Blog Post

কপিরাইট অ্যাক্ট বা গ্রন্থস্বত্ব আইন

সরদার মো. মনজুরুল হক

কপিরাইট অ্যাক্ট বা গ্রন্থস্বত্ব আইন কি

সরদার মো. মনজুরুল হককপিরাইট হল মেধার  মালিকানা  প্রতিষ্ঠিত করা। ইংরেজি Copyright Act এর বাংলা অর্থ গ্রন্থস্বত্ব আইন বুঝালেও ব্যাপক অর্থে মেধাস্বত্ব আইনকে বুঝায়। পার্থিব  জগতে  সম্পদ বলতে সাধারণত দু’ধরনের সম্পদকে বুঝায়। ১) বস্তুগত  সম্পদ এবং ২) মেধা সম্পদ। কপিরাইট  আইনটি  মূলত তৈরি করা হয়েছে মানুষের মেধা সম্পদ সংরক্ষণের জন্য। মেধা সম্পাদের আওতায় আছে সাহিত্যকর্ম, গবেষণাকর্ম, নাট্যকর্ম, শিল্পকর্ম, সঙ্গীতকর্ম, অডিও-ভিডিওকর্ম, চলচ্চিত্রকর্ম, ফটোগ্রাফি, ভার্স্কযকর্ম, স্থাপত্যকর্ম, সম্প্রচারকর্ম, রেকর্ডকর্ম, সফট্ওয়ার, ই-মেইল, ওয়েবসাইট, বেতার ও টেলিভিশন সম্প্রচারকর্ম ইত্যাদি। এক কথায় মৌলিক সৃষ্টিকর্মের মালিকানা বা স্বত্বাধিকারী নিশ্চত করাই হল কপিরাইট। World Intellectual Property Organization (WIPO) এর মতে, “Intellectual Property refers to creations of mind : inventions, literary and artistic works and symbols, names, images and designs used in commerce”.

মানুষের বস্তুগত সম্পদ যেমন মালিক ছাড়া অন্য কেউ বিনা অনুমতিতে বা মূল্য পরিশোধ ব্যতীত ভোগ বা ব্যবহার করতে পারে না, মানুষের মেধাসম্পদের ক্ষেত্রেও সে বিধানটি একইভাবে প্রযোজ্য। সে কারণে মানুষের প্রতিটি মেধাকর্ম কপিরাইট আইনে গ্রন্থস্বত্ব বা মেধাস্বত্ব আইন দ্বারা সংরক্ষিত। সুতরাং বলা যায় কপিরাইট আইন বা গ্রন্থস্বত্ব আইন বলতে সাধারণত লেখার উপর লেখকের স্বত্ব কায়েমের দাবি বা আইনসিদ্ধ অধিকার বুঝায়। অর্থাৎ যে কোন সাহিত্যকর্ম বা সৃষ্টিশীল কাজের আইনানুগ স্বীকৃতিই হল কপিরাইট অ্যাক্ট বা গ্রন্থস্বত্ব আইন। লেখকের লেখা বই প্রকাশ করার ও অনুবাদ করার অধিকার একমাত্র লেখকের নিজের বা তার অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়। কোন সৃজনশীল কাজের পিছনে যে মেধা ও শ্রম ব্যয় হয় কপিরাইট অ্যাক্ট বা গ্রন্থস্বত্ব আইন তাকে সম্মান দেয় এবং সেই কাজকে চুরি, নকল বা বেআইনীভাবে মুদ্রণের হাত থেকে রক্ষা করে। সুতরাং বলা যায় সৃজনশীল কর্ম বিক্রয়, মুদ্রণ, পুণঃমুদ্রণ, প্রকাশনা, ও ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য সৃষ্টির উপর স্রোষ্টার অধিকার সংরক্ষণ করাকেই কপিরাইট অ্যাক্ট বা গ্রন্থস্বত্ব আইন বলে। কপিরাইট বুঝানোর জন্য সাধারণত বৃত্তের মধ্যে ইংরেজি © অক্ষর দিয়ে বুঝানো হয় এবং এই চিহ্নের পার্শ্বে যে সন ও ব্যক্তির নাম উল্লেখ থাকে সেই সনে উল্লিখিত ব্যক্তি/ ব্যক্তি বর্গ/ প্রতিষ্ঠানই কপি রাইটের মালিক হন। যেমন- এ্যাসেনসিয়ালস অব ক্যাটালগিং অ্যান্ড ক্লাসিফিকেশন।  ড: কে.এম.সাইফুল ইসলাম, © ২০০৮। সমগ্র পৃথিবীতে জীবিত রচিয়তা এবং তার মৃত্যুর পর সেই রচিয়তার বৈধ উত্তরাধিকারীগণ দেশ ভেদে ৫০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত সৃষ্টি কর্মের রয়্যালটি পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশে গ্রন্থস্বত্ব আইনে একজন রচিয়তার মৃত্যুর পর ৬০ বছর পর্যন্ত এই অধিকার বলবৎ থাকে। মেধাস্পদের ক্ষেত্রে প্রধান হুমকি হল পাইরেসি (Piracy), যার অর্থ হল মেধাস্বত্ব চুরি। এই চুরি ঠেকাবার জন্য মূলত গ্রন্থস্বত্ব আইন তৈরি করা। মৌলিক সৃষ্টি কর্মের কপিরাইট থাকলে বিনা অনুমতিতে সেগুলো ব্যবহার, পুনমুদ্রণ, অনুবাদ, প্রকাশ ইত্যাদি করা হলে কপিরাইট আইনের আওতায় শাস্তি ও জরিমানা হতে পারে।

