Blog Post

বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণে এক দীর্ঘ যাত্রা

ড. মোহাঃ আজিজুর রহমান
এডিশনাল লাইব্রেরীয়ান
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
ত্রিশাল-২২২৪, ময়মনসিংহ


১. ভূমিকা:

শিক্ষা, ভাব বিনিময় ও যোগাযোগ এদের উপর গ্রন্থাগারের প্রভাব ও এই তিনের সমন্বয়সাধনে গ্রন্থাগারের ভুমিকা সুবিদিত- সর্বযুগে, সর্বকালে। একমাত্র গ্রন্থাগারই সঞ্চিত ও পুঞ্জিভ’ত মানব জ্ঞান ও এর ক্রমোন্নয়ন সযত্নে সংরক্ষণ করে যুগের পর যুগ ধরে। শিশু, কিশোর থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত জ্ঞানপিয়াসী যে কোন স্তরের মানুষের জন্য গ্রন্থাগারের দ্বার চির উন্মুক্ত চীরকালই। গ্রন্থাগার শুধু জ্ঞান বিতরণের কেন্দ্রেই নয়, স্বল্পকালীন এটি বিনোদন কেন্দ্র-ও বটে। গ্রন্থাগারকে আমরা যত বিশেষণে ভুষিত করি, এর পরিচয় সর্বাগ্রে- এটি একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা Service Institution। আর এই প্রতিষ্ঠানের উন্নত, যুগোপযোগী এবং চাহিদা অনুসারে উপযুক্ত সেবা ও কার্যক্রম নির্ভর করে দক্ষ জনবলের উপর। উপযুক্ত ও দক্ষ জনবল তৈরীর পূর্ব শর্ত হলো গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া ।

বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষার প্রথম সূতিকাগার হচ্ছে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি। এই সমিতি দেশের গ্রন্থাগার পেশার উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। দেশ বিভাগের পর ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন গ্রন্থাগারিক ফজলে ইলাহির তত্বাবধানে তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হয়। কিন্ত দুর্ভাগ্যবশতঃ মাত্র একটি কোর্স সমাপনের পরই তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক প্রফেসর নাফিস আহমদের কাছ থেকে মোহাম্মদ সিদ্দিক খান কর্তৃক গ্রন্থাগারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তার নেতৃত্বে ও তত্বাবধানে ১৯৫৫ হতে ১৯৫৯ সালের মধ্যে ফুলব্রাইট স্কলারদের সহযোগিতায় চারটি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হয়।

এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগ তখন এদেশে গ্রন্থাগারিকতা পেশায় প্রকৃত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে এবং গ্রন্থাগার শিক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে । গ্রন্থাগার আন্দোলনে পথে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি সর্ব প্রথম গ্রন্থাগার পেশাজীবিদের জন্য ছয় মাস মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স, এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে । এই ভাবে জন্মলগ্ন থেকে দেশে গ্রন্থাগারিকতা শিক্ষার পথিকৃত হিসেবে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি সহ দেশের পাঁচটি পাবলিক (সরকারী) বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান, বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচী পালন করে আসছে। সেই সাথে দেশের দশটি বেসরকারী (প্রাইভেট) বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে । বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য সিংহভাগ জনশক্তি সৃষ্টি করেছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। দক্ষ জনশক্তি তৈরীর ফলে কাংক্ষীত তথ্য সেবা প্রদান সহজ হয়।

গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান, বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচী পালন করে আসছে। সেই সাথে দেশের দশটি বেসরকারী (প্রাইভেট) বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে । বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য সিংহভাগ জনশক্তি সৃষ্টি করেছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। দক্ষ জনশক্তি তৈরীর ফলে কাঙ্খিত তথ্য সেবা প্রদান সহজ হয়।

২. উদ্দেশ্য:

  • ১. দেশে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়নে পেশাজীবী সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি কি কি অবদান রেখেছে সে সর্ম্পকে জানা।
  • ২. গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে দেশের সরকারী (পাবলিক) বিশ্ববিদ্যালয় কি কি কোর্স প্রোগ্রাম চালু রয়েছে সে সর্ম্পকে অবগত হওয়া ।
  • ৩. কোন কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কি কি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে সে সর্ম্পকে অবগত হওয়া ।

৩. পটভুমি:

বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে, সময়ের বিবর্তনে কালের চাহিদা মোতাবেক এই শিক্ষার ক্রমোন্নতি লাভ করেছে। এই জন্য বিভিন্ন সময় এ শিক্ষার নামেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে “তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা’’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ একটি পেশা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান ও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর কলেবর বৃদ্ধিতে পেশাজীবী সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে দেশের সর্বচ্চো বিদ্যাপীঠগুলিতে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর (ডিপ্লোমা) স্নাতকোত্তর এমফিল ও পিএইচডি কোর্স চালু করা হয়েছে। দেশে দক্ষ গ্রন্থাগারিক সৃষ্টিতে এই কোর্স গুলি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে । নিন্মে বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষা বিস্তারে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে (পেশাজীবী সংগঠণ ও বিশ্ববিদ্যালয়) যাদের অবদান রয়েছে তাদের সর্ম্পকে আলোচনা করা হলো।

৪. বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি:

সমিতির জন্মলগ্নে এদেশে গ্রন্থাগারিকতার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার কোন ব্যবস্থা ছিল না। অথচ গ্রন্থাগার পরিচালনা একটি কারিগরি বিষয়। এ বিষয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য গ্রন্থাগার কর্মীদের গ্রন্থাগারিকতা ক্ষেত্রের শিক্ষা একটি অপরিহার্য বিষয়। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম মুহম্মদ সিদ্দিক খান, সহ-সভাপতি আহমাদ হোসাইন এ ক্ষেত্রে বিদেশে অধ্যায়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে সমিতির উদ্যোগে ১৯৫৮ সালে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ৬ মাস মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়। এ কোর্সটি এদেশে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম নিয়মিত শিক্ষা কোর্স হিসাবে চালু হয়। কোর্সটি এদেশে গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সাব প্রফেশনাল জনবল সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। একই ধারাবাহিকতায় সমিতির ব্যবস্থাপনার বর্তমান ১০৪ তম কোর্সের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। দেশের সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রন্থাগারে গ্রন্থাগার কর্মী নিয়োগে এই কোর্সটিকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়ে থাকে। এই পর্যন্ত ১০৪টি ব্যাচে ১৫,০০০ (পনের হাজার) এর অধিক শিক্ষার্থী এ কোর্স সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রন্থাগারসমূহে গ্রন্থাগার কর্মী হিসাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি অধীনে ১৯৮৯ হতে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু করে এবং সফলভাবে ১১টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এছাড়াও দেশে গ্রন্থাগার পরিচালনা, গ্রন্থাগারিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ এর আয়োজন সহ পেশার উন্নয়নে বিভিন্ন গতিশীল কর্মকান্ডের আয়োজন করে থাকে ।

৫. পাবলিক (সরকারী) বিশ্ববিদ্যালয়:

বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৩ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে মোট ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। নিন্মে এই সর্ম্পকে বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হলো ।

৫.১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:

গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষার প্রথম সোপান হলো ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে “গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগ” নামে একটি বিভাগ খোলা হয় এবং ১৯৫৯-৬০ শিক্ষাবর্ষে থেকে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি স্কুলের কারিকুলাম অনুযায়ী এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্সের প্রবর্তন করা হয়। গ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে তৎকালীন গ্রন্থাগারিক জনাব মুহাম্মদ সিদ্দিক খানকে নবগঠিত এই বিভাগের প্রধান করা হয়। ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমাধারীদের জন্য এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স চালুর মধ্য দিয়ে এই দেশে সর্ব প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে “গ্রন্থাগার বিজ্ঞান” বিভাগ নামে একটা পূর্নাঙ্গ বিভাগ খোলা হয়। ১৯৭৫-১৯৭৬ শিক্ষা বর্ষে এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু রেখে দু বছর মেয়াদী মাস্টার ডিগ্রী কোর্স ১৯৭৬-৭৭ শিক্ষা বর্ষ হতে চালু করা হয় । এছাড়া ১৯৭৬-৭৭ হতে দুই বছর মেয়াদী এম ফিল এবং ১৯৭৮-৭৯ হতে তিন বছর মেয়াদী

পিএইচডি কোর্স চালু করা হয় । এছাড়া ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষা বর্ষ হতে তিন বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু করা হয়। ১৯৮৯-৯০ সাল হতে এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স বন্ধ করে দেয়া হয় । ১৯৯৪-৯৫ সালে দুই বছর মেয়াদী এম এ কোর্স চালু করা হয়। এছাড়াও চার বছর মেয়াদী ১৯৯৭-৯৮ স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু করা হয় এবং ২০০৫-০৬ শিক্ষা বর্ষ হতে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে ।

৫.২ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:

১৯৯১ সালে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়। এই কোর্সটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর পরবর্তীতে আবার ২০১৫ সাল হতে এই কোর্স পূণরায় চালু করা হয়। ১৯৯২-৯৩ শিক্ষা বর্ষে তিন বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান), ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষা বর্ষে এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স, ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষা বর্ষে চার বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) কোর্স, ২০০৬-০৭ শিক্ষা বর্ষে এমফিল ও পিএইচডি কোর্স এবং ২০১৪ সাল হতে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স ডিগ্রী চালু করা হয়েছে ।

