ঢাকার উত্তরায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ভিন্নধর্মী এক লাইব্রেরি। নাম পথেরপাঠাগারA Street Library. এখানে খাতায় নিজের নাম আর ফোন নম্বর দিয়ে যে কেউ বিনামূল্যে বই নিয়ে যেতে পারেন বা চাইলে দিতে পারেন তার পছন্দের বইটি। বই পড়া যাবে এখানে বসেও। বই নিলে সেটি পড়ে ফেরত দিতে হবে অথবা নিজের একটা নতুন বা পুরাতন বই দিয়ে যেতে হবে। দেশের বাইরে এমন অনেক লাইব্রেরির দেখা মিললেও বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ এটাই প্রথম। গত ডিসেম্বরে Street Library র যাত্রা শুরু হয়।

নিশাত তাহিয়াত

পথেরপাঠাগারA Street Library র স্বত্বাধিকারী নিশাততাহিয়াতের সাক্ষাৎকার দিয়েছেন লাইব্রেরিয়ান ভয়েসকে। কথা বলেছেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।


লাইব্রেরিয়ানভয়েস:Street library ধারণাটিকোথাথেকেপেলেন?

নিশাত তাহিয়াত: বই পড়তাম ছোটবেলা থেকেই। বড় হওয়ার পর এটা নেশায় পরিণত হয়ে যায়। আমি চাই অন্যরাও বই পড়ুক, বই এর মধ্য দিয়ে অন্য জীবনের অভিজ্ঞতা নিক, জ্ঞান অর্জন করুক। আর আমার ইচ্ছে ছিলো সোশ্যাল ওয়ার্ক করার, আমার সোসাইটিকে সার্ভ করার। তখন এই স্ট্রিট লাইব্রেরির আইডিয়াটা কাজে লাগাই। বিদেশে এরকম আছে দেখেছি, তাহলে আমাদের এখানে কেন না? তখন আমার মনে হয়েছে যে বই পড়ার অভ্যাসটা মানুষের অনেক কমে যাচ্ছে। আর একটা জ্ঞান সম্মত সমাজ গড়ে তোলার জন্য স্ট্রিট লাইব্রেরী একটা ভালো উদ্যোগ হতে পারে। অনেকেই আমাকে বলেছিল, দেখো বই চুরি হয়ে যাবে, পুরো বক্স টাই হয়তো চুরি হয়ে যাবে। কিন্তু আমি চেয়েছি যে স্ট্রিট লাইব্রেরিটা পারস্পরিক বিশ্বাস, ভরসা আর শ্রদ্ধাবোধের একটা চিহ্ন হয়ে উঠুক। কারণ এখন আমরা একজন আরেকজনকে একেবারেই বিশ্বাস করতে চাইনা। কিন্তু সবাই তো আমাদেরই মানুষ, আমাদের কমিউনিটির মানুষ। তাহলে কেন একবার বিশ্বাস করে দেখব না সবাইকে। আর উত্তরাতে আসলে ওরকম বসে বা বই নিয়ে পড়ার মতো কোনো লাইব্রেরির ব্যবস্থা আমি এখনো দেখিনি তাই আমি চেষ্টা করেছি যে উদ্যোগটা আমার এলাকা থেকে শুরু হোক।পথের পাঠাগার A Street Library

লাইব্রেরিয়ানভয়েস:কেমনসাড়াপাচ্ছেন?

নিশাততাহিয়াত: খুবই শখের বশে ছোট করে আমার নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহের নতুন পুরনো সব মিলিয়ে ষোলটা বই দিয়ে আমি শুরু করেছি। এরমধ্যে আসলে সবাই এত উৎসাহ দিচ্ছে যেটা আমি কখনো চিন্তাও করিনি। অনেকেই আমাকে মেসেজ দিচ্ছে তারা বই ডোনেট করতে চায়। এমনকি একজন তো ঢাকার বাইরের, উনি খুলনা থেকে উনি বই পাঠাতে চাচ্ছেন। তো এই ব্যাপারগুলো আমাকে সত্যিই খুব অবাক করেছে আর মানুষকে নতুন করে জানতে শিখিয়েছে। এখনো একটা বইও পর্যন্ত চুরি হয়নি। এত অল্পদিনে এত বেশি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি যেটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

লাইব্রেরিয়ানভয়েস:এটিনিয়েআপনারভবিষ্যতপরিকল্পনাকি?

নিশাততাহিয়াত: যেহেতু সবাই অনেকেই পছন্দ করেছেন ব্যাপারটা, বই পড়ছেন, বই দিয়ে যাচ্ছে্ন, নিয়ে যাচ্ছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন, সুতরাং এর পরিধিটা বাড়ানোর ইচ্ছে আছে আমার। আর পথের পাঠাগার হচ্ছে সম্পূর্ণ ফ্রি একটা সার্ভিস যেখানে কোন মেম্বারশীপ এর জন্য টাকা দিতে হয় না, বই নেয়া দেয়া, ধার নেয়ার ক্ষেত্রে কোন টাকা দিতে হয় না- একেবারেই ফ্রী। তাই আমার ধারণা এটা যদি আস্তে আস্তে প্রসারিত করা যায় তাহলে অনেক মানুষ এখান থেকে উপকৃত হবে। এখন আপাতত উত্তরা এলাকাতেই হয়তো অল্প অল্প করে পরিসর বাড়াবো। তারপর মানুষের উৎসাহ ও সহযোগিতা পেলে ধীরে ধীরে ঢাকার কিছু এলাকায় এবং হয়তো দেশের অন্যান্য জেলায় যদি সম্ভব হয় তাহলে আমি এটা বাড়ানোর চেষ্টা করব।

লাইব্রেরিয়ানভয়েস: আপনাকে ধন্যবাদ।

নিশাততাহিয়াত: লাইব্রেরিয়ান ভয়েসকেও ধন্যবাদ।


পথেরপাঠাগার A Street Libraryঠিকানা

  • ঈশা খাঁ এভিনিউ (বিএনসিসি রোড), সেক্টর নং- ০৬, উত্তরা, ঢাকা।
  • সময় সকাল থেকে রাত সারাদিনই খোলা থাকে

সাক্ষাৎকার নিয়েছেনঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