কোন কোন সৃজনশীল কর্মের উপর কপিরাইট আইন প্রযোজ্য

এক সময় কপিরাইট বলতে শুধুমাত্র বইয়ের উপর লেখকের মুদ্রণ, পুণঃমুদ্রণ এবং প্রকাশের অধিকারকে বুঝাত। কিন্তু কালক্রমে অন্যান্য  মৌলিক সৃষ্টিকর্মের উপরও  কপিরাইট আইন স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন বলে কপিরাইটে নিম্নলিখিত উপকরণসমূহ ও তার সৃজনকারীদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। যথা-

  • ১)  বই-পুস্তক : সকল প্রকারের বই-পুস্তক, নাটক, উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ, বিশ্বকোষ, গেজেটিয়ারস, বর্ষপঞ্জি প্রভৃতি।
  • ২) সাময়িকী : সকল প্রকার পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী, বার্ষিকী, সংকলন প্রভৃতি।
  • ৩) সংগীত : সকল প্রকারের সংগীত, নৃত্য, মুকাভিনয় ও এদের বিভিন্ন শ্রেণি ও উপাদান।
  • ৪) চলচ্চিত্র : সকল প্রকার চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, শিল্প কর্ম, ড্রয়িং, নকশা, মডেল, ডিজাইন, ছবি, ম্যাপ প্রভৃতি।
  • ৫) রেকর্ড : সব ধরনের গান, আবৃত্তি, নাটক, ভাষণের রেকর্ড, বক্তৃতামালার রেকর্ড, ক্যাসেট, সিডি প্রভৃতি।

গ্রন্থস্বত্ব আইনরে আওতায় কারও রচনা, ছাপা, অনুলিপি তৈরি করা, পরিবর্তন করা ও নিজ নামে প্রচার করা, ব্যবসার উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা, অর্থ উপার্জনের জন্য তা বিক্রয় করা বা অন্যের সৃষ্টিকর্ম আত্নসাৎ করা জঘন্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। গ্রন্থস্বত্ব আইনে শুধু অধিকার সংরক্ষণ নয় অধিকার লংঘিত হলে তার শাস্তির ব্যবস্থাও আছে।

 কপিরাইট আইনের সময় সীমা

গ্রন্থস্বত্ব আইন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বিদ্যমান। তবে ১৯৭৮ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে সাহিত্যকর্ম, শিল্প কর্ম ও সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সময়সীমা নিম্নরূপ। যথা-