৫.৩ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্তির মাধ্যমে ১৯৯৯ সাল হতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অন ক্যাম্পাস সহ ৩০ এর অধিক ইনস্টিটিউটে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্সটি পরিচালিত হচ্ছে । সেই সাথে ডিগ্রি (স্নাতক) পর্যায়ে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়টি পৃথক বিষয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হয়েছে এবং ৯টি কলেজে পাঠদান করা হচ্ছে। ঢাকাস্থ লালমাটিয়া মহিলা, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে চার বছর মেয়াদী গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে (সম্মান) কোর্স সহ ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজে এবং খুলনার ইলামে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞানে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে । বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সাল থেকে এমএএস, এম ফিল ও পিএইচডি কোর্স চালু করা হয়েছে ।

৫.৪ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়:

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ হতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষে চার বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু করা হয়েছে।

৫.৫ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়:

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষে একবছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়েছে।

৫.৬. বেসরকারী (প্রাইভেট) বিশ্ববিদ্যালয়:

বর্তমানে বাংলাদেশে ১০৩ টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং এর মধ্যে দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয় বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন কোর্স যেমন: এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স, চার বছর মেয়াদী স্নাতক (সম্মান) কোর্স এবং দুই বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। যে সমস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স চালু আছে সেগুলো হলো- ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউর্নিভার্সিটি, চট্রগ্রাম (২০০৯), ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কিশোরগঞ্জ (২০১৩), কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (২০১৪), ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটি (২০১৫), ফেনী ইউনিভার্সিটি (২০১৫), শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর (২০১৬), খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ (২০১৬)। এছাড়া দুই বছর মেয়াদী ঢাকাস্থ রয়েল ইউনিভাসিটিতে (২০০৫), এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (২০১০) মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। সেই সাথে চার বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ (২০১৩), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকায় (২০১৬) চালু করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান পেশার উন্নয়নে দেশের আরো কিছু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও আরেকটি পেশাজীবী সংগঠণ বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্যায়নবিদ সমিতি (বেলিড) গ্রন্থাগারে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল লাইব্রেরী সেবা ও কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।


গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠ্যসূচিকে সমাজের বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। সেই সাথে দেশে গ্রন্থাগারিকতা শিক্ষা ও সেবাকে সমৃদ্ধশালী করার লক্ষ্যে একটি ন্যাশনাল লাইব্রেরী কমিশন গঠন করা জরুরী। যে কমিশন গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পেশার উন্নয়নে একটি রোল মডেল হিসাবে কাজ করবে।


পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রথমে বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) ছয় মাস মেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স চালু করে এবং যুগের প্রয়োজনে পরবর্তীতে এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স চালু হয় এবং এক পর্যায়ে এটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সাটিফিকেট কোর্স চালু আছে , তবে সীমিতভাবে। এই কোর্স এদেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও মান সম্পন্ন শিক্ষায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি এই পেশায় Sub Professional বিভিন্ন কমী সৃষ্টি করে অনেকেরই বেকারত্ব দুর করেছেন। পাশাপাশি আরো সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয় খোলা ও মান সম্মত শিক্ষামূলক কর্মসূচী বৃদ্ধি করতে হবে । গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠ্যসূচিকে সমাজের বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। সেই সাথে দেশে গ্রন্থাগারিকতা শিক্ষা ও সেবাকে সমৃদ্ধশালী করার লক্ষ্যে একটি ন্যাশনাল লাইব্রেরী কমিশন গঠন করা জরুরী। যে কমিশন গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পেশার উন্নয়নে একটি রোল মডেল হিসাবে কাজ করবে।


তথ্যসুত্র:

  • রহমান, মোহাঃ আজিজুর এন্ড জানা, শিব শংকর (২০১৭) এক্সপানশন এন্ড এক্সটেনশন অব এলআইএস এডুকেশন ইন বাংলাদেশ : এ হিস্টোরিক্যাল স্টাডি। ইন্টারন্যাশন্যাল জার্নাল অব ইনফরমেশন মুভমেন্ট। ইন্ডিয়া । ২(৫) ,৯৯-১০৩।
  • রহমান, মোহাম্মদ জিল্লুর (২০০৪), বাংলাদেশের গ্রন্থ উন্নয়ন ও গ্রন্থাগার। ঢাকা,শোভা প্রকাশ ।
  • আহমদ, নাসির উদ্দীন (১৯৯৮) । সমাজ গ্রন্থাগার ও যোগাযোগ । ঢাকা, বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি ।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close