Blog Post

নানা ধরণের ওপেন একসেস

অন্তরা অনোয়ার:

ওপেন একসেস প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে কোন তত্ত্বানুসন্ধানের পর তা লাইসেন্সের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, একইসাথে তা পুনঃব্যবহারের জন্য সর্বাধিক বিধিনিষেধগুলি দূর করে অনলাইনে বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। ওপেন অ্যাক্সেসের প্রধান লক্ষ্যই হল পিয়ার রিভিউড রিসার্চ লিটারেচার। ওপেন একসেস উন্নত দেশগুলিতে শুরু হয়েছিল এবং ২০০২ সালে বুদাপেস্ট ওপেন একসেস ইনিশিয়েটিভ (বিওএআইআই) নামে পরিচিত তিনটি উল্লেখযোগ্য ঘোষণা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল।

লেখক তার নিবন্ধ সর্বাধিক একসেস প্রকাশ করতে পারেন এবং তা নিশ্চিত করার জন্য তাকে ওপেন একসেসের ধরণ বুঝে নিয়ে তা উম্মুক্ত করতে হয়। তাহলেই লেখক, প্রকাশকের লক্ষ্য ক্ষুন্ন হওয়া থেকে মুক্ত থাকবে এবং পাঠকও সহজে ধরণ বুঝে তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। ওপেন একসেস প্রকাশনার বিভিন্ন ধরণ রয়েছে এবং এগুলোকে বিভিন্ন প্রকাশক এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

রঙয়ের মাধ্যমে নামকরণ পদ্ধতিঃ

সবগুলো ওপেন একসেস-ই নির্ভর করে আছে ক্রিয়েটভ কমন্স লাইসেন্সিং এর উপর ভিত্তি করে। ওপেন একসেস প্রবেশাধিকার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে ওপেন এক্সেসকে ধরন ভেদে রঙ ব্যবহার করে সাধারণত শ্রেণী বিভক্ত করা হয়। সর্বাধিক স্বীকৃত নাম হল গ্রীণ, গোল্ড এবং হাইব্রিড ওপেন একসেস; অতিরিক্ত কিছু মডেলের জন্য আরো অন্যান্য নাম ব্যবহৃত হয়।

