Blog Post

গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হোক দেশজুড়ে

মোঃ আরিফুল ইসলাম

আমাদের দেশে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানুষ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধি করতে পারছে শুধু বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য নয়, মনের জন্যও খাদ্য প্রয়োজন।  সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে  মানুষের নিজেকে এবং সমাজকে জানার আগ্রহের আলো উদ্ভাসিত হয়। নব নব প্রাপ্তির নেশায় মানুষ হয়ে ওঠে জ্ঞানচর্চামুখী। ধীরে ধীরে অপূর্ণতার বেড়াজালকে ছেদ করে মানুষ তার জ্ঞানভান্ডারে জমা করে হাজারো তত্ত্ব ও তথ্য। ফলে প্রয়োজন দেখা দেয় জ্ঞানগুলোকে স্থায়ী এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার। মানুষ বাকল, পোড়া মাটি,  প্যাপিরাস, চামড়া সহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে দর্শন, সাহিত্য, বাস্তব জীবনের অভীজ্ঞতা, রাজ্যের নীতি, হিসাব-নিকাশ, শিল্প সাহিত্য সহ সকল বিষয়ের প্রসার ও বিস্তার লিপিবদ্ধ করত। এই বিস্তৃত জ্ঞানভান্ডার পরবর্তীতে মানুষের ব্যবহার ও জ্ঞানচর্চামুখী করে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে তৈরী করা হয় গ্রন্থাগার। বর্তমানে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে রয়েছে জাতীয় গ্রন্থাগার।  আবার অনেকে গড়ে তুলেছে ব্যাক্তিগত গ্রন্থাগার । গ্রন্থাগার একটি জাতি কতটা উন্নত, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা তার পরিচয় বহন করে থাকে। গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞানচর্চার আনন্দকে সর্বদা জাগ্রত করে রাখে। বর্তমানে, গ্রন্থাগার মানুষের ক্লান্ত রোধ ও মনকে প্রফুল্ল করছে। যেমন, একজন মানুষের দেহের জন্য খাবারের রুচিভেদ ও পছন্দ অপরের চেয়ে ভিন্ন, তেমনি মনের বেলায় ও অনুরূপ। কেউ কবিতার বই  পছন্দ করে তো, কেউ পছন্দ করে উপন্যাস।  কেউ কেউ দর্শন, ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি সহ একজন ব্যবহারকারী তার প্রয়োজন ও রুচিমত বই পড়তে ভালোবাসে। মানুষের মনে রয়েছে অনন্ত জিজ্ঞাসা এবং অসীম কৌতুহল। আর এই অনন্ত জিজ্ঞাসা আর অসীম কৌতুহলের প্রশ্নের উওর দেয় বই, যা গ্রন্থাগারে বিদ্যামান। গ্রন্থাগারের জ্ঞানের ভান্ডারে রক্ষিত আছে বর্তমান থেকে শুরু করে  শত শত বছরের পুরনো হৃদয়ের স্পন্দন যা মানুষের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সাথে সেতুবন্ধন তৈরী করে, মনের অনন্ত জিজ্ঞাসা এবং অসীম কৌতুহল এর উওর দিতে হাসপাতালের ন্যায় ভূমিকা পালন করে।প্রতিটি সমাজে যেমন হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে তেমনি গ্রন্হাগারের ও প্রয়োজন রয়েছে। গ্রন্থাগার মানুষের বয়স, রুচি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বই সরবারহ করে থাকে, তাই সচেতন মানুষ সর্বদা সমাজে গ্রন্হাগারের প্রয়োজন বোধ করে। পৃথিবীর যত শ্রেষ্ঠ মনীষী রয়েছে তারা জীবনে উল্লেখযোগ্য সময় গ্রন্থাগারে কাটিয়েছেন। সাহিত্য, শিল্প, বিনোদন, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি সব ধরণের জ্ঞানের অধার এই গ্রন্থাগার। বর্তমানে একটি জাতির বিকাশ এবং উন্নতির মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে গ্রন্থাগার। শিক্ষা বঞ্চিত কোন জাতি পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। গ্রন্থাগার কে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। গ্রন্থাগার ছাড়া কোন সমাজ বা রাস্ট্র  তার নাগরিকদের পরিপূর্ণ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না এবং অধুনিক কালে গ্রন্থাগার ব্যাতিত কোন সমাজ বা রাস্ট্র গঠন করাও সম্ভব নয়। অনেকের বই পড়ার অভ্যাস থাকলে ও টাকার জন্য বই কিনে পড়া সম্ভব হয না। গ্রন্থাগার  এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রন্থাগার হলো মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।  আজ এই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করে এর প্রকৃত উপকার ভোগ করতে হবে।  জীবনের পরিপূর্ণতার জন্য জ্ঞানের চাইতে শ্রেষ্ঠ কোন উপকরন নেই।  তাই শহর থেকে শুরু করে  গ্রাম-মহল্লা পর্যন্ত গ্রন্থাগার তৈরী করতে হবে। যেখানে ধর্ম, বর্ণ, শিশু, তরুণ, বয়স্ক  সব ব্যবধান ভুলে গিয়ে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের জ্ঞানতৃষ্ণার  আনাগোনায় মস্তিষ্কের চাষাবাদের মাধ্যমে বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম শিক্ষার আলোতে আলোকিত হয়ে আধুনিক, উন্নত ও  শ্রেষ্ঠ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


মোঃ আরিফুল ইসলাম

  • শিক্ষার্থী, ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close