  • ১)  সাহিত্য, নাটক ও গানের রচিয়তা যদি একজন হয় তবে লেখকের মৃত্যর পর থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বা গ্রন্থস্বত্ব বলবৎ থাকবে।
  • ২) উল্লিখিত ক্ষেত্রে যদি যুগ্ম লেখক হয়  সেক্ষেত্রে যার মৃত্যু পরে হবে, তার মৃত্যুর ৫০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বলবৎ থাকবে।
  • ৩) লেখকের নাম জানা না থাকলে প্রকাশনার তারিখ থেকে পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বলবৎ থাকবে।
  • ৪) দক্ষিণাপ্রাপ্ত লেখকদের দিয়ে লেখানো বই হলে রচনার পর ১০০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বলবৎ থাকবে।
  • ৫) যুক্তরাষ্ট্রে কপিরাইট প্রকাশনার প্রথম ২৮ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে। দ্বিতীয়বার আবেদন সাপেক্ষে তা আর ও ২৮ বছরের জন্য নবায়ন হতে পারে।

কপিরাইটের নিয়মাবলী

১) যে কোন মৌলিক সৃষ্টিকর্মের সাধারণ নিয়ম: যে কোন মৌলিক সৃষ্টিকর্মের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকের যেকোন শাখায় নিদিষ্ট কোড নাম্বরে (অফিস থেকে জেনে নিয়ে) এক হাজার টাকা ট্রেজারি চালন করে তার মূল কপি, এক কপি ফটোকপি, কর্মটি মৌলিক মর্মে এবং আদালতে কোন মোকদ্দমা বিচারাধীন নেই ও প্রদত্ত তথ্য নির্ভুল ঘোষণা সংবলিত ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হয়। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসর্পোটরে সত্যায়িত ফটোকপি এবং পাসর্পোট সাইজের দুই কপি সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হয়। কপিরাইট নিবন্ধন সনদ পেতে সাধারণত ৩০ দিন সময় লাগে। কোন কোন ক্ষেত্রে আরও কিছুদিন সময় বেশি লেগে যেতে পারে।

২) সাহিত্য কর্ম: বই ও পান্ডুলিপি উভয়টির জন্য কপিরাইট নিবন্ধন করা যায়। লেখকের জীবনকাল ও মৃত্যুর পর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট বহাল থাকে। সাহিত্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের নিয়ম একই রকম। তবে দু’কপি বই বা পান্ডুলিপি জমা দিতে হবে। বইয়ের ক্ষেত্রে লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে আলাদা চুক্তি করে তা নিবন্ধন করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এ জন্য ৮০০ টাকা ফি জমা দিয়ে নির্ধারিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদন করে নিতে হবে। এ চুক্তির মধ্যে স্বত্ব নিয়োগের অধিকার, রয়্যালটির পরিমানসহ যাবতীয় শর্তাবলী উল্লেখ করে নিতে হবে।

৩) কম্পিউটার সফটওয়্যার: প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত উভয় ধরনের সফটওয়্যার কর্ম ও নিবন্ধন করা যায়। কপিরাইট আইন ২০০৫ বিধান মতে সফটওয়ার কর্মের মেয়াদ কপিরাইটের মেয়াদ হবে যে বছর কর্মটি প্রথম প্রকাশিত হবে তার পর থেকে পরবর্তী ৬০ বছর পর্যন্ত। সফটওয়ার কর্ম নিবন্ধনের জন্য কপিরাইট অফিস থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করে তিন কপি জমা দিতে হবে। সফটওয়ার কর্ম সিডি আকারে দু’কপি ও প্রিন্ট আকারে দু’কপি  জমা দিতে হয়।

