আমার দৃষ্টি এড়ালো না, তা হলো মাঝে মাঝেই দারিদ্র বেশ-ভূষার যুবক-যুবতী-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা শতচ্ছিন্ন কম্বল গায়ে এখানে সেখানে শুয়ে আছে, বসে আছে বা দাঁড়িয়ে আছে। কেউ অবলীলায় ভিক্ষা করছে, কেউবা ভায়োলিন, গিটার বাজিয়ে ভিক্ষা করছে। দেশ থেকে এতদূর এসেও দারিদ্রতা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ অন্য দেশকে উঁচু করে, নিজ দেশকে ছোট করার গল্প ছোট থেকেই শুনে আসছি। এই তুলনা করার প্রবণতাসম্পন্ন মানুষের অভাব নেই বাংলাদেশে। আমরা কমবেশি সবাই ছোট বেলা থেকেই তুলনা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। কখনও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে, কখনও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা শিক্ষকদের কাছ থেকে। ‘তোমার চেয়ে ওর রেজাল্ট কত ভালো দেখো!’, ‘ও সারা দিনরাত পড়াশুনা করে আর তুমি?’, ‘অমুককে দেখলাম ৫০/৬০টা রচনা মূখস্ত আছে, তোমার কয়টা?’, ‘সে অমুক ভার্সিটিতে পড়ছে, তুমি?’, ‘সে অমুক ক্যাডারে চাকরি করছে, তুমি?’, ‘সে এত্ত এত্ত স্যালারি পায়, তুমি?’, ‘তারা ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর বেড়াতে যায়, তোমার দৌড় শরীয়তপুর!’ এ ধরণের কথাগুলো আমাদের যেমন পরিচিত, তেমন বিদেশের প্রশংসা আর দেশের দুর্নামও আমাদের কাছে অতি পরিচিত এবং আমরাও এসব বিনাবাক্যে মেনে নেই।

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে আমরা কাঙ্ক্ষিত রেঁস্তোরায় এসে গেলাম। আয়ুব খান আন্তরিক হাসি দিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলেন। মোটমুটি নিরিবিলি রেঁস্তোরা, আমাদের দলেই অর্ধেক চেয়ার-টেবিল ভরে গেল। আইয়ুব খান সবার সাথে পরিচিত হতেই খাবার আসতে শুরু করলো সবই ইন্ডিয়ান খাবার। এ্যাপিটাইজারে ডোসা জাতীয় খাবার এলো। এই ফাঁকে বলে রাখি আমাদের বৃটিশ কাউন্সিলের সহকর্মী তাপস দা আর শাকিল ভাই আগে ভয় দেখিয়েছিলেন খাবারের বিষয়ে ইংল্যান্ডে শুধু স্যান্ডউইচ টাইপের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। ভারি খাবারের আশা না করাই ভালো। আমি শুকনো মুখ করে খুব ধীরে ধীরে খেতে লাগলাম। মনে করেছিলাম এটাই বোধ হয় মেইন ডিশ। কিন্তু একটু পরে ভুল ভাঙ্গলো। একের পরে এক খাবার আসতেই থাকলো যখন মেইন ডিশ আসলো ততক্ষণে আমাদের পেট পরিপূর্ণ।

খাবারের মাঝখানেই জানলাম আমাদের আগামীকাল সকালে অফিসিয়াল পরিদর্শন আরম্ভ হবে লাইব্রেরি অব বার্মিংহাম পরিদর্শনের মধ্যে দিয়ে। ডিনার শেষে আবারও সেই লম্বা পথ অতিক্রম করে হোটেল রুমে ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেল। দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করে কম্বলের ভেতরে ঢুকেই কিছুক্ষণ স্থির হয়ে শুয়ে থাকলাম। অভ্যাসবশতঃ টিভি ছেড়ে চ্যানেলগুলো একটার পর একটা পরিবর্তন করতে লাগলাম। শুধু বিবিসি আর বিবিসি সাথে বস্তাপচা কিছু মুভি চ্যানেল। একটা চ্যানেলে দেখলাম আমাদের আলিফ লা্য়লা মার্কা ‘সিনবাদ’ দেখাচ্ছে আর কয়েকটাতে চলছে এ্যাডাল্ট লেট-নাইট শো। বিরক্ত হয়ে টিভি বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লাম।