  • গোল্ড ওপেন একসেস: গোল্ড ওপেন একসেস জার্নালগুলিতে নিবন্ধ এবং সামগ্রী উম্মুক্ত থাকে। এগুলো ইন্টারনেটে যে কেউ সহজে পেতে পারে কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি বা সাইন-ইন ছাড়াই। এই জার্নালগুলি তাদের প্রতিষ্ঠান দ্বারা অর্থায়ন, পর্যালোচনা ও বিন্যাস করা হয়। সাধারণত এর খরচ আর্টিকেল প্রসেসিং চার্জেস (এপিসি) এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়, লেখক দ্বারা অর্থ প্রদান করা যেতে পারে বা একটি তহবিল কাউন্সিল হিসাবে তৃতীয় পক্ষের দ্বারাও প্রদত্ত হতে পারে। এই গুণমান সম্পন্ন সামগ্রী গুলো গোল্ড ওপেন একসেস হিসাবে পরিচিত। এর নিবন্ধ গুলি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স বা অনুরূপের মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া থাকে এবং পুনঃ ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স যুক্ত করা হয়ে থাকে।
  • গ্রীণ ওপেন অ্যাক্সেসঃ গ্রীণ ওপেন একসেসে জার্নাল প্রকাশক লেখককে তার নিবন্ধে অবাণিজ্যিক অধিকার রাখতে অনুমতি দেয় এবং ইন্টারনেট সংরক্ষণাগারগুলিতে লেখক মন্তব্যও করতে পারেন। প্রকাশক ওপেন একসেস রিপোজিটরিগুলিতে লেখকদের কাজ স্ব-সংরক্ষণাগার করার ক্ষমতা সরবরাহ করে থাকে।
  • হাইব্রিড ওপেন একসেস: হাইব্রিড ওপেন একসেস জার্নাল গুলিতে ওপেন ও ক্লোজ অ্যাক্সেস মিশ্রণের নিবন্ধ গুলি রয়েছে। এই মডেল অনুসরণকারী একজন প্রকাশক আংশিকভাবে সাবস্ক্রিপশন করেন, এবং লেখক বা গবেষক প্রকাশনার ফি প্রদান করে, এবং শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি নিবন্ধগুলির জন্য উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার পায় যিনি সাবস্ক্রিপশন ফি প্রদান করে থাকেন। ওপেন অ্যাক্সেসের হাইব্রিড মডেলগুলিতে উপকরণ প্রকাশের খরচ সাধারণত লেখক, প্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরি, বা সাবস্ক্রিপশন ফি যা সরাসরি লেখকের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে বহন করা হয়। হাইব্রিড ওপেন অ্যাক্সেসের কিছু উদাহরণ হল: Taylor & Francis এর OpenAccess, Wiley এর Online Open, বা Sage এর Sage Open।
  • ব্রোঞ্জ ওপেন একসেস: বিলম্বিত ওপেন- একসেস জার্নাল পত্রিকা প্রাথমিক ভাবে সাবস্ক্রিপশনের জন্য নিবন্ধগুলি প্রকাশ করে থাকে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল ধরে তা সাবসস্ক্রিপশন ফি দিয়ে পড়তে হয় এবং তারপর একটি নিষেধাজ্ঞা সময়কাল (মাস থেকে বছর পর্যন্ত পরিবর্তিত) পরে ওপেন একসেস হিসাবে প্রকাশ হয়ে থাকে।
  • ডায়মন্ড / প্ল্যাটিনাম ওপেন একসেস: প্ল্যাটিনাম (স্পন্সর বা ডায়মন্ড হিসেবেও পরিচিত) ওপেন একসেস জার্নাল গুলি সাবস্ক্রিপশন ফি বা লাইসেন্সের অর্থ ছাড়াই অবিলম্বে একসেসের অনুমতি দেয়। প্ল্যাটিনাম অ্যাক্সেসে নিবন্ধগুলো উম্মুক্ত থাকে যেমনটা গোল্ড ওপেন একসেসে হয় এবং লেখকদের কোনও প্রকার ফি দিতে হয়না যেমনটা গ্রীণ ওপেন একসেসে হয়। কখনও কখনও, “ডায়মন্ড ওপেন একসেসও একই ধারণার জন্য ব্যবহার করা হয়। এগুলোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো, গোল্ড, ডায়মন্ড, প্ল্যাটিনাম ধাতুগুলোর মতই। যেমন, গোল্ড হতে ডায়মন্ড ভালো এবং প্ল্যাটিনাম তার চেয়েও ভালো। এটি ইউনিভার্সাল একসেস অথব ইউনিভার্সাল ওপেন একসেস নামেও পরিচিত।
  • ব্ল্যাক ওপেন একসেস: বড় আকারের কপিরাইট লঙ্ঘন দ্বারা ডিজিটাল পাইরেসি বৃদ্ধির ফলে Paywall এর মাধ্যমে নিবন্ধ উম্মুক্ত করা হয় যা বিনামূল্যে ব্যবহারকারীরা সহজে ব্যবহার করতে পারে। এই ডিজাইন প্যাটার্নে মডিউল গুলোই ব্ল্যাক ওপেন একসেস।

জ্ঞানের প্রচার ও প্রসার যাতে শুধু কোন নির্দিষ্ট গোষ্টির না হয়ে সবাই সমভাবে তথ্যের যোগান পেতে থাকে সেজন্য ওপেন একসেস নিবন্ধগুলোকে অনলাইনে ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয় যাতে লেখকরা তাদের কাজকে আরও ব্যাপকভাবে বিতরণ করতে পারেন। এছাড়াও এর মাধ্যমে গবেষকরা নিবন্ধের গুণমান, পর্যালোচনা করে শিক্ষার উন্নতি সাধন করতে পারেন। গবেষকদের হাতের মুঠোয় মানসম্পন্ন তথ্য এনে দিয়েছে ওপেন একসেস।


তথ্যসূত্রঃ

  1. An introduction to open access, JISC (https://www.jisc.ac.uk/guides/an-introduction-to-open-access)
  2. Open access, Wikipedia, the free encyclopedia (https://en.wikipedia.org/wiki/Open_access#Definitions)
  3. Open access, Victoria University of Wellington (https://libguides.victoria.ac.nz/c.php?g=622049&p=4333507)
  4. Types of Open Access, University of Arkansas (https://uark.libguides.com/c.php?g=535245&p=3848479)
  5. Types of Open Access, Allegheny College (https://sites.allegheny.edu/scholarlycommunication/acoapolicy/oatypes/)
  6. What is a platinum open access journal?, IOPscience (https://publishingsupport.iopscience.iop.org/questions/what-is-a-platinum-open-access-journal/)
  7. Gold, green, and black open access ( 2017) by Bo‐ChristerBjörk (https://onlinelibrary.wiley.com/doi/full/10.1002/leap.1096)
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close