সফটওয়ার প্রতিষ্ঠানের নামেও কপিরাইট নিবন্ধন করা যায়। এ জন্য অফিস থেকে জেনে নিয়ে সমুদয় কাগজপত্রের সঙ্গে কোম্পানির মেমোরেন্ডাম, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেটরে সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হয়। নিয়োগ কর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারী হলে প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত নিয়োগপত্রের  সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। হস্তান্তরসূত্রে মালিক হলে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কপিরাইট হস্তান্তর দলিল জমা দিতে হবে।

৫) সংগীত: সংগীতের গীতিকার ও সুরকার হল আইনত প্রণেতা ও কপিরাইটের মালিক। কণ্ঠশিল্পী, প্রযোজক ও ব্রডকাস্টিং অরগাইনেজেশন হল রিলেটেড রাইটসের অধিকারী। তবে কপিরাইট ও রিলেটেড রাইটস মূলত একই অধিকার বহণ করে। গীতিকার ও সুরকারের কপিরাইট হচ্ছে জীবনকাল ও মৃত্যুর পর ৬০ বছর। কণ্ঠশিল্পীর ক্ষেত্রে মেয়াদ ৫০ বছর। প্রযোজকের ক্ষেত্রে ৬০ বছর এবং ব্রডকাস্টিং অরগানইজেশনর বেলায় ২৫ বছর। কপি রাইট নিবন্ধনের জন্য আবেদনের নিয়ম-কানুন একই রকম।

৬) নাটক ও চলচ্চিত্র: নাটকের প্রণেতা হলেন নাট্যকার বা গ্রন্থকার। তিনি জীবদ্দশায় ও  মৃত্যুর পর ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইটের মালিক। নিবন্ধনের প্রক্রিয়া একই রকম। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে প্রণেতা হলেন প্রযোজক। তিনি কপিরাইটের অধিকারী। চলচ্চিত্রটি প্রথম প্রদর্শিত হবার পর ৬০ বছর পর্যন্ত মালিকানা বহাল থাকে। নিবন্ধনের প্রক্রিয়া একই রকম। তবে চলচ্চিত্রের সেন্সর ছাড়পত্র জমা দিতে হয় এবং চলচ্চিত্রটি সিডি আকারে দু’কপি জমা দিতে হয়।

৭) শিল্পকর্ম: শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত উভয় ক্ষেত্রে কপিরাইট নিবন্ধন করা যায়। শিল্পীর জীবনকাল ও তার মৃত্যুর পর ৬০ বছর পর্যন্ত শিল্পকর্মটির কপিরাইট তার থাকবে। শিল্পকর্ম ও সফটওয়ারের কপিরাইটের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া একই রকম এবং একই ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ফিও একই রকম। তবে আবেদনের সঙ্গে তিন কপি শিল্পকর্ম অবশ্যই পেষ্ট করে দিতে হবে।

 বাংলাদেশ গ্রন্থস্বত্ব আইন/ আইনের ভবিষ্যৎ

কপিরাইট আইন সর্বপ্রথম ১৭০৯ সালে ইংল্যান্ডে তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের কপিরাইট আইনটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত। যা পাকিস্তান কপিরাইট অ্যাক্ট ১৯৬২ সালের সংশোধিত রূপ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর উক্ত কপিরাইট অ্যাক্ট বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যাক্ট নামে পরিচিত হয়। ১৯৭৪ সালে এক অডিন্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে কপিরাইট অফিস স্থাপিত হয়। বর্তমানে শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারের তৃতীয় তলায় কপিরাইট অফিসটি স্থাপিত। একজন রেজিস্ট্রারের অধীনে এটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ কপিরাইট আইনটি ১৬টি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং ৮৪ টি ধারা সন্নিবেশিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার আধুনিকায়নের ফলে সাহিত্যকর্ম, শিল্পকর্ম, সঙ্গীত, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন প্রকার সৃজনশীল কর্মের স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে ২০০০ সালে বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যাক্ট সংশোধন ও সংহতকরণ কল্পে এক অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। যা কপিরাইট অ্যাক্ট ২০০০ নামে অভিহিত। এই আইনে ১৭টি অধ্যায় ও ১০৫টি ধারাসহ বিভিন্ন উপধারায় বিভক্ত।