নিজগৃহের বাইরে গেলে আমার খুব সকালেই ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম থেকে উঠে শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে নিলাম ব্যস্ত দিন কাটানোর জন্য। একদিনে তিনটি লাইব্রেরি ভিজিট করতে হবে আজকে। হোটেলের ডাইনিং-এ কমপ্লিমেনটারি ব্রেকফাস্টের জন্য ঢুকলাম। ডাইনিং-এ ঢোকার পূর্বে রয়েছে বার। এই সাত সকালেও সেখানে কাস্টমারদের ভিড় দেখে অবাক হলাম। কাস্টমারদের মধ্যে দুই-একটি পরিচিত মুখও চোখে পড়লো। বুফে সিস্টেমে ইংলিশ ব্রেকফাস্ট সাজানো। প্লেট ভর্ত্তি গ্রিল্ড টমেটো, বেকড বিন, টোস্ট, ফ্রায়েড এগস আর এক গ্লাস আপেল জুস নিয়ে টেবিলে গিয়ে বসলাম সেখানে আমার সহকর্মী আবেদ সাহেব এবং আব্বাস সাহেব (চট্টগ্রামের লাইব্রেরিয়ান) বসে ছিলেন।

আবেদ সাহেব বললেন,

– স্যার দুপুরে কী লাঞ্চ করাবে কে জানে যতটা পারেন পেট ভরে খান। আব্বাস সাহেবও তাতে সায় দিলেন।

আমি তাদের কথায় পূর্ণ সমর্থন দিয়ে খাবারে মনযোগ দিলাম। খাওয়া শেষে লবিতে সবাই একত্র হলাম। সেখানে জন আর আইয়ুবও রয়েছেন। আমাদের আবারও দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বর্ণনা করলেন। আমরা লাইব্রেরি অব বার্মিংহামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। হোটেল থেকে হাঁটা পথে মাত্র দশ মিনিটের দূরত্ব হওয়ায় বেশি সময় লাগলো না। আইয়ুব খান আমাদের বার্মিংহাম লাইব্রেরির পুরাতন ভবনটি দেখালেন। ভিক্টোরিয়ান ডিজাইনের এই ভবনটি এখন স্থানীয় সরকারের কাজে ব্যবহৃত হয়। আর নতুন যে ভবনটি দেখলাম তাতে চোখ ছানা-বড়া হয়ে গেল। অত্যাধুনিক বহুতল ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে তখনও সামান্য বাকী ছিল। আমরা লাইব্রেরির ক্যাফেটারিয়া জাতীয় একটি স্থানে একত্রিত হলাম। সেখানে লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আমাদের ব্রিফিং করলেন এরপরে জন আর আইয়ুবের নেতৃত্বে আমাদের দলটিকে দুই ভাগ করে দুই দিক থেকে লাইব্রেরি পরিদর্শন শুরু করলাম। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের আমার সিনিয়র সহকর্মী তৎকালীন লাইব্রেরিয়ান (প্রশাসন ও হিসাব) প্রয়াত আলী আহমেদ স্যার আমাকে বললেন মাঝে মাঝে লাইব্রেরির ছবি তুলতে।

লাইব্রেরি অব বার্মিংহামে গেলে যে কারো মনে হবে অত্যাধুনিক কোন শপিংমলের কথা। সুপরিসর এলিভেটর আর লিফট দিয়ে ওঠা-নামার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। লাইব্রেরির এক কোণে সেলফ-ফটোগ্রাফি বুথ চোখে পড়লো, সেখানে মানুষ জন অফিসিয়াল বা পাসপোর্ট সাইজের ছবি তুলছে। এ ধরণের বুধ এখানকার রেল-স্টেশন ও শপিংমলগুলোতেও দেখেছি। লাইব্রেরিতে বইয়ের কালেকশন রয়েছে প্রচুর। আছে বেশ কয়েকটি আর্কাইভ। সেক্সপিয়ার মেমোরিয়াল হলে রয়েছে সেক্সপিয়র বিষয়ক পৃথক সংগ্রহশালা। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের কাছে জানলাম এটির সাথে ব্রিটিশ লাইব্রেরির নেটওয়ার্কিং রয়েছে। লাইব্রেরির ভবনটিকে পরিবেশ বান্ধব ‘গ্রিন লাইব্রেরি’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, আলো, পানি ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উৎসকে কাজে লাগানো হয়েছে। ভবনের ছয় তলার উন্মুক্ত প্লাজায় রয়েছে বিশাল এক বাগান। যেখানে সবুজ পরিবেশে শহরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

লাইব্রেরির বিজনেস আইপি সেন্টারটি আমাদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা জানলেন এখানে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পোর্টফোলিও সংরক্ষণ করা হয়। উদ্যোক্তারা এখানে এসে নতুন নতুন বিজনেস আইডিয়া গ্রহণ করে। ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য রয়েছে বিশেষ সভা কক্ষ। বিজনেস আইপি সেন্টারের কর্মকর্তাটি এত ব্যস্ত যে, আমাদের সাথে কথা বলার পাঁচ মিনিটের মধ্যে দু’বার তাকে ডেস্কে যেতে হলো সেবা দেয়ার জন্য। সেল্ফ-চেকিং সিস্টেম, ইনফরমেশন কিয়স্কসহ তথ্যপ্রদানের বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তি লাইব্রেরির এখানে সেখানে দেয়া আছে। শিশু পাঠকক্ষে প্রবেশের পূর্বে জন আমাদের সাবধান করে দিল ভুলেও যেন কোন ছোট বাচ্চার ছবি না তুলি। এই নিয়ম ইংল্যান্ডের সব জায়গায় রয়েছে। আমি আরও কয়েকটি দেশে নিয়মটি দেখেছি। শিশু লাইব্রেরিতে ঢুকে মনে হলো রূপকথার রাজ্যে প্রবেশ করলাম। রঙ্গীন আর আকর্ষণীয় ডেকোরেশনের এমন লাইব্রেরিতে শিশুরা আনন্দ নিয়ে পড়তে আসবে। বইয়ের পাশাপাশি খেলার আইটেম দেয়া সাজানো লাইব্রেরির এই অংশে বাচ্চাদের গল্প-বলাসহ নানাবিধ অনুষ্ঠান নিয়মিত হয়।

লাইব্রেরির আর যে অংশটি আমার ভালো লাগলো সেটা হচ্ছে কালচারাল লাইব্রেরি। ডিজিটাইজড বুকসেল্ফগুলোতে আর্ট ও সংস্কৃতি বিষয়ক বইয়ের সংগ্রহে সমৃদ্ধ। শোভা পাচ্ছিল ভিক্টোরিয়ান আর কনটেম্পোরারি মিউজিক স্কোরের সংগ্রহ। এর একটি অংশে রয়েছে সংগীত কক্ষ যেখানে গিটার, পিয়ানোসহ নানা রকম মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট। কেউ চাইলে বিশেষ সাউন্ডপ্রুফ রুমে সঙ্গীত চর্চা করতে পারে। লাইব্রেরি অব বার্মিংহামে আরও রয়েছে স্পোর্টস কর্নার, এক্সিবিশন হল, ক্যাফেটেরিয়া, থিয়েটার, অডিটরিয়ামসহ নানারকম কর্নার। একজন মানুষের তথ্যচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিনোদন, শরীর চর্চা, সামাজিক আড্ডার সকল সুবিধা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই লাইব্রেরি ব্যবহার করে বলে জানলাম। জন ডোলান বার্মিংহামের অধিবাসী এবং এই লাইব্রেরির সাথে তার আবেগ চোখে পড়লো। সদাহাস্যময় সদালাপি এই বুড়ো বেশ গর্বের সাথে বললেন,

– তোমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান ভাবতে পারো কারণ তোমরা যে লাইব্রেরির অভিজ্ঞতা গ্রহণ করলে সেটা হলো ‘দ্য লার্জেস্ট পাবলিক লাইব্রেরি ইন ইউরোপ!’

[ঘটনাকাল নভেম্বর, ২০১৭]

(চলবে)

সফরকারী দলের স্থানীয় মেন্টর জন ডোলান লাইব্রেরি অব বার্মিংহাম সম্পর্কে সফরকারীদের ব্রিফিং দিচ্ছেন
         সফরকারী দলের স্থানীয় মেন্টর জন ডোলান লাইব্রেরি অব বার্মিংহাম সম্পর্কে সফরকারীদের ব্রিফিং দিচ্ছেন
বার্মিংহাম লাইব্রেরির অভ্যন্তরে পরিদর্শনরত লেখক ও সহকর্মীরা
    বার্মিংহাম লাইব্রেরির অভ্যন্তরে পরিদর্শনরত লেখক ও সহকর্মীরা
রাস্তায় চোখে পড়লো লাইব্রেরি অব বার্মিংহামের নোটিশ
  রাস্তায় চোখে পড়লো লাইব্রেরি অব বার্মিংহামের নোটিশ
লাইব্রেরি অব বার্মিংহামের ভূ-গর্ভস্থ স্পোর্টস সেন্টারের নির্মাণ কাজ চলছিল তখন
লাইব্রেরি অব বার্মিংহামের ভূ-গর্ভস্থ স্পোর্টস সেন্টারের নির্মাণ কাজ চলছিল তখন
Library of Birmingham (Now)
  Library of Birmingham (Now)

লেখক,

  • সহকারী পরিচালক (উন্নয়ন ও আইসিটি),
  • গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর,
  • ঢাকা।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close