বাংলাদেশ কপিরাইট আইনের ভবিষ্যৎ বলতে বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স যুগে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে খুবই অল্প সময়ে যে কোন সৃজনশীল কর্ম পাইরেসি করা যায়। বিশেষ করে সাহিত্য কর্ম, শিল্প কর্ম, সঙ্গীত কর্ম, চলচ্চিত্র, কম্পিউটার সফট ওয়ার, প্রোগ্রাম, সিডি রম, ডেটা বেস প্রভৃতি অবাধে অসংখ্য বেআইনিভাবে কপি করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছেন লেখক, শিল্পী, প্রকাশক, গ্রাহক, উৎপাদক ও নির্মাতাগণ। তাদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের গ্রন্থস্বত্ব আইনটি যথেষ্ঠ দুর্বল থাকায় তাদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে সংশোধিত বাংলাদেশ কপিরাইট  অর্ডিন্যান্স জারি করেন। যেখানে মোটামুটি সবার স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০০ সালের সংশোধিত অর্ডিন্যান্স পুনরায় সংশোধন করে কিছু ধারা সংযোজন ও বিয়োজন করে ২০০৫ সালে পুনরায় সংশোধিত আকারে অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়।

কপিরাইট ভঙ্গ করলে প্রতিকার

কেউ যদি কোন লেখক বা প্রণেতার বই বা কোন সৃষ্টিকর্ম নকল করেন, তাহলে দেওয়ানি  ও ফৌজদারি উভয় আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন। দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি আদায় করা এবং ফৌজদারি আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানার শাস্তির বিধান রয়েছে। শাস্তি হিসাবে কপিরাইট ভঙ্গকারির হতে পরে ছয় মাস থেকে চার বছর পর্যন্ত জেল। হতে পারে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে  হতে পারে ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। এ ছাড়া আরও একাধিক বিধান রয়েছে যা মেধাস্বত্ব বা সৃজনশীল সৃষ্টিকে রক্ষা করে প্রকৃত মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে। তবে কপিরাইট আইনে প্রতিকার পেতে হলে মৌলিক সৃষ্টি কর্ম বা মেধা সম্পদটির অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে।

আমরা আশা করব বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যাক্ট ২০০৫ ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও সম্প্রসারিত হয়ে সর্বক্ষেত্রে মৌলিক সৃষ্টি কর্মের মালিকের স্বার্থ সংরক্ষণে এগিয়ে আসবে।


গ্রন্থপঞ্জি :

    • ১। রহমান, মোঃ মিজানুর। গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পরিচিতি-১। তয় সং.। ঢাকাঃ নিউ প্রগতি প্রকাশনী, ২০০৪। ৫৭০পৃ.
    • ২। আহমদ, ডক্টর নাসিরউদ্দীন। সমাজ, গ্রন্থাগার ও যোগাযোগ। ঢাকাঃ বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, ১৯৯৮। ২১০পৃ.
    • ৩। আলী আহাম্মদ, এ.ডি.এম। গ্রন্থাগার প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা। ময়মনসিংহঃ   আজিজ প্রিন্টার্স, ১৯৯৯। ১৯২ পৃ.
    • ৪। সা’দাত আলী, মোহাম্মদ। স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগার পরিচালনা। ঢাকাঃ প্যারাগন পাবলিশার্স, ১৯৯৬। ২৪৮পৃ.
    • ৫। রহমান, মো: মনজুরুর। কপিরাইট কী ও কেন?
    • ৬। প্রথম আলো, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
    • ৭। বাংলাপিডিয়া

সরদার মো. মনজুরুল হক (এলএম-১৬২৫)

  • লাইব্রেরিয়ান
  • খুলনা কলেজ, খুলনা
  • মোবা. ০১৯১৩-৮৯১৬০৬, ০১৭১৪-৫৭১৪৪
  • ইমেইল monzurul1962@gmail.com

 